ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

শিশির ভেজা হেমন্ত
সৈয়দ মাশহুদুল হক

সারারাত্র শিশির লেগে
দুর্বাঘাসের আগায়
মুক্তোর মতো ঝিলিক খেলে
রোদকে ডেকে জাগায়।

গাঁয়ের মাঠে সরষে ক্ষেতে
হলদে ফুলের খোপায়
পাকাধানের থোকায় থোকায়
শিশির কণা চুপায়।

স্নান সেরে গাছগাছালি
শিশির ভেজা ভোরে
 চেয়ে দেখে ধান ঠোঁটে
পাখিরা যায় উড়ে।
লাউয়ের ডগায় রাত্রিবেলায়
জমে শিশির কণা
সকালবেলা হঠাৎ দেখলে
লাগে সাপের ফণা।

প্রজাপতি ফুলে ফুলে
শিশির বিন্দু চুষে
 যেটুকু তার পানির দরকার
 নেয় সেটুকু শুেেষ।

গাঁয়ের বধূ ধান ভানে
নবান্নেরই কালে
ধাপুসধুপুস শব্দ তালে
পান গুঁজে দুই গালে।
সাতসকালে খেজুর গাছে
রসে ভরা হাঁড়ি
শিশির ভেজা গাছে চড়ে
আনে গাছি পাড়ি।

নতুন ধানের আতপ চালে
 খেজুর রসের ক্ষীর
সবাই বসে খায় একত্রে
কি আনন্দ ঝির।

নতুন ধানের ম ম গন্ধ
মৃদু হাওয়ায় ভাসে
গাঁও-গেরামের ধনী-গরিব
মনের সুখে হাসে।

মানুষ হাসে অভাব যাওয়ায়
দূর্বা পেয়ে শিশির
ধানের দানা খেয়ে হাসে
পাখি কিচিরমিচির।

গাছগাছালি পাতা দোলায়
হাসে ফিসিরফিসির
 রোদের ছোঁয়া পেয়ে হাসে
এই হেমন্তের শিশির।


হেমন্তকাল
সাইদুল ইসলাম

সকাল বেলার রোদ্র পেয়ে
ঘাসের ডগায় চিকচিকিয়ে
মুক্তা-মানিক জ্বলে
ধান কাটার আনন্দতে
কৃষাণ মুখে হাসি ফোটে
সকল দুঃখ ভুলে।

হিম শির শির হাওয়ার সুরে
  গোলা ভরা সোনার ফসল
নবান্ন উৎসব,
শিউলি ফুলের গন্ধে মেতে
 খেজুর রসের মিষ্টি পিঠায়
করছে কলরব।

পাকা ধানের গন্ধে ভেসে ভেসে
শিশির ভেজা সকাল হেসে হেসে
 হেমন্তকাল আসে,
সবুজ ছায়ায় স্নিগ্ধ মায়ায়
 সোনার বাংলাদেশে।


 হেমন্তের দোলা
আবু সাইদ

 সোনা ধানের শিষের প্যাঁচে
ধিতাং ধিতাং চড়ুই নাচে
 দোয়েল এসে শিশ দিয়ে কয়
এই ছবিটা তোল,
লাগলো মনে দোল।
সুয্যি কিরণ সিথান পাতে
শ্যামল গাঁয়ের আঙিনাতে
হর্ষে শিশির ঝিলিক দিতে
উদম যে তার খোল
লাগলো মনে দোল।
 খেমটা বায়ুর দোদুল দোলায়
লাউয়ের ডাঁটা মু-ু ঝোলায়
তিড়িং বিড়িং ডিগবাজিতে
ফড়িং বাজায় ঢোল
লাগলো মনে দোল।

ওই যে দেখো কাস্তে হাতে
কৃষাণ মাঠে চুপড়ি পাতে
ধানের মরাই ভরতে তাদের
আনন্দ সোরগোল
লাগলো মনে দোল।
 
হেমন্ত যে আসলো ফিরে
কৃষাণ পাড়ায় উঠান ঘিরে
নতুন ধানের গন্ধে আকুল
বাংলা মায়ের কোল
লাগলো মনে দোল।


 দো'জাহানের রব
আবুজার গিফারী নাঈম

শিশিরফোটার অশ্রু ঝরে
সবুজঘাসের পরে,
প্রভাত হতেই পাখিরদলে
তাঁর গুণগান করে।

 ভোরবিহানে পাখির কূজন
মিষ্টি লাগে ভারী,
এই দুনিয়ার সকলপ্রাণী
তাসবীহ পড়ে তারই।

সৃষ্টিকুলের জীবন বাঁচে
 সেই মহানের মায়ায়,
তিনিই সকল প্রেমের মালিক
রহম তারই কায়ায়।
গাছ-গাছালি তাঁর প্রেমেতে
করছে কলরব,
তিনিই সকল পালনকারী
 দোজাহানের রব।


ভোমরা
সা'দ সাইফ

ফুলবাগানে ফুলের মেলায়
 ভোমরা কিনছে মধু
উড়ে উড়ে বসছে সব
করছে ফুলে যাদু ।

মধু নিয়ে যাচ্ছে ফিরে
তাদেরই আপন ঘর
স্বপ্ন সেথায় বুনবে সবে
আসুক যত ঝড় !


হেমন্তে
 মো: খলিলুর রহমান

শিশির সিক্ত এ ধরাতে
আসলো হেমন্ত
শিউলি বকুল ফুটলো বনে
জাগলো ঘুমন্ত।

সবুজের বুকে ঝরেছে শিশির
বইছে হিমেল হাওয়া
পিঁজা তুলার শত সাদা মেঘ
সারা আকাশ ছাওয়া ।

মাঠে বাটে কৃষক ভাই
কাটে সোনার ধান
 চোখে ভরা স্বপ্নের হাসি
মুখে মধুর গান।

রাখাল ছেলে চরায় ধেনু
কাটা ধানের ক্ষেতে
দুষ্ট শিশু হাউই ছুটায়
আনন্দেতে মেতে।

পল্লী বধূ তৈরি করে
নবান্নের পিঠা
আহা  কি যে চমৎকার !
 খেতে দারুণ মিঠা।


ইচ্ছেবাড়ির ইচ্ছেগুলো
ইসলাম তরিক

ইচ্ছেবাড়ির ইচ্ছেগুলো হাতছানিতে ডাকে
ইচ্ছে দিয়ে সকাল-সাঁঝে মাতায় যাকে তাকে।
আবদারি সুর শোনায় কানে
আমায় ভাসায় স্বপ্নবাণে
একটু দুখে অভিমানে লুকায় মেঘের ফাঁকে।

ইচ্ছেবাড়ির ইচ্ছেগুলো আমায় দেখে হাসে
আমার সাথে সখ্য গড়ে মনগহিনে ভাসে।
ইচ্ছেগুলো আমার পাঠে
স্বপ্ন বোনে হৃদয় মাঠে
সুযোগ পেলে মুচকি হেসে দাঁড়ায় আমার পাশে।

ইচ্ছেবাড়ির ইচ্ছেগুলো আমায় বাসে ভালো
একটু দুখে কষ্টে পেলে মুখটা করে কালো
কষ্ট পেলে যায় না দেখা
ইচ্ছেগুলো সুখেই লেখা
সুখের মাঝে ইচ্ছেগুলো জ্বালায় তাদের আলো।


হিমেল হাওয়া
মোহাম্মদ আবু বকর

রৌদ্রস্নাত হিমেল হাওয়া,
শীতের সকাল বেলা;
মেঘনা নদী দিব পাড়ি,
দেখবো ঢেউয়ের খেলা।

বাবুল মাঝির ছোট্ট নায়ে
অর্ধেক জুড়ে-ই ছই;
বাকিটুকু রোদ ঝলমল
হোগলা পাটিত বই

ইলিশ মাছে আঁশের ঝিলিক,
দিলো লেজের বাড়ি;
উলানিয়া যাবে নৌকা
 চৌধুরীদের বাড়ি।
আকাশ হাসে, বাতাস চিড়ে
 ঢেউয়ের কলতানে;
অপরূপ এ প্রকৃতিটা
 খোদার সেরা দানে!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ