ঢাকা, রোববার 20 November 2016 ৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ১৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিদ্যুৎ আমদানিতে ৫ বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অপার সম্ভাবনাকে সরকার কাজে লাগাচ্ছে না। শুধু আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের (কুইক রেন্টাল) কারণে জ্বালানি খাতে গত ৫ বছরে ৩ হাজার   কোটি টাকার  বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে। তাই  টেকসই উন্নয়ন চিন্তা করতে হলে  সৌর জ্বালানির উপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। টেকসই উন্নয়নে সৌর জ্বালানির বিকল্প নেই।
গতকাল শনিবার জাতীয়  প্রেসক্লাবে “পরিচ্ছন্ন ও  টেকসই বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি (আইইফা)” শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান।
এ সময় অস্ট্রেলিয়ার আইইফার এনার্জি ফিন্যান্স স্টাডিজের পরিচালক টিম বাকলি, এনার্জি ফিন্যান্স এনালিস্ট সিমোন নিকোলাস, এনার্জি ফিন্যান্স এনালিস্ট সারা জানি আহমেদের  নেতৃত্বে প্রণীত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন- বাপার যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল। এসময় বক্তব্য রাখেন,  বাপার সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদরুল ইমাম প্রমুখ।
প্রবন্ধে শরীফ জামিল বলেন, আইইফা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ  সেক্টর নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে বাংলাদেশের নবায়ণযোগ্য জ্বালানি অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি হিসেব মতে গত ৫ বছরে ৩০০০  কোটি টাকার  বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে এ খাতে। শুধু আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণেই এটা করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে, বাংলাদেশে নিরবে সোলার বিপ্লব শুরু হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যেই সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ভারত, দুবাই, মেক্সিকো, চিলি, ব্রাজিল, অস্টেলিয়া ও মরোক্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় বড় সোলার নির্ভর প্রকল্প চালু হয়েছে।  টেকসই উন্নয়ন চিন্তা করতে হলে সৌর জ্বালানির উপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আমরা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আশা করি, বিদ্যুৎখাত উন্নয়নের নামে সরকার কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত  নেবে না। সম্ভাবনাময় জ্বালানি খাতের উপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, তেল গ্যাস কোম্পানির সাথে যুদ্ধ করে সোলার কোম্পানিকে টিকে থাকতে হচ্ছে। ঢাকা শহর বর্জ্ররে শহর, এই বর্জ্যগুলোকে ব্যবহার করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। আমাদের হাতের অনেক সুযোগগুলোকে বোঝা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে যা আছে অন্য দেশে তা নেই, অথচ আমরা সম্ভাবনাগুলোকে কাজে না লাগিয়ে সুন্দরবন বিনাসী ক্ষতিকর প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি।
বদরুল ইমাম বলেন,  তেল, গ্যাস ,কয়লা  থেকে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কম। সরকার এলএনজি বিদ্যুৎ  ক্ষেত্রে  যে পরিমাণ খরচ করছে, সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তা করছে না। যার কারণে  প্রতি বছর বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে না, পাবে উচ্চাভিলাশী  লোকেরা, যা  দেশের জন্য বড় ধরণের অর্থনৈতিক সমস্যা  ডেকে আনবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ