ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কানপুর ট্রেন দুর্ঘটনার করুণ বর্ণনা দিলেন রুবি গুপ্তা-দীপিকা ত্রিপাটি

২০ নবেম্বর, এনডিটিভি : বিয়ের মাত্র দশ দিন বাকি। অথচ গতকাল রোববার কানপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন দু’চোখের সামনে অন্ধকারই দেখছেন ২০ বছরের তরুনী রুবি গুপ্তা। দুর্ঘটনায় পড়া পাটনা-ইন্দোর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে বিয়ে করতে আজমগড় যাচ্ছিলেন রুবি। ১ ডিসেম্বর বিয়ে দিন ঠিক হয়ে আছে। সঙ্গে ছিলেন চার ভাইবোন ও বাবা। দুর্ঘটনার পর সেই বাবার কোনও খোঁজ পাচ্ছেন না। চোখে পানি নিয়ে খুঁজে ফিরছেন বাবাকে।
গতকাল রোববার ভোরে এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত শতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনায় ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুটি বগিতেই বেশির ভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় রুবি নিজেও আহত হয়েছেন। পায়ের হাড় ভেঙে গেছে তার। দুই বোন অর্চনা ও খুশি এবং দুই ভাই অভিষেক ও বিশাল আহত হয়েছেন। ভাঙা পা নিয়েও পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন বাবা রাম প্রসাদ গুপ্তকে। এই অবস্থায় নিজের বিয়ে ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত রুবি। সেই শঙ্কার কথা ফুটে উঠলো তার কথায়। বললেন, আমি বাবাকে খুঁজে পাচ্ছি না। সম্ভাব্য সব জায়গায় আমি খুঁজছি। কয়েকজন আমাকে বললেন হাসপাতাল ও মর্গে খোঁজ নিতে। কিন্তু আমি জানি না কিভাবে কী করব।
দুর্ঘটনায় বিয়ের অলঙ্কার, পোশাকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র হারালেও রুবি চিন্তিত বাবাকে নিয়ে। বলেন, এই অবস্থায় আমার বিয়ে হবে কিনা জানি না। এটা নিয়ে এখন ভাবতেও চাই না। আমি শুধু বাবাকে খুঁজে পেতে চাই। সব জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছি। কিন্তু কি করব বুঝতে পারছি না। এর আগে, পুলিশ ও রেল কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনটি ইনদোর থেকে পটনা যাচ্ছিল। ভোর সোয়া ৩টার দিকে মালাসার ও পুখরাইয়া স্টেশনের মাঝে ট্রেনটির ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনার সময় বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমাচ্ছিলেন। একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সুরেনশ প্রভু দুর্ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টুইটারে তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব পুলিশের ডিআইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে উদ্ধারকাজ তদারকি করার জন্য। দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিগুলোতে আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধার কাজ চলছে। জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ ও উদ্ধারকারী বাহিনীর পাশাপাশি আড়াইশ’ জওয়ানও উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দলজিৎ সিং চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্যাস কার্টারসহ ভারি যন্ত্রপাতি দিয়ে ট্রেনের ধ্বংসস্তূপে আটকেপড়া যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আটকেপড়া যাত্রীদের ঘটনাস্থল থেকে মালাসা স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। আহত যাত্রীদের কানপুর দেহাত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কানপুর রেঞ্জের পুলিশের আইজি জাকি আহমেদ জানান, সবগুলো হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে। ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স আহত যাত্রীদের বহনে কাজ করছে।
ইন্দোর-পাটনা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৪৫ জন আত্মীয়ের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন দীপিকা ত্রিপাটি। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ঘুমিয়েছেন। হঠাৎ করে বিকট শব্দে ঝাঁকি খেলেন তিনি। খেয়াল করলেন তার চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারলেন, তিনি যে বগিতে আছেন তা বাতাসে উড়ছে।
এভাবেই নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন কানপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী দীপিকা। ঘটনাস্থলে মা-বাবার সঙ্গে উপস্থিত থাকা দীপিকা বলেন, ‘কিভাবে জানি আমি বগির উপরে উঠে আসি। তখনই বুঝতে পারি কি ঘটেছে। আমাদের ৫ জন আত্মীয়ের কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। তারা অন্য বগিতে ছিলেন।’
৬০ বছরের বিন্দ কুমার ত্রিপাটিও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুরা প্রথম ও দ্বিতীয় বগিতে ছিলো। তারা গুরুতর আহত হয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ