ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হলুদ সাংবাদিকতা ও ফেসবুকের অপব্যবহার ॥ আইনের প্রয়োগ নেই

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: বর্তমান সময়ের শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এ মাধ্যমটি লাখ লাখ মানুষের ভাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে। তার পাশাপাশি এ মাধ্যমটি ব্যবহৃত হচ্ছে কিছু দুষ্ট লোকের  অন্যায় অপকর্মেও। এমনি এক ঘটনার শিকার মুক্ষপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে এবারের জেএসসি পরীক্ষার্থী আনিজুল ইসলাম।
বিদ্যালয় ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়-ত্রিশাল উপজেলার মক্ষুপুর উচ্চ বিদ্যালয় জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ফেসবুক ও অনলাইন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করে বাহির থেকে একটি কুচকানো কাগজ এনে পরীক্ষা দেয়ার সময় জেএসসি পরীক্ষার্থী  আনিজুল ইসলামের কাছে গিয়ে কাগজটি তার সামনে খাতার উপর বেঞ্চে রেখে ছবি তোলে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। ছবিতে দেখা যায় ছেলেটি নকল করছে আর গর্ব করে ছবি তুলছে হাসি মুখে। এরকম একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর সচেতন মহল ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মাঝে এর নীতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কোমলমতি ছেলেটি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের লোকজন তাকে কেন এই ঘটনা ঘটলো এই বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করলে এক পর্যায়ে ছেলেটি সিদ্ধান্ত নেয় আর পরীক্ষা দিবেনা আর লেখাপড়াও করবেনা।
আনিজুলের হল পরিদর্শনকারী শিক্ষক আব্দুছ ছাত্তার জানান-হঠাৎ দুজন যুবক অনলাইন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাহির থেকে একটি কাগজ তুলে ভিতরে প্রবেশ করে আনিজুলের বেঞ্চের সামনে গিয়ে ছবি তুলতে দেখা যায়। এবং তারা রুমের ভিতর প্রায় ঘন্টা খানেক অবস্থান করে মোবাইলে কথা বলা সহ হট্টগোল শুরু করে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বিঘœ ঘটে তাদেরকে এ ব্যাপারে বললে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবে বলে হুমকি দেয়।
ছাত্র যখন বলল এ কাগজ রেখে আমার ছবি তুলেছে তখন কাগজ মিলিয়ে দেখি আবোল তাবোল কি লেখা। ঐ দিন গনিত পরীক্ষা থাকলেও গনিতের কিছুই লেখা ছিলনা ঐ কাগজে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কামাল পাশা জানান- আমার কেন্দ্রে কোন পরীক্ষায় নকল হয় নাই। দুটো ছেলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বারিন্দা হতে একটি কুচকানো কাগজ তুলে নিয়ে হলে ঢুকে  পিছনের বেঞ্চে থাকা ছেলেটার সামনের বেঞ্চে কাগজ রেখে ছবি তুলে নেয়।
মুক্ষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন,এই ছেলেটি আমার স্কুলের মেধাবী ছাত্র। সেদিন অংক পরীক্ষা চলার সময়ে ফেসবুক সেলিব্রিটি সাজার জন্য এবং প্রশাসনের বাহবা কুড়ানোর জন্য অনলাইন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি পরীক্ষা হলে অনধিকার প্রবেশ করে বাহির থেকে একটি কুচকানো কাগজ এনে পরীক্ষা দেয়ার সময় জেএসসি পরীক্ষার্থী  আনিজুল ইসলামের কাছে গিয়ে কাগজটি বেঞ্চে রেখে ছবি তোলে এভাবে কাগজ রেখে মিথ্যে ছবি দিয়ে ফেসবুকে ছবি দেয়ায় ছেলেটা অমানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এখন তার ভবিষ্যত নিয়ে আমরা চিন্তিত।
এব্যাপারে  ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন-একটি ছোট বাচ্চার এরকম ছবি ফেসবুকে ও অনলাইনে দেয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়।
এটি একটি গর্হিত কাজ,যারা এইটি করেছেন তারা শুধুই তাদের বিকৃত মানসিকতারই পরিচয় দিয়েছেন এধরনের ঘটনা কারো কাম্য নয়।
পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন, সাংবাদিক পরিচয়ে যারা হলে ঢুকেছিল তাদের কেন তদারকিতে রাখা হল না। হলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা কেন তাদের ব্যাপারে বেখেয়াল থাকলেন? সাংবাদিক হলেই কি তারা আইনের উর্দ্ধৈ?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ