ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ড. রাধা বিনোদ পাল যিনি জাপানিদের কাছে দেবতুল্য

সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলা। এরই একটি অবহেলিত উপজেলা  মিরপুর। যেখানে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক ড. রাধাবিনোদ পাল, কবি দাঁদ আলী, নীল বিদ্রোহী প্যারী সুন্দরী ও ইতিহাসবিদ অক্ষয় কুমার মৈত্রের মত অসংখ্য জ্ঞানী ও গুনি ব্যাক্তির জন্মভূমি। যা কালের সাক্ষী হিসেবে এখনও তাঁদের স্মৃতি চিহ্নের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এছাড়াও  ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের  অন্যতম নায়ক  ক্ষুদিরামের মামার বাড়ি ছিল উপজেলার আমলা ইউনিয়ানের নিভৃত পল্লী অঞ্জনগাছিতে। সেখানে তার বহুবার পদচারনা ঘটেছিল। কালের আবর্তে অনেক কিছু ঢাকা পড়ে গেছে। যার ফলে একবিংশ শতাব্দির গোড়ার দিক হতে অত্র অঞ্চলটি সন্ত্রাস কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হলেও কিছু ব্যক্তিত্ব তাদের  মহত্বের মধ্যে চির অ¤লান হয়ে আছেন। এমনি একজন হচ্ছেন মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের অখ্যাত গ্রাম কাকিলাদহের বর্তমানে জোয়ার্দ্দার পাড়ার (জর্জ পাড়া) বিপীণ বিহারী পালের ছেলে ড. রাধা বিনোদ পাল। ১৮৮৬ সালে দৌলতপুর উপজেলার মথুুরাপুর ইউনিয়নের সিএস নং-২৫ মৌজা সলিমপুরের অধীন তারাগুনিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান  ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের গোলাম রহমান পন্ডিতের কাছে তার শিক্ষা জীবনের হাতে খড়ি। কুষ্টিয়া হাইস্কুলে তিনি মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯২০ সালে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও ১৯২৫ সালে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৯-২০ সালে ময়মনসিংহের আনন্দমহন কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তিনি কর্ম জীবন শুর করেন। ১৯২৫-১৯৩০ এবং ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠাকুর আইনে অধ্যাপনা  করেন। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকের্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৪১-৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৪৩-৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশাল মাপের প্রতিভাবান ব্যাক্তিত্ব ড.রাধা বিনোদ পালের সুখ্যাতি শুধু পাক ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শেষের দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাল ১৯৪৬-৪৮ সাল পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিও মহানগরীতে জাপানকে যুদ্ধাপরাধী  সাব্যস্ত  করেও বিশেষ আন্তর্জাতিক আদালতের যে বিচার কাজ শুর করা হয়  তিনি ছিলেন তার অন্যতম সদস্য। তিনি তার ১২০০ পৃষ্ঠার যৌক্তিক  রায় দিয়ে জাপান কে যূদ্ধাপরাধ থেকে মুক্ত করেন । তার এ রায় বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক রায়ের মর্যাদা পায়। এরপর তিনি জাপান বন্ধু ভারতীয় বলে খ্যাতি অর্জন করেন। খ্যাতিমান এই মনিষী রাধা বিনোদ পাল ১৯৬৭ সালের ১০ জানুয়ারি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এখানেই তার বংশোদ্ভূতরা বসবাস করছেন। জাপানিদের কাছে দেবতুল্য সেই ড. রাধা  বিনোদ পালের ডকুমেন্টরী তৈরির অন্বেষায় কাকিলাদহে তার পিতৃলয়ে  জাপানের এনএইচকে টেলিভিশনের পরিচালক তরতাকাজি, প্রকৌশলী দাই সহাকুরা, টেকনিশিয়ান সিংজিজু সিমেন্ট এসেছিলেন। ইতিপূর্বেও জাপান সরকারের প্রতিনিধিরা মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের ড. রাধা বিনোদ পালের স্মৃতি বিজড়িত পিতৃালয়ে হাসপাতালসহ একাধিক স্থাপনাটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের হীন স্বার্থের পরিপন্থি হওয়ায় সেগুলো সম্ভবপর হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ