ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার সব উপাদান রয়েছে - মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আওয়ামী লীগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগের এই প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আগে থেকে তৈরি ছিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশ রক্ষার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ও দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় নিয়ে আসার সব উপাদান রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। জিয়া নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ও জিয়া আমার চেতনা স্মরণিকা প্রকাশ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে রি-অ্যাকশন দিয়েছেন, তার ভাষাটা দেখবেন- সেই ভাষার মধ্যে বুঝা যায়, সেটা আগে থেকে তৈরি করা। যেমন, বাজেট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা মিছিল বের হয়Ñ  মানি না মানি না, ‘গণবিরোধী বাজেট মানি না’- এরকম ব্যানার তৈরি করা থাকে। ঠিক একইভাবে আগে থেকে তারা তৈরি করে রেখেছিল- এটাকে তারা প্রত্যাখ্যান করবে। সেজন্য বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাব শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমাকে একজন সাংবাদিক বললেন, আওয়ামী লীগ এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে, প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠনের রূপরেখা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা এবং সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কয়েকটি ধারার সংশোধনসহ ১৩টি প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ওই প্রস্তাবের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে ধন্তঃসারশূন্য ও জাতির সাথে তামাশা আখ্যা দিয়ে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নতুন কিছু নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ তার প্রতিক্রিয়া আগেই তৈরি করে রেখেছিল-যে যা-ই বলুক না কেন, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব; আমরা আমাদের যে নীলনকশা, সেই নীলনকশা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। অর্থাৎ কোনোরকম গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টি না করে, স্পেস না দিয়ে, জনগণের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। আমরা জানি যে, নির্বাচন যদি অবাধ হয়, সুষ্ঠু হয়, আমরা ক্ষমতায় আবার ফিরে আসতে পারব না। সেই কারণেই তাদেরকে প্রতিক্রিয়া আগেই তৈরি করে রাখতে হয়েছিল।
সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালীকরণে খালেদা জিয়ার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়া একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যদি আপনারা সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণ চান, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চান, তবে এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আপনাদেরকে বিরোধী দলের সঙ্গে, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামী লীগের ৭ নবেম্বর না মানার পেছনে অনেক কারণ আছে। এই দিনের জন্যই আওয়ামী লীগের সব অন্যায় অত্যাচার জুলুম থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পেয়েছে। একটি স্বাধীন দেশে রক্ষীবাহিনী বানিয়ে বিরোধী দলের ৪০ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে সরকার জনগণের ওপর যে অন্যায় অত্যাচার করছে তার দায়ভারও তাদের নিতে হবে বলেও জানান দেন দুদু।
জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, জিয়া নাগরিক ফোরামের কে জামান, মুসা ফরাজী, বাস্তুহারা দলের শরীফ হাফিজুর রহমান টিটু, কর্মজীবী দলের আলতাফ হোসেন সরদার, দেশনেত্রী ফোরামের কেএম জাহাঙ্গীর আলম ও ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের কাদের সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ