ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে বিশিষ্টজনরা ইতিবাচক বলেছেন

নাছির উদ্দিন শোয়েব : নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট জনরা। তারা বলেছেন, এটা একটা ভাল দিক। সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে। সার্চ কমিটি গঠন ও আইন না করার আগপর্যন্ত এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ভেবে দেখতে পারে। নির্বাচনকালীন সরকারও গঠন করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আইনের বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় কমিশন গঠন করা হলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। আমাদের সংবিধানেই নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বলা আছে। ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া সার্কভুক্ত সব দেশে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আলাদা আইন আছে। বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করা জরুরি। খালেদা জিয়ার এই রূপরেখা সরকারের নাকচ করার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আরও দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হতে পারে। আবার সংবিধান সংশোধন করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকারের রুপরেখা দিয়েও আগামী জাতীয় নির্বাচন দেয়া যেতে পারে। গতকাল শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের প্রয়োজন আছে কিনা ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শীর্ষক এক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের উপর জনগণের কোন আস্থা নেই। অথচ আমলারাই নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সহায়ক। এ কারণেই নির্বাচনকালীন দলীয় সরকারের পরিবর্তে বিশেষ সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আশা একটাই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করা উচিত। সেই সুদিনের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।
বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, তাদের প্রস্তাবে অনেকগুলো ভালো বিষয় আছে, যা গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জরুরি। আবার এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। প্রবীণ এই আইনজীবী মন্তব্য করেন, ‘আমি রাজনীতি করি না। রাজনৈতিক নেতাও না। আমার এ বিষয়ে মন্তব্য করার তেমন কিছু নেই। তবে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের যে প্রস্তাব খালেদা জিয়া রেখেছেন সেটা ভালো। এদিকে একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি বলব, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ চাই। এ জন্য আলোচনা ও সমঝোতা দরকার। বিএনপি একটি প্রস্তাব দিয়েছে, আদার পার্টি শুড রেসপন্স। সরকারি দলের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বলব, এটা ভালো লক্ষণ। আমি মনে করি, ওবায়দুল কাদের রিজনেবল রাজনীতিবিদ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ইসি গঠন করবেন, তার এ বক্তব্য সত্য। কিন্তু যখন আলোচনা ও সমঝোতার প্রসঙ্গ আসে, তখন অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেসব প্রপোজাল দিয়েছে, এগুলো কমপ্লিট করতে হলে তো আমার জীবদ্দশায় আর হবে না। বিএনপির প্রপোজাল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হলে বহু দিন লাগবে। কথা হচ্ছে, বিএনপি প্রপোজাল দিয়েছে, আওয়ামী লীগের এগিয়ে আসা দরকার। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আরও বলেন, নির্বাচন হতে আরও দুই বছর বাকি আছে। এর মধ্যে আরও অনেক পানি গড়াবে। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তাহলে এ দেশেও অনেক কিছুই হতে পারে। সারা পৃথিবী একটা চেঞ্জের মধ্যে আছে। আমি সাধারণ নাগরিক হিসেবে চাই একটা সুষ্ঠু ইলেকশন হোক। বিএনপি শুড পার্টিসিপেটেড ইন ইলেকশন। ইলেকশন বয়কট করে কোনো লাভ নেই।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ বা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন এটি ইতিবাচক। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়টি আমরাও বলে আসছিলাম। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, শক্তিশালী, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। এখন বিএনপি চেয়ারপার্সনও এই প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু দেখার বিষয় হলো, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে কিনা। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন বলেন, আমাদের সংবিধানেই নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বলা আছে। বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়া সার্কভুক্ত সব দেশেই নির্বাচন কমিশন গঠনের পৃথক আইন আছে। নির্বাচন কমিশন গঠন আইনে তিনটি বিষয় থাকতে হবে। প্রথমত, বাছাই কমিটি, কমিশনারদের ন্যূনতম যোগ্যতা ও কমিশনার বাছাই প্রক্রিয়া। যেমন ধরেন কেউ বিসিএস পরীক্ষা দিলে তাকে ফরম পূরণ করে প্রথমে এমসিকিউ পরীক্ষা, এরপর লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইত্যাদি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়োগ পেতে হয়। আমাদের দেশেও নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন থাকলে সেটি নিয়ে বারবার কথা বলার প্রয়োজন হতো না। আইন অনুযায়ী কমিশন গঠন হতো। ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন আইন না করার কথা বলে যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়িত হলে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই এ বিষয়ে একটি আইন প্রণয়নে সবার জোর দেয়া উচিত। বিষয়টি যেহেতু আমাদের সংবিধানে বলা আছে তাই আইন না করে অন্য কোনো উপায়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে সেই প্রক্রিয়া আবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। আর আইন করলে তখন আইনই বলে দেবে কি প্রক্রিয়ায়, কাদেরকে, কিভাবে কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের সুপারিশ করতে হবে। কাকে কেন সুপারিশ করবে সেটাও বলা থাকবে। তাই আমার মনে হয়, এ বিষয়ে একটি আইন করা জরুরি। আর আইন করার ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত নিতে হবে। যাতে ওই আইন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। 
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে নিবন্ধিত দলগুলো নিয়ে রাষ্ট্রপতির আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্চ কমিটি করা উচিত। তিনি বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) এটার (নির্বাচন কমিশনের) রূপরেখা দিয়েছেন এবং এই রূপরেখাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বর্তমানে নিবন্ধিত দলগুলো নিয়ে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করতে পারেন। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটা সার্চ কমিটি করা উচিত আমি মনে করি। ওভারওল আমি যদি ওনার প্রথম পার্টের প্রস্তাবনা সম্পর্কে বলি, তাহলে আমি এটার মধ্যে এমন কিছু দেখছি না যে এটা একেবারে নাকচ করার মতো।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন, এটাকে আমরা ভালো উদ্যোগ বলতে পারি। খালেদা জিয়া প্রস্তাবে যেসব কথাগুলো বলেছেন তার অনেকগুলোই নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য কিছু রাজনৈতিক দল থেকে আগেই বলা হয়েছে। এখন একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসেবে তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সবাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমি আশা করবো, রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে শক্তিশালী কমিশন গঠন করবে। সার্চ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাছাই কমিটি হতে হবে। কারণ, আমরা আগেরবার দেখেছি দলীয় ব্যক্তিরা সার্চ কমিটির সদস্য হয়েছেন। আর তার মাধ্যমে যে কমিশন গঠিত হয়েছে, তারা আমাদের নির্বাচনি ব্যবস্থাটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আর বিতর্কিত নির্বাচন চান না। তিনি যদি সত্যি বিতর্কিত নির্বাচন না চান, তাহলে একটা কার্যকর, শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করাটা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ হওয়াটা, কারচুপিমুক্ত হওয়াটা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলসহ দেশের সকল নাগরিক সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করে। আর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অন্যতম শর্ত হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। আর এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া যে প্রস্তাবটা দিয়েছেন, সেটা অবশ্যই ইতিবাচক। তিনি তার প্রস্তাবে কমিশন গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি রূপরেখা দিয়েছেন। দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে সরকারের সাড়া দেওয়া উচিত মন্তব্য করে ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ভালো হলে নির্বাচনটা ভালো হয়। আমার মনে হয়, সরকারসহ সব দলকেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়টিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এই প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে তিনি আলোচনার একটি পথ তৈরি করে দিয়েছেন। সরকারের উচিত এটাকে ধরে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া।’
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি প্রস্তাবনা দিয়ে সরকারকে সুবিধা করে দিয়েছে। এটা শক্তিশালী কমিশন গঠনের শুভ সূচনা বলে আমার মনে হয়। এটা ভালো মন্দ যা-ই হোক না কেন, এটা একটা আলোচনার বিষয় হতে পারে। সরকার এটাকে ধরে আলোচনা করতে পারে বা তারা নিজেরাও আলাদা প্রস্তাব দিতে পারে। তাতে করে আলোচনার ক্ষেত্র বেরিয়ে আসতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে সর্বশেষ আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে একতরফাভাবে কিছু করতে গেলে তা আগের মতো বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এজন্য সকলে আলোচনা করে মোটামুটি ঐকমত্যে এসে যদি কিছু একটা করা যায়, তাহলে আগামী নির্বাচনটা ভালো হবে। বিএনপির প্রস্তাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা যেটা বলেছে তার মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি গঠন বাদে অন্যগুলো বিদ্যমান আইনেই রয়েছে। এখন কথা হচ্ছে সার্চ কমিটি কিভাবে করবেন এবং কমিশনকে কতটুকু ক্ষমতা দেবেন, এটাই হচ্ছে আলোচনার বিষয়। আমার মনে হয়, আলোচনা করলে এ বিষয়ে একটি জায়াগায় যাওয়া সম্ভব হবে। সরকারি দলকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলি আর নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা বলি, এটা নিয়ে মাঠে ময়দানে বক্তব্য না দিয়ে কনক্রিট আলোচনা হওয়া দরকার। সেটা নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ্যে হতে পারে, বা গোপনেও হতে পারে। এমনকি তৃতীয় কোনও নিরপেক্ষ ব্যক্তির মধ্যস্থতায়ও হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে বিএনপির মতো বড় দলের কাছ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব আসাটা ইতিবাচক। তবে যোগ্য ও বিতর্কিত নন এমন প্রার্থীসহ কিছু বিষয়ে প্রস্তাবে এসেছে, তা বাছাই করা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে খুব সহজ হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে এত বেশি বিভক্ত যে, এখানে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া সত্যিকার অর্থেই অসম্ভব। তিনি বলেন, বিএনপি যে বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, সেটা কিন্তু সংবিধানে নেই। বর্তমান রকিব উদ্দিন কমিশন গঠনের আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিএনপি হয়তো বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলেছে। এই ধরনের কমিটি গঠন ইতিবাচক হলেও এর অভিজ্ঞতা কিন্তু আমাদের ভালো নয়। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত রকিব উদ্দিন কমিশন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিএনপির আলোচনার প্রস্তাবকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া তার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটা বেশ ভালো। দেশের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি এটা বিবেচনায় নিতে পারেন। আর দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় যেসব প্রস্তাব বা নামগুলো উঠে আসবে, সেখান থেকে একটি শক্তিশালী কমিশন চলে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপর্সন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে নিবন্ধিত সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা প্রস্তাবনা দেন। এদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রস্তাবনায় ‘গ্রহণযোগ্য’ কিছু থাকলে সেটা বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিলেও আলোচনায় বসার প্রস্তাবটি প্রকারান্তরে নাকচ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়ার সাংবাদিক সম্মেলনের পরপরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক প্রতিক্রিয়ায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রস্তাবনায় গ্রহণযোগ্য ও ভালো কিছু থাকলে সেটা অবশ্যই দেখা হবে। খালেদা জিয়ার সংলাপের প্রস্তাবকে হাস্যকর উল্লেখ করে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সংলাপের আহ্বানকে খালেদা জিয়া চরম অসম্মান দেখিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ