ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সবাই নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান সেলিনা হায়াৎ আইভী

স্টাফ রিপোর্টার : দলের সব নেতাকর্মীকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা নেই, যেখানে কমবেশি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নেই। সে ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ কিন্তু বাইরে নয়। এ রকম ঘটনা অতীতে ঘটেনি, তা কিন্তু নয়।
আইভী বলেন,১৫ নবেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে হয়তো কোনো অদৃশ্য শক্তির ইশারায় আমার নাম প্রস্তাব করা হয়নি। কিন্তু আমি তো মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছি। সার্বিক বিবেচনায় মনোনয়ন বোর্ড আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তৃণমূলে এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, তৃণমূলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের দেওভোগে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পৈতৃক বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ তিনজনের নাম পাঠানো হয়েছিল কেন্দ্রে। কিন্তু এই তিনজনের কাউকে না দিয়ে কেন্দ্র থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, আওয়ামী লীগে কোনো পক্ষ নেই। পক্ষ একটি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ। স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা আছে। সে কারণে কমবেশি দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। আমি মনে করি, একসঙ্গে সবাই মিলে কাজ করব। যে যেই পক্ষেই থাকুক না কেন, একটি নির্বাচন শুরু হলে তার আগে অনেক কিছু হয়, অনেক কিছু ঘটে। কিন্তু যখন দল সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নেয়।’
আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কাজ করবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘আমি মনে করি আনোয়ার কাকা একজন খাঁটি আওয়ামী লীগ, উনি আমার সঙ্গে কাজ করবেন। অন্যরা যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদেরও স্বাগত জানাই।
আসন্ন সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের কী ভূমিকা হবে, এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, ‘আমি কী করে বলব ওনার কী ভূমিকা হবে। এই প্রশ্ন ওনাকে করেন। তবে আমি মনে করি, উনি যদি দলের অনুগত কর্মী হন, তবে নিশ্চয়ই দলের নির্দেশ মেনে চলবেন।’
শামীম ওসমানের বাড়িতে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, প্রয়োজন মনে হলে যেতে পারি। উনি আমার ভোটার। আমি যদি দলমত নির্বিশেষে বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে যেতে পারি, তাহলে তাঁর বাড়িতে নয় কেন?
আইভী বলেন, আমি গত ১৩ বছরে সিটি করপোরেশনে দলবাজির ঊর্ধ্বে রেখে কাজ করেছি। দলের সঙ্গে আমি ছিলাম এবং আছি। দল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।
পরে মেয়র আইভী আনোয়ার হোসেনের বাসায় যান। তবে আনোয়ার হোসেনসহ তাঁর পরিবারের কেউ এ সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন না।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন,আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এই, যিনি নৌকা পাবেন, তিনিই আমাদের প্রার্থী। আমি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের পক্ষে কাজ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগ বৃহৎ দল। দলে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইতে পারেন। মনোনয়ন তো একজনকেই দিতে হবে। দলে কোন্দল থাকলেও নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে গোপনে যদি কেউ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমুর আলম খন্দকারকে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তৈমুর আলম বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। কিছুদিন আগেও তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। শুক্রবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক বৈঠকে তৈমুর আলমকে দলীয় প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তৈমুর আলম ও নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল শনিবার তৈমুর আলম বলেন, গতকাল(শুক্রবার) রাতের বৈঠকে তাঁকে মেয়র প্রার্থী হতে বলা হয়েছে। তিনি দলের প্রতি অনুগত। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় তাঁর প্রার্থী হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। কেন আগ্রহ নেই, সেটাই চেয়ারপারসনকে বলেছেন। তবে দল যদি তাঁকে প্রার্থী করার ব্যাপারে অনড় থাকে, তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ