ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আইন এবং প্রয়োগ দুটোই সমান্তরাল চলতে হবে

জিবলু রহমান : [তিন]
জনস্বার্থে রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি তদারকি সেল গঠন করা দরকার। রায়গুলো যারা মানছে না তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এই সেল গঠন করতে হবে। রায় হওয়ার পর তা সময়ে সময়ে যদি মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তাহলে একদিনে হোক, দু’দিনে হোক, ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়ন হবে। সব সময় মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে যে, এ ব্যাপারে হাইকোর্টের রায় আছে। পাশাপাশি যেসব রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা মিডিয়াকে তুলে ধরতে হবে। সেগুলো আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে তদারকি সেল।
রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তারপরও অনেক সময় প্রশাসনের ফিল্ড লেভেলে যারা কাজ করেন, তাদের নিষ্ক্রিয়তা ও অজ্ঞতা এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের কারণে রায় বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া যেসব ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন অধিকার জড়িত রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অনেক সময় যারা ক্ষমতায় থাকেন, তাদের মনের মতো রায় না হলে তারা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। এতে রায় বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি (চামড়া শিল্প) সরিয়ে নেয়ার রায় থাকলেও তা দীর্ঘ ১৫ বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টের রায়, আদালত অবমাননায় তলব, সরকারের আলটিমেটাম কোনোটাই তোয়াক্কা করছে না ট্যানারি মালিকরা। ১৬ জুন ২০১৬ হাইকোর্ট ১৫৪টি ট্যানারি মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০০১ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ে পরিবেশ অধিদফতরকে, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭-এর বিধি ৭-এর আলোকে ‘লাল’ শ্রেণীভুক্ত (মারাত্মক দূষণকারী) শিল্প কারখানাগুলো যেন ১ বছরের মধ্যে এবং ‘কমলা-ক’ এবং ‘কমলা-খ’ শ্রেণীভুক্ত শিল্প কারখানাগুলো ২ বছরের মধ্যে স্থানান্তর করে রাজধানীর পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়।
জনস্বাস্থ্য ও রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০০৩ সালে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ৮ বছর পর ২০১০ সালে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের প্রকল্প পাস হয়। সরকার হাজারীবাগ থেকে অপেক্ষাকৃত কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা সাভারের হরিণধারায় স্থায়ীভাবে ট্যানারি শিল্প নগরী গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরে হাইকোর্ট থেকে দফায় দফায় সময় নেয় ট্যানারি মালিকরা। এরপর পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ আদালত অবমাননার মামলা করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্ট আদালতের আদেশ অমান্য করায় ট্যানারি মালিকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। আদালত শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। তিনি আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যাও দাখিল করেন।
এরপর ২৩ মার্চ ২০১৬ ১০ ট্যানারি মালিককে হাইকোর্টে তলব করেন। পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল তিন ট্যানারি মালিককে পুলিশেও দেয়া হয়। ৬ জুন ২০১৬ হাইকোর্ট এক আদেশে হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত না হওয়া ট্যানারির তালিকা দাখিলের জন্য শিল্প সচিবকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক শিল্প সচিবের পক্ষে ১৫৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা আদালতে দাখিল করা হয়। ১৬ জুন হাইকোর্ট প্রতিটি ট্যানারিকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। যতদিন ট্যানারি স্থানান্তর না করবে তাদের ততদিন এই জরিমানা গুনতে হবে। চার বছরেরও বেশি সময় আগে রাজধানীর পথচারীদের চলাচল নির্বিঘœ করতে ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা প্রতিনিয়তই লংঘিত হচ্ছে। আর এতে নানা ভোগান্তি, বিড়ম্বনাসহ প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। পৃথক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও ভাষাসৈনিকদের মর্যাদা রক্ষায় ৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি লাইব্রেরি ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশনা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জানার জন্য এই জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের তথ্য সংবলিত গ্রন্থপঞ্জিকা সংরক্ষণ করার নির্দেশনা ছিল ওই রায়ে। এছাড়া রায়ে ভাষাসৈনিকদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন এবং ওই তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ভাষাসৈনিকদের প্রকৃত তালিকা তৈরির নির্দেশনাটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে ২০০৯ সালে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছেন। হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়েছিল, এক বা একাধিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তারিখে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের স্থান, ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের স্থান, ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদে নির্বাচিত সদস্যগণ কর্তৃক শপথ গ্রহণের স্থান, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঐতিহাসিক ভাষণের স্থান, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণের স্থান, ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক প্রদত্ত ভাষণ প্রদানের স্থান,  বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বধ্যভূমি, মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্যদের সমাধিক্ষেত্র অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিদ্যমান সব ধরনের স্থাপনা অপসারণপূর্বক কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত দৃষ্টিনন্দন ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
তবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের আগের কোনো স্থাপনা এবং বিদ্যমান মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত স্মারক, ভাস্কর্য, স্মৃতিফলক বা স্তম্ভ এই আদেশের আওতার বাইরে থাকবে এবং এগুলো ব্যতীত অন্যসব স্থাপনা ব্যতিক্রমহীনভাবে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলোতে মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত সমাধিক্ষেত্র নির্মাণ বা স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন ও সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সৈনিকদের সমাধিগুলোকে মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ সমাধিক্ষেত্র নির্মাণ বা স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন ও সংরক্ষণ করতে হবে রায়ের আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা পর্যায়ে কমিটির মাধ্যমে বধ্যভূমিসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেসব স্মৃতিবিজড়িত স্থান কোন কোন জায়গায় তা আজও নির্দিষ্টকরণও হয়নি। নির্দিষ্টকরণ করার পরের ধাপে আরও অনেক কাজ রয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ : ‘নিরাপদ সড়ক আমাদের অঙ্গীকার’ স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালের ১১ জুন যাত্রা শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ’। উদ্দেশ্য ছিল-সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা।
যানবাহন নেই। নেই পর্যাপ্ত জনবল। নিজস্ব কোনো ভবন নেই। ট্রাফিক সার্জেন্ট পদে অর্ধেক লোক নেই। যে পিকআপগুলো রয়েছে সেগুলোর গতি নেই। সর্বোপরি মামলা বা তদন্ত করার ক্ষমতাও নেই। এমন সব নেই আর নেই করেই কয়েক বছর কাটিয়ে দিল ‘হাইওয়ে পুলিশ’।
মহাসড়কে দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, চোরাচালান, চোরাই পণ্য আটক, মাদকদ্রব্য উদ্ধারসংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধের মামলা দায়ের ও তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে হাইওয়ে পুলিশের খসড়া বিধিমালা করা হয়েছিল। এতে বলা আছে-মহাসড়ক ছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সব সেতু, ফেরি, ফেরিঘাট, বাসস্ট্যান্ড, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রলপাম্প, টোল প্লাজা ও যাত্রী বিরতির স্থান হাইওয়ে পুলিশের আওতায় থাকবে। তবে  সেই খসড়াটি আর চূড়ান্ত হয়নি। কবে হবে তা কেউ জানে না। বিধিমালাটি চূড়ান্ত হলে হাইওয়ে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। আর সুযোগ-সুবিধা পেলে নিরাপদ থাকবে মহাসড়ক।
‘নেই’-এর এমন ঘুরপাক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি পুলিশের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি। দীর্ঘ সময় পেরোলেও সেই উদ্দেশ্য পূরণের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি বিভাগটি। মহাসড়কের দীর্ঘ যানজটের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত টহল দেওয়া ছাড়া কার্যত তাদের আর কোনো কাজ নেই। যানজট নিরসন করা হাইওয়ে পুলিশের অন্যতম কাজ হলেও এ কাজটি করতে তাদের এখনো অপেক্ষায় থাকতে হয় জেলা পুলিশের জন্য। যে কারণে দিন দিন যানজট বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও চোরাচালান বন্ধসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধারেও হাইওয়ে পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি রোধে চরমভাবে ব্যর্থ হলেও নিজেরাই জড়িয়ে পড়েছে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে। (সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ৫ ডিসেম্বর ২০১৪)
জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে রাতে মহাসড়কে দীর্ঘ পথ পরপর হাইওয়ে পুলিশের টহল থাকে। এতে এক স্থানে ডাকাতি হলে খবর পাওয়ার পর পৌঁছতে পৌঁছতে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। ফলে ইচ্ছা থাকলেও হাইওয়ে পুলিশ পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। নসিমন-করিমন-ভটভটির মতো কম গতির যানবাহনও চলছে মহাসড়কে। অবৈধ হাট-বাজার ও স্থাপনার কারণে সরু হয়ে পড়েছে মহাসড়ক। ফলে মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
 হাইওয়ে পুলিশের একজন সদস্যকে গড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি অসম্ভব ব্যাপার। তা ছাড়া এ বিভাগে ট্রাফিক সার্জেন্ট পদে অর্ধেক লোকই নেই। পুলিশ সদর দফতর থেকে পুরনো যানবাহন হাইওয়ে পুলিশকে দেওয়া হয়। এগুলো বছরে তিন-চার বার মেরামত করতে হয়। ওগুলো দিয়ে এখন আর কাজ চলছে না। গতিহীন হয়ে পড়ছে পিকআপগুলো।
স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স  : সরাসরি প্রেসিডেন্টের কমান্ডের অধীনে ন্যস্ত করে ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পি, এস, এফ) গঠন করা হয়, যার প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন ডাইরেক্টর, যিনি তার অধীনস্থ এই বাহিনী পরিচালনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী প্রধানের সমপরিমাণ ক্ষমতার অধিকারী হবেন। এই ফোর্স বা বাহিনী তার কাজ করতে গিয়ে প্যারা মিলিটারি ফোর্স সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও সাহায্য নিতে পারবে। এই বাহিনী প্রধানত গঠন করা হয় দেশের প্রেসিডেন্ট এবং ভিআইপিদের (রাষ্ট্র বা  সরকার প্রধানসহ সরকার যাদের  ভিআইপি বলে ঘোষণা করবে) নিরাপত্তা বিধানের জন্য; কিন্তু দেশের পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠার পর এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে করা হয় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ( এস, এস, এফ)। বর্তমানে এর প্রধান কাজ হলো দেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ও ভিআইপিদের নিরাপত্তা বিধান করা। এই কাজ করতে গিয়ে এস, এস, এফ প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা একজন ভিআইপির নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে গোপন সংবাদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করার অধিকারী হবে ( সেকশন ৮) বর্তমানে এস, এস, এফ পার্লামেন্টারী ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নিয়োজিত রয়েছে।
এসএসএফকে যে ক্ষমতাগুলো দেয়া হয়েছে তার কয়েকটি হচ্ছে- এস, এস, এফ যে কোন ব্যক্তিকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারে, যদি সেই ব্যক্তি উপস্থিতি বা চলাফেরা প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা একজন ভিআইপির নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে বাধা বলে মনে করা হয়। এমন কি সেই ব্যক্তি যদি তাকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে বাধা আরোপ করে, তবে তাকে পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্ক করার পর তার বিরুদ্ধে তার মৃত্যু হতে পারে এমন শক্তিসহ যে কোন শক্তি প্রয়োগ করা যাবে ( সেকশন-৮)।
এই ধরনেরই এক ব্যাপক এবং অপরিমিত ক্ষমতা এসএসএফকে দেয়া হয়েছে, যার কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকারের স্যাংশন ছাড়া কোন আদালতে যাওয়ার সমস্ত পথই রুদ্ধ।
প্রকাশনা রোধে আইন :
ক. সেকশন ৫০৫ক দণ্ডবিধি আইন : ১৯৯১ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সংবাদপত্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অংশগুলো রহিত করা হয় এবং এর কয়েক মাসের মধ্যেই দণ্ডবিধি আইনে ৫০৫ ক ধারা নামে এক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি তার বক্তব্য, লিখিত বা মৌখিক দ্বারা বা কোন চিহ্ন বা কোন দৃশ্যমান বস্তুর দ্বারা বা অন্য কোনভাবে বা কোন প্রকাশনার দ্বারা যদি জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে বা শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করে বা জরুরী সরবরাহ বা কার্যে বাধার সৃষ্টি করে, তবে তাকে সাত বছরের দণ্ডাদেশ দেয়া হবে।
খ. সেকশন ৯৯ক, ফৌজদারি কার্যবিধি আইনঃ সরকার যদি মনে করে যে, কোন প্রকাশনা দেশের নিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ, তবে সে এই সেকশন ৯৯ ক ধারার আওতায় ব্যবস্থা নিয়ে তার প্রকাশনা বন্ধ এবং এর সমস্ত কপি বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
দেশে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন সরকারগুলো পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি গণপরিষদ এবং হিল লিটারেচার ফোরামের প্রকাশিত বেশ কিছু প্রকাশনা এ আইনের বলে নিষিদ্ধ করেছে।
আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বা কাছে রাখার সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)
চিকিৎসকদের সহযোগিতার অভাবে মামলার ধীরগতি : চিকিৎসকদের সহযোগিতার অভাবে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার ২৮টি আদালতে ১২শ’ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। এক হাজার ৯৮৮টি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আদালতে হাজির না হওয়ায় ১২শ’ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ৩৭ বছর ধরে এসব গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে চলেছে ঢাকার ২৮টি নিম্ন আদালত। এ গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চিকিৎসক সাক্ষীরা।
হত্যা মামলা প্রমাণের জন্য চিকিৎসকের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের সাক্ষ্য ছাড়া মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা যায় না। ফলে এ ধরনের মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন না বিচারকরা। মূলত এ কারণে সহস্রাধিক মামলার কার্যক্রম শেষ করা যাচ্ছে না।
হত্যা মামলাগুলোয় চিকিৎসকদের সাক্ষ্য অপরিহার্য। তারা যদি সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আদালতে হাজির না হন, তবে এসব হত্যার বিচার শেষ করা যাবে না। এক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকদের কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নিহতের স্বজনরা।  [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ