ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিনাবিচারে বন্দী আরো চারজনকে হাইকোর্টে হাজির করার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : দেড় যুগ ধরে বিনা বিচারে বন্দী আরো চারজনকে হাইকোর্টে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই চার ব্যক্তি হলেন, চাঁন মিয়া, মকবুল, সেন্টু ও বিল্লাল। আগামী ৪ ডিসেম্বর তাদের সশরীরে আদালতে হাজির করতে কাসিমপুর কারাকর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। ওই দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতকে তাদের বিষয়ে তথ্য দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ স্বতপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। একটি বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ এলো।

এরআগে গত ৮ নবেম্বর হাইকোর্ট ১৬ বছর ধরে বিনা বিচারে বন্দী রাজধানীর সূত্রাপুরের মো. শিপনকে জামিন দেন। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। আদালত বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সংবিধান অনুসারে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থ হয়েছেন। এটি সবার জন্যই লজ্জাকর।

জানাগেছে চাঁন মিয়া-গত আঠারো বছর ধরে যার পরিচয় ২৮৩৪। কাশিমপুর কারাগারে বিনা বিচারে ১৯৯৯ সাল থেকে কারাবন্দী আছেন ঢাকার শ্যামপুর থানার একটি হত্যা মামলায়। এই দেড় যুগে চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। 

একই অবস্থা মাদারীপুরের মকবুল হোসেনেরও। কারাগারে ৬৬৬ পরিচয়ধারী মকবুল রাজধানীর উত্তরা থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০০০ সালে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরেও তার মামলা আর আলোর মুখ দেখেনি। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মকবুলের পক্ষে আইনি লড়াই করারও কেউ ছিলো না। 

মতিঝিলের এজিবি কলোনির সেন্টু কামাল গ্রেফতার হন ২০০১ সালে। সর্বশেষ গত মাসেও তাকে হাজির করা হয়েছিলো ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে। কিন্তু এই দীর্ঘ ১৬ বছরে ৫৯ কার্যদিবস কারাগারে হাজির করা হলেও মামলা শেষ হয়নি।

কুমিল্লার বিল্লাল হোসেনেরও মামলা শেষ হয়নি। তেজগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় বিল্লাল হোসেন কাশিমপুর কারাগারে বন্দী রয়েছেন ২০০২ সাল থেকে। তার মামলাটিও বিচারাধীন আছে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ