ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাস-উগ্রবাদ বিরোধী জনমত সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

গতকাল শনিবার গণভবনে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ছবি বাসস

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে এর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ। কাজেই সন্ত্রাস-উগ্রবাদ মোকাবিলা করার জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে আমি আহ্বান জানাব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং আমাদের প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা রয়েছেন- সবাইকে সম্মিলিতভাবে এই সন্ত্রসবাদ-উগ্রবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে বোঝাতে হবে- সন্ত্রাস-উগ্রবাদের পথ শান্তির পথ না, ইসলামের পথ না, এই পথ কখনও মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী এবং উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
তিনি এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন এবং আরভি মিন সন্ধ্যানী নামক একটি জরিপ জাহাজের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রেলপথ বিষয়ক মন্ত্রী মুজিবুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এমপি, ডা. দিপু মনি এমপি এবং এম এ লতিফ এমপি গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা কল্যাণের পথে থাকতে চাই। জনগণের সার্বিক কল্যাণ করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই। তাই সকলের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে- সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের দেশকে যেন শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সব সময় শান্তির কথাই বলেছে অথচ কিছু লোকের কারণে খুন খারাপি করে এই ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের ধর্মে যে শান্তির কথা বলা রয়েছে, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা. যে শান্তির কথাগুলো বলেছেন- আমি মসজিদের ইমাম সাহেবদের বলব জুমা’র নামাজের খুৎবায় যেন সেগুলো প্রচার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে করে সন্তানরা  খোলামনে তাদের মনের কথাগুলো অভিভাবকদের বলতে পারে।
বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও তিনি তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে নজর দেয়ার এবং কেউ যেন জঙ্গিবাদ বা মাদকের সাখে সম্পৃক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকলে এভাবে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলেই সন্ত্রাস দমনে আমরা যে সফলতা অর্জন করেছি তাকে আরো এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।
আরভি মীন সন্ধানী জাহাজের কার্যক্রম উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সামুদ্রিক জরিপ জাহাজ আরভি ‘মীন সন্ধানী’র কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।
এর মাধ্যমে দেশের সম্প্রসারিত সমুদ্রসীমায় আগামী মাস থেকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জরিপ কাজ শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে গণভবন থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের জনগণের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উন্নয়ন ও সন্ত্রাস বিরোধী মতবিনিময় সভা চলাকালীন চট্টগ্রাম প্রান্তে থাকা আর ভি মীন সন্ধানী জরিপ জাহাজটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবেশি ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারে এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে জীববৈচিত্র্য, বিশেষত সামুদ্রিক মাছ সম্পর্কিত জরিপ পরিচালনায় আরভি মীন সন্ধানী জাহাজটি কাজে লাগানো হবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং মালয়েশীয় সরকার এই জরিপ কাজে কারিগরি সহায়তা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র সম্পদ কাজে লাগানোয় তাঁর ব্লু ইকোনমির উদ্যোগকে তুলে ধরেন এবং দেশের মৎস সম্পদ সম্প্রসারণে জেলেদের জন্য অফ সিজনে বিনামূল্যে খাদ্যপ্রদান, বিকল্প হিসেবে খাচায় মৎস চাষ, মাছের ব্রিডিংকালে মাছ ধরার বন্ধ থাকার সময় বিভিন্ন জেলেদের খাদ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছায়েদুল হক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মকসুদুল হাসান খান চট্টগ্রামের বোর্ড ক্লাব প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতা করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে মালয়েশিয়া থেকে সর্বাধুনিক এই গবেষণা জাহাজটি আনা হয়েছে। মীন সন্ধানী জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৭ দশমিক ৮ মিটার, প্রস্থ ৯ দশমিক ২ মিটার এবং গভীরতা ৩ দশমিক ৩ মিটার। জাহাজটিতে ২৮ জন ক্রু ও গবেষকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন এই জাহাজটি সমুদ্রের পানিতে ৩৬০ ডিগ্রি অবতলে ২০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত জীবিত যেকোন জলজ প্রাণী চিহ্নিত করতে সক্ষম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ