ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

লালগ্রহ মঙ্গল জয়

মাহমুদ শরীফ : তিন.
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র তথা বামগকে’র মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রেফিং আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে। বামগকে’র  মহাপরিচালক সাইদ জামান  মালয়েশিয়ান বিমান ফ্লাইট-এম এইচ-৩৭০ নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করবেন। দেশ বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান আর প্রতিবেদকেরা অপেক্ষা করছেন। কয়েকজন সিনিয়র রিপোর্টার তো বলেই বসলেন: ‘হাতি ঘোড়া গেল তল, ছাগল বলে কত জল‘! বিশ্বের সকল প্রযুক্তি যেখানে হার মেনেছে সেখানে আমাদের জামান সাহেব কী তথ্যই বা দিতে পারবেন! একজন তরুণ রিপোর্টার সিনিয়রের কথা কেড়ে নিয়ে মন্তব্য দিলেন, বড় ভাই- পঁচা শামুকেও পা কাটতে পারে! বিজ্ঞানী সাইদ জামানকে আমরা যতই অবমূল্যায়ন করি না কেন, তার মেধার তারিফ করতেই হবে। কেননা, সমুদ্রের নিচ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করার ধারণা তিনিই প্রথম দিয়েছিলেন। এই সাবমেরিনের ফলে তথ্য প্রযুক্তিতে পৃথিবী বর্তমানে একটি গ্লোবাল ভিলেজ। যার সুফল আমরা ভোগ করছি। বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে সম্ভাবনার কথা তিনি বলেছেন, দেখবেন সেটাও একদিন বাস্তব হতে পারে। তাছাড়া তিনি মালয়েশিয়ান বিমান ফ্লাইট - এম এইচ-৩৭০ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলবেন যদি তার কোন প্রমাণ দিতে সক্ষম না হন, তাহলে আজকের প্রোগ্রামটি ব্রটকাস্ট করবো না। সাংবাদিকদের কথোপকথন শেষ না হতেই প্রবেশ করলেন চুল দাড়ি ভ্রু সাদা ৯৮ বছর বয়েসী বাংলাদেশের নাম করা সৌর বিজ্ঞানী বামগকে’র মহাপরিচালক ড. সাইদ জামান।
তিনি চেয়ারে বসতে না বসতেই ক্যামেরাপারসন রিপোর্টাররা তাদের ক্যামেরা তাক করলেন। টিভি চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিলেন। কোন ভূমিকা ছাড়াই  ড. সাইদ জামান কথা শুরু করলেন। তিনি ব্রিফিং করছেন মালয়েশিয়ান বিমান ফ্লাইট-এম এইচ-৩৭০ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে। কিন্তু এরই মাঝে সমস্ত ক্যামেরাম্যানের গুনগুনানী শুরু হয়ে গেল। তারা একে অপরের দিকে চেয়ে থাকছেন। কিছুই বুঝতে পারছেন না তারা। কারণ, একটি ক্যামেরাও অন হচ্ছেনা। তাহলে কি ক্যামেরাগুলো একবারে নষ্ট হয়ে গেল? পকেট থেকে সেল ফোন বের করে অফিসে জানাতে বা আরো একটি ক্যামেরা পাঠানোর জন্য  অনুরোধ করতে চাইলেন তারা। কিন্ত একি! তাদের  সব মোবাইলগুলোর স্ক্রিনে কিছুই নেই।
কোন বাটন কাজ করছেনা। এদিকে ডঃ সাইদ জামান মাইক্রোফোনে কথা বলেই চলেছেন। তার মিষ্টি কথাগুলো রুমের মধ্যে অনুরণিত হচ্ছে। সমস্ত ক্যামেরাম্যানদের ছোটাছুটি আর ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়। একজন সিনিয়র ক্যামেরাম্যান উচ্চস্বরে বলেই উঠলেনঃ স্যার, কথা বন্ধ করুন। আমাদের  ক্যামেরায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বোধ হয় কিছু অঘটন ঘটতে চলেছে। আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না...
ব্রিফিং বন্ধ করলেন ড. সাইদ জামান। ক্যামেরাম্যানদের দিকে জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তাকালেন তিনি। একজন ক্যামেরাম্যান বিষয়টি পরিস্কার করলেন। মুচকি হাসি দিলেন ড. সাইদ জামান।  বললেন, কোন সমস্যা নেই। আবার চেষ্টা করুন। আমি প্রথম থেকেই শুরু করছি।
মিডিয়া সেন্টারের ঠিক মাঝখানে ঝাড়বাতির সাথে লাগানো খয়েরি কালারের একটি বাল্ব এতক্ষণ জ্বলছিল। সেটা বন্ধ হয়ে গেল সবার অজান্তে। এবার ক্যামেরাগুলো ঠিকই কাজ করছে। ফ্লাস ক্যামেরার আলোর ঝলকানি আর ক্লিক ক্লিক শব্দ হলো কিছুক্ষণ। লাইভ সম্প্রচার চলছে ১০/১৫টি চ্যানেলে। ব্রিফ শেষ করলেন ড. সাইদ জামান।
প্রশ্নোত্তর পর্বে  মালয়েশিয়ান বিমান ফ্লাইট- এম এইচ-৩৭০ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে তার বক্তব্য কী ছিল, সেটার বিষয়ে ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগেই তিনি বললেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা! আপনারা সমস্ত ক্যামেরা অফ করে আবার চালু করুন। অফ করা হলো ক্যামেরা। কিন্ত একি আর অন হচ্ছে না। আবার সেই সমস্যা! সকলের অজান্তেই জ্বলে উঠলো খয়েরি কালারের বাল্বটি। ক্যামেরাগুলো আবার ডেড। সেলফোনও অচল। হাতের ডিজিটাল ঘড়িগুলোরও একই দশা।
সাংবাদিকরা আবারো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। একজন সিনিয়র সাংবাদিক ব্যাপারটি যে ড. জামানের কারসাজি তা আন্দাজ করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, জনাব বিজ্ঞানী, ফ্লাইট-এম এইচ-৩৭০ নিখোঁজ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করার আগে অন্য বিষয়ে কিছু জানতে চাই। মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে মুচকি হাসি দিলেন ড. সাইদ জামান।
আমাদের ক্যামেরাগুলো আসলে পাগলামী করলো কেন? এর কি কোন জবাব দিবেন? বললেন সেই সিনিয়র সাংবাদিক।
প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. সাইদ জামান বললেন, ক্যামেরা কাজ না করার বিষয়টি আপনাদের জন্য ছিল একটি সারপ্রাইজ। আমি দীর্ঘ ১৮ বছর চাঁদের আলো থেকে একটি যৌগ পদার্থ সংগ্রহ করেছি। এই পদার্থ দিয়ে তৈরি করেছি একটি বিশেষ বৈদ্যুতিক বাল্ব। সেই ভাল্ব থেকে বিচ্ছুরিত আলোক রশ্মি তার আয়ত্তে থাকা সকল চার্জেবল ব্যাটারির কর্ম ক্ষমতা  আর বৈদ্যুতিক শক্তির কাজ বন্ধ করে দিতে সক্ষম। কিছুক্ষণ পূর্বের ঘটনাটি তারই প্রমাণ। ড. জামান ঝাড়বাতির সাথে ঝুলানো খয়েরি কালারের বাল্বটি হাতের ইঙ্গিতে দেখিয়ে দিলেন। কথা শুনে ও বাতি দেখে  সাংবাদিকদের চোখ ছানাবড়া।
অন্য একজন সাংবাদিক প্রশ্ন ছুড়লেন, এই বাল্বের সাথে ফ্লাইট - এম এইচ-৩৭০  নিখোঁজ হওয়ার সম্পৃক্ততা কোথায়?
উত্তরে ড. জামান সংক্ষেপে বললেন, আমি আগেই বলেছিলাম ফ্লাইট -এম এইচ-৩৭০ ভিন্ন গ্রহে চলে যেতে পারে। সেটা কেউ বিশ্বাস করেনি। আজ প্রমাণ করতে পেরেছি চাঁদের আলোর যৌগ পদার্থ বা তার আলোক রশ্মির কী ক্ষমতা রয়েছে। নিখোঁজ ফ্লাইট - এম এইচ-৩৭০ হয়তো ভিন গ্রহের বাসিন্দারা হাইজ্যাক করেছে এই চাঁদের আলোর যৌগ পদার্থ বা তার আলোক রশ্মি দিয়ে তৈরি কোন এক ক্ষমতাবলে।
চাঁদের আলোর যৌগ পদার্থের আলোক রশ্মির দ্বারা তৈরি বিশেষ কোন কিছু বিমানটির সব চার্জেবল কলকব্জা বিদ্যুৎ শক্তি বিকল করে দিয়েছিল। ফলে বিশ্বের কোন স্যাটেলাইট কিংবা রাডার  বিষয়টি ধরতে পারেনি। তাই আমি আবারো বলতে চাই- কোন ভিন গ্রহের হস্তক্ষেপেই ফ্লাইট-এম এইচ-৩৭০ নিখোঁজ হয়েছে। ড. জামানের যুক্তির উপর আর কোন কথা বলার সাহস দেখালো না কোন সাংবাদিক। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি চেয়ারসহ মিডিয়া কক্ষ ত্যাগ করলেন। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ