ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তারেক রহমানের ৫১তম জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার :  বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, এই প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের ৫১তম জন্মবার্ষিকী আজ রোববার। ১৯৬৫ সালের ২০ নবেম্বর অথাৎ এইদিনে তিনি  জন্মগ্রহণ করেন।  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। তার ডাক নাম  পিনো।
১/১১ সরকারের সময়ের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানকার সাউথ ওয়েলিংটন ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে। লন্ডনের চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি লন্ডনে সপরিবারে বাস করছেন । তবে তার সঙ্গে আছেন সহধর্মিণী ডা: জুবায়দা রহমান ঝুনু, একমাত্র কন্যা জায়মা রহমান। জন্মদিনে তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।  তিনি প্রবাসী থাকলেও তার প্রাণ পড়ে আছে দেশেই। আর বাংলাদেশের মানুষ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষে ভর্তি হন এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হন মেধাবী ছাত্র তারেক রহমান।
পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু। মাত্র ২২ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে তারেক রহমান বগুড়া জেলার গাবতলী থানা বিএনপি’র সদস্য হন। আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনে যোগ দেয়ার আগেই তারেক রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গি হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও মায়ের পাশাপাশি তারেক রহমানও দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত এ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতির প্রথম সারিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সালে তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ দায়িত্ব পেয়ে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার আলোকে তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠন ছাড়াও জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এখান থেকেই তিনি মাঠ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের মতামত গ্রহণ করেন। এ সভাগুলোতে তারেক মূলত দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন। এরপর ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে এবং চলতি বছর ১৯ মার্চ ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে তারেক রহমান দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তারেকের অভাবনীয় জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে একটি চক্র। ওয়ান ইলেভেনের সরকার তাকে চিরতরে পঙ্গু করার যে গভীর চক্রান্তের নীলনক্সা এঁকেছিল তার নির্মম বলি হন আধুনিক রাজনীতির এই আইডল। ৭ মার্চ, ২০০৭ তারিখে একটি কথিত দুর্নীতি মামলার আসামী হিসেবে তারেক রহমানকে তার ঢাকা ক্যান্টমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আরও ১৩টি দুর্নীতির মামলা করা হয়। ওয়ান ইলেভেনে সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার তাকে গ্রেফতার করে নির্মম নির্যাতন করে। বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে আরো মামলায় জড়িত করে। প্রতিবারের মতো এবারো  এই হিরন্ময় তরুণ নেতার জন্মদিনটি এলেও তা সুদুর প্রবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে পালন করতে হচ্ছে।
মহাসচিবের বাণী :  বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫১তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী   দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।
বাণীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, দেশের উৎপাদন-উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বাপ্নিক তারেক রহমানের ৫১তম জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। তৃণমূল পর্যায়ে তরুণ সমাজকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করে উন্নয়ন ও উৎপাদনের মধ্যে যুক্ত করলে দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে-এই চিন্তার ধারক-বাহক ও বাস্তবায়নকারি হিসেবে তারেক রহমান সারা দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে  ছুটে বেড়িয়েছেন। দেশের জনগোষ্ঠীর  তৃণমূলে দীর্ঘদিনের অচলায়তন কাটিয়ে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুল বলেন, তৃণমূলে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার জন্য তার হাঁস মুরগি-ছাগল বিতরণের কর্মসূচি ছিল যুগান্তকারী-যা আজও দেশবাসী ভুলে যায়নি। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে পারলে তারা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও জাতীয় উন্নয়নে অংশীদার হতে পারবে-এই বিশ্বাসেই তিনি উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে দেশের সকল জনপদে ঘুরে বেড়িয়েছেন। দেশাত্মবোধে জারিত হওয়া অপার সম্ভাবনাময় তারুণ্যদীপ্ত নেতার অভ্যুদয় দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা কখনোই মেনে নিতে পারেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ১/১১-তে মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সরকার তারেক রহমানকে  নিঃশেষ করার জন্য মামলা, শারিরীক নির্যাতন ও ক্রমাগত অপবাদের ধারা বর্ষণ চালায়। কিন্তু তারপরও তাঁকে বিচলিত করা যায়নি, বিপর্যস্ত করা যায়নি তার অটুট মনোবলকে। যাদের আন্দোলনের ফসল ছিল ১/১১ সরকার তারা ক্ষমতায় এসেই তারেকের বিরুদ্ধে নানামূখী চক্রান্তে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যায়। অসংখ্য মামলা দিয়ে তাকে পর্যুদস্ত  করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা   চালায় আওয়ামী সরকার। তবুও তারা তারেক রহমানকে দুর্বল করতে পারেনি। এখনও দুঃশাসনের হুমকি প্রতিদিনই  তার ওপর  বর্ষিত হচ্ছে, তারেক রহমানকে চক্রান্ত জালে আটকাতে চলছে নিরন্তর বহুমুখী ষড়যন্ত্র। ক্ষমতা জবর দখলকারীরা অবিরাম কটূক্তি ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানকে তার বিশ্বাস ও আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন, নিপীড়ন দুঃশাসনে দেশ আজ ধ্বংসের সর্বশেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা আজ হুমকির মুখে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলে আবারও একদলীয় শাসনের নিষ্পেষণে সারাজাতিকে বন্দী করা হয়েছে। এই দুঃসময়ে তারেক রহমানের নিঃশংক   মনোবল ও দৃঢ় নেতৃত্ব   দুঃশাসনের   বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে উজ্জীবিত করছে মির্জা ফখরুল  তার  আশু  সুস্থতা   এবং সুখী ও দীঘর্ জীবন কামনা করছি।
ছেলের জন্মদিনে রাতে কেক কাটলেন মা খালেদা জিয়া
বড় পুত্র তারেক রহমানের ৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটেছেন দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ৫২ পাউন্ডের কেক কেটে ছেলের জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানান হয়েছে। এ উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বহু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সারা দেশে তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন হবে।
বিএনপির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আজ দুপুরে রাজধানীর রমনার ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে বিএনপি। আগামীকাল সোমবার বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় বিএনপির উদ্যোগে তার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া আজ সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচ তলায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ