ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নাইকো মামলায় খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নাইকো মামলা বাতিলের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার এই বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এই আপিলের প্রথম দিনের শুনানি হয়েছে। আজ সোমবারও এ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক এটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। অপরদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর খালেদার করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার জজ আদালত।

গত বছরের ১৮ জুন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নাইকো মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে চলবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে দু’ মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। একই বছরের ৩০ নবেম্বর হাইকোর্টের আদেশে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারিক আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভু টু আপিল করেন খালেদা জিয়া। হাইকোর্টের রায়ে পর ঢাকার বিশেষ জজ-৯ আমিনুল ইসলামের আদালতে মামলার বিচার কাজ ফের মশরু হয়। 

বিগত জরুরি অবস্থার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় নাইকো মামলা দায়ের করে দুদক। পরের বছর ৫ মে খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার বাকি আসামীরা হলেন- চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এতে অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোকে কাজ দেয়ায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

পরে এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট, একই সঙ্গে রুল জারি করা হয়। প্রায় সাত বছর পর চলতি বছর ৭ জানুয়ারি রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাটি সচল করার আবেদন জানায় দুদক। 

নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও একই দিনে আরেকটি মামলা করেছিল দুদক। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাইকোর্ট ওই মামলা বাতিল করে। রায়ে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছিল। বিচারিক আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ‘বেআইনি কাজ’ করেছে উল্লেখ করে উচ্চ আদালত ওই রায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালাও সংশোধন করতে বলেছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ