ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আইন এবং প্রয়োগ দুটোই সমান্তরাল চলতে হবে

জিবলু রহমান : [চার]
তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার জন্য সব সমন জারির আবেদন করেন। পুলিশ কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সব সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন বিচারক। সমন পেয়ে শতকরা ১০ ভাগ চিকিৎসক সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হন। বাকি ৯০ ভাগ সাক্ষী চিকিৎসক আদালতে আসেন না। যে কারণে আদালত এসব সাক্ষীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রথমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ পরোয়ানাগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ পরোয়ানাগুলো তামিল করে না। এতে আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করার সুযোগ পান চিকিৎসকরা। পরে আদালত চিকিৎসক সাক্ষীদের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপরও তারা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আদালতে হাজির হননি, পুলিশও তাদের গ্রেফতার করে আদালতে আনছে না।
পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে সব সাক্ষীর নাম ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ থাকে। কিন্তু যখন সাক্ষী হিসেবে কোনো চিকিৎসকের নাম আসে তখন শুধু তার নাম ও হাসপাতালের নাম উল্লেখ করা হয়। স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ না থাকায় ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট সাক্ষী যে হাসপাতালে চাকরি করতেন সেই ঠিকানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় পরোয়ানা সংক্রান্ত চিঠি তার হাতে পৌঁছে না। দণ্ডবিধির ১৭২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি সমন, নোটিশ এবং আদেশ বিচারালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বা প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য কিংবা দলিল দাখিলের জন্য হয় এবং কোনও ব্যক্তি যদি তা এড়ানোর উদ্দেশ্যে আত্মগোপন করে তবে তিনি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’
সাক্ষ্য আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, রোগ ও মৃত্যুর কারণ, বিষপানের ফলাফল, জখমের ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে চিকিৎসকদের মতামত সব সময় গ্রহণীয়। তবে চিকিৎসকের লিপিবদ্ধ মতামত নয় বরং আদালতে সাক্ষী অধিকতর মূল্যবান। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ১৫ মে ২০১৪)
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিল-২০১৩ : ১ অক্টোবর ২০১৩ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে শাস্তি হিসেবে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিল-২০১৩’ সংসদে পাস হয়। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বিলটি উত্থাপন  করেন।
বিলের ওপর দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। প্রস্তাবিত আইনে প্রতিবন্ধিতার ধরন হিসেবে মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, বাকপ্রতিবন্ধিতা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, সেরিব্রাল পালসি, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতাসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধিতাকে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ নামে একটি কমিটি থাকবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে থাকবে নির্বাহী কমিটি।
বিলে বলা হয়েছে, গণপরিবহনে মোট আসনের পাঁচ ভাগ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে প্রতিবন্ধিতার অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীর ভর্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আইনের আশ্রয় লাভে বাধা দিলে, তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে, তার সম্পদ আত্মসাৎ করলে এবং প্রকাশনা ও গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে।
বিলে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানাযোগ্য অপরাধে দণ্ডিত হবেন।
দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন : ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বিধানের উদ্দেশ্যে দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু আইনটির কার্যকারিতা না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত এটি ‘কাগুজে আইন’ হয়েই পড়ে আছে। আইনটির ৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ধারা ৪ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে দেয়াল লিখন বা পোস্টার লাগানো যাবে না।’ কিন্তু কে শোনে এ কথা? রাজধানী ঢাকার অলি-গলিসহ সারা দেশে এ আইন লঙ্ঘনের হিড়িক চলছে। এই আইন অমান্যের জন্য ধারা ৬ অনুযায়ী অন্যূন পাঁচ (৫) হাজার টাকা এবং অনূর্ধ্ব দশ (১০) হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ, অনাদায়ে অনধিক ১৫ (পনেরো) দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু আইনটির কোনো প্রয়োগ নেই।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ : বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কল্যাণে তৈরি হয়েছে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩।’ এ আইন অনুযায়ী প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। সন্তানকে পিতা-মাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্তান তার পিতা বা মাতাকে বৃদ্ধ নিবাস কিংবা অন্য কোথাও বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। প্রত্যেক সন্তান তার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরিচর্যা করবে। পিতা-মাতা সন্তান হতে পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। কোনো পিতা-মাতা সন্তানদের সঙ্গে বসবাস না করে পৃথকভাবে বসবাস করলে, প্রত্যেক সন্তান তার দৈনন্দিন আয়-রোজগার, বা ক্ষেত্রমত, মাসিক আয় বা বাৎসরিক আয় হতে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ পিতা বা মাতা, বা ক্ষেত্রমতো উভয়কে নিয়মিত প্রদান করবে। পিতা-মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি, নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধ্য থাকবে। এ আইন লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব ১ (এক) লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। কিন্তু আইনটির কোনো প্রয়োগ নেই। আর এই কারণে ‘মা’ দিবসে পত্রিকার পাতায় ভেসে ওঠে কোনো বৃদ্ধ মায়ের করুণ কাহিনী।
ভাড়াটিয়াদের সুবিধার্থে আইন
সরকার ভাড়াটিয়াদের সুবিধার্থে ১৯৯১ সালে তৈরি করেছে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন। এ আইন অনুযায়ী মানসম্মত ভাড়ার অধিক বৃদ্ধি করা হলে ওই অধিক ভাড়া কোনোভাবেই আদায়যোগ্য হবে না। মানসম্মত ভাড়া অপেক্ষা অধিক হারে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়ে থাকলে এবং এই মর্মে কোনো চুক্তি থাকলেও তা কার্যকর হবে না। ভাড়া দেয়া বা ভাড়ার মেয়াদ বৃদ্ধি করার কারণে কোনো ব্যক্তি ভাড়ার অতিরিক্তি প্রিমিয়াম, সালামি, জামানত বা অনুরূপ কোনো অর্থ দাবি বা গ্রহণ করতে পারবে না। কোনো বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াকে ভাড়া গ্রহণের লিখিত রসিদ প্রদানে বাধ্য থাকবেন। এ রসিদ বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করে ভাড়াটিয়াকে প্রদান করতে হবে। বাড়ির মালিক ভাড়ার রশিদের একটি চেকমুড়ি সংরক্ষণ করবেন। এ রসিদ সম্পন্ন করার দায়-দায়িত্ব বাড়িওয়ালার। রসিদ প্রদানে ব্যর্থ হলে ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়াও আইনে এক মাসের ভাড়ার বেশি অগ্রিম হিসেবে না নেয়ার বিধানসহ বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনটির প্রয়োগ নেই। এমন কি সরকার আইনটি কার্যকর করতে কোনো বিধিও প্রণয়ন করেনি। অবশেষে ২০০৯ সালে আইনটি কার্যকর করার দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। এ রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে।
খাদ্য আইন : দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন তৈরি হয়েছে ২০১৩ সালে। কিন্তু আইনটির কোনো প্রয়োগ নেই। আইনটির ২৩ ধারায় বলা হয়েছে, মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অথবা বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী রাসায়নিক দ্রব্য বা উহার উপাদান বা বস্তু যেমন-ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লামেট, কীটনাশক বা বালাইনাশক যেমন-ডিডিটি, পিসিবি তৈল, ইত্যাদি, খাদ্যের রঞ্জক বা সুগন্ধি, আকর্ষণ সৃষ্টি করুক বা না করুক, বা অন্য কোনো বিষাক্ত সংযোজন দ্রব্য খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণে ব্যবহার করা যাবে না। অথবা উক্তরূপ দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ মজুদ, বিপণন বা বিক্রয় করা যাবে না। কিন্তু বাজারের অধিকাংশ ফল, সবজি, মাছ ও মাংসে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো থাকে। সম্প্রতি বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে এক সরকারি পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ খাদ্য বিষাক্ত। প্রতিদিনই খেতে হচ্ছে বিষাক্ত দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্য। কিন্তু আইনের আওতায় প্রতিকার দেয়ার ও চাওয়ার কোনো লোক নেই।
মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) নিয়ন্ত্রণে ২০১৩ সালে আইন করেছে সরকার। এই আইনের ৪ ধরায় বলা হয়েছে, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য বা তা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির আমদানি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণের উদ্দেশ্যে, কোনো বিজ্ঞাপন মুদ্রণ, প্রদর্শন, প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। এ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তিন থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু চোখ খুললেই টিভি পর্দায় দেখা যায় ‘জুনিয়র হরলিকস খাচ্ছে, দেহ ও মন তরতর করে বেড়ে উঠছে’ শীর্ষক বিজ্ঞাপনসহ শিশু খাদ্যের চমকপ্রদ সব বিজ্ঞাপন।
ভেজাল মিষ্টি বিক্রেতাদের শাস্তি দিচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২২ জুন ২০১৫ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অধিকতর সংশোধনের জন্য একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইনটি সংশোধিত হলে এর বৈশিষ্ট্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বর্তমান আইনে বিধান রয়েছে, অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঘটতে বা উন্মোচিত হতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তকে করতে হবে দোষ স্বীকার। শেষোক্ত বিধানটি সংশোধন করে প্রস্তাব করা হয়েছে অবস্থা বিচারে জোরালো প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ইত্যাদি বিবেচনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার না করলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডবিধান করতে পারবেন। মন্ত্রিসভায় গৃহীত এ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মতামত এসেছে। বিশেষ করে দোষ স্বীকার না করলেও আত্মপক্ষ সমর্থন ও আইনজীবীর সহায়তা লাভের অধিকার থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা হবে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। অবশ্য এর ভিন্নমতও আছে।
জামিনদারদের বিচার : মুচলেকার (বন্ড) বদৌলতে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ হতে কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকার সুযোগের অর্থই হলো জামিন। আইনগতভাবে জামিন শব্দের মৌলিক ধারণা হলো একজন ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজত হতে মুক্তি দিয়ে জামিনদারদের হাতে আদালতের পক্ষে অর্পণ করা। জামিনদার ব্যক্তি আদালতের নির্দেশমত আদালতের প্রয়োজনানুযায়ী জামিনে মুক্ত থাকা ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার অঙ্গীকার প্রদান করেন। জামিনে থাকা ব্যক্তি পলাতক হলে জামিনদার মুচলেকায় উল্লিখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধে বাধ্য। অন্যথায় ফৌজদারী কার্য বিধির ৫১৪ ধারামতে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রচলিত ফৌজদারী কার্য বিধির ৩৯ অধ্যায়ের ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮ ধারায় আদালতের জামিনের ক্ষমতা বিদ্যমান। আগাম জামিনে দায়রা জজ ও হাইকোর্ট বিভাগ ৪৯৮ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। আপিল আদালতের জামিন ক্ষমতা ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় বিধৃত। উচ্চ আদালত রিভিশনাল ক্ষমতার সাথে জামিনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেমন আদালতের ক্ষমতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে  কোন মামলার মাধ্যমে আসামীকে হাজতে দেয়া হলে আইনত মামলাটি বাতিলযোগ্য এ প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট বিভাগের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ফৌজদারী কার্য বিধির ৫৬১ এ ধারার আশ্রয় নেয়া যায়। সে সঙ্গে জামিনও চাওয়া যায়। প্রচলিত আইনের ভাষায় এই আকারের চ্যালেঞ্জকে কোয়াশমেন্ট বলা হয়। দণ্ড বিধিতে বিভিন্ন উপধারা বাদে ৫১১ টি মূল ধারা বিদ্যমান। এই ধারাসমূহকে ফৌজদারী কার্যবিধির আলোকে গুরুত্বানুযায়ী জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য ধারা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই চিহ্নিতকরণ ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিল নামে পরিচিত। সাধারণভাবে জামিন অযোগ্য ধারার অভিযোগের আসামী জামিন অর্জনের হকদার নয়। অন্যদিকে জামিনযোগ্য ধারার অভিযোগের আসামীর জামিন অর্জন অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ