ঢাকা, শনিবার 19 November 2016 ৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল আমাদের দেশ

আবহমানকাল থেকে এ দেশে হিন্দু-মুসলিমরা পরস্পর ভালোবাসা আর সম্প্রীতির চাদরে বসবাস করে আসছে। এ দেশের সংস্কৃতি হিন্দু-মুসলিমের সমন্বয়ে গড়ে উঠা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিভিন্ন সময় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হলেও এদেশে কখনো কোনো দাঙ্গা হয়নি। এ দেশের হিন্দু-মুসলিমরা একই সময়ে সু-শৃঙ্খল ও শান্তির সাথে ঈদ ও পূজা পালন করে। ধর্ম বিশ্বাস ভিন্ন থাকা সত্ত্বেও এদেশের মুসলিম নারীরা বোরকা ও হিন্দু নারীরা সিঁদুর পরে আড্ডা দিতে দেখা গেলেও কখনো তাদের ধর্ম নিয়ে ঝগড়া করতে দেখা যায় না। অন্য দিকে এ দেশের মৌলভী আর হিন্দু পাদ্রীদের একই সাথে চলা-ফিরা করতে দেখা গেলেও কখনো ধর্ম নিয়ে তাদের বাড়াবাড়ি করতে দেখা যায় না। এদেশের সংস্কৃতি হিন্দু ও মুসলিমের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সংস্কৃতি।  কিন্তু মাঝে-মাঝে এদেশে কিছু কু-চক্রী মহল ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংসের জন্য নানা রকম কূট-কৌশল তৈরি করে থাকে।
কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগরে এক হিন্দু যুবকের কাবা শরীফ নিয়ে আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকে আপলোড করলে অত্র এলাকার মুসলিমরা ক্ষেপে উঠে। পুলিশ, হিন্দু যুবকটিকে গ্রেফতার করে আইসিটি আইনে মামলা করলেও হেফাজত ও আহলুস্ সুন্নাতের কর্মীরা মিছিল করে বিভিন্ন জায়গায় ১০টি মন্দির ও হিন্দুদের শতাধিক ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে পুরো দেশ আজ উত্তাল।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে কখনো অসাম্প্রদায়িক হতে দেয়া যায় না। এদেশ গোটা দুনিয়ার মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তাই সরকারের উচিত, এ সম্মান অক্ষুণœ রাখতে, এদেশের মানুষকে শান্তিতে বসবাসের সুযোগ করে দিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কুচক্রীমহলকে হিন্দু কিংবা মুসলিম হোক অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। আর মুসলমানদের অবশ্যই জানা উচিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগুরু হবে সেখানকার সংখ্যালঘুরা মুসলমানদের জন্য আমানত।”
-রিয়াজ উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ