ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ১২৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস : খুলনা জেলার ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবন, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান, ভুমিকম্পের আতংক নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্লাস করছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ আর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, খুলনা জেলায় প্রাথমিক শিক্ষাদানকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক হাজার ২০২। এর মধ্যে ফুলতলা ছাড়া মহানগরীসহ অন্য আট উপজেলার সরকারি ও জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ৫১। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে  খোলা আকাশের নিচে, ও ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২৪টি। এর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে হাজী আব্দুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ন্যাশনাল বয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল গণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পলী মঙ্গল রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খান জাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোথাও কোথাও পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য স্থানে টিনশেড তৈরি করে, আবার কোথাও খোলা আকাশের নিচে এবং কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ  বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলের বারান্দায় পাঠদান করানো হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাশের অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মন্দিরে অস্থায়ীভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গোবরচাকা রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমানা রশিদ রুমা বলেন, আমাদের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয় বাচ্চাদের ক্লাস করাতে ভয় হয় কখন ভেঙ্গে পড়ে। স্কুলটির তিন ও চার তলা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। নীচতলা ও দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল রয়েছে। বাচ্চাদের কথা  না হয় বাদই দিলাম আমারাই ভয়ে থাকি আর এ কারনে কখন ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পরে সেই ভয়ে আমাদের অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে পাঠায় না।
এত বড় একটি ভবনে গতবছর আমাদের মাত্র এক লাখ ৫০ হাজার টাকা শিক্ষা অফিস  অনুদান প্রদান করেন। যা দিয়ে এত বড় ভবন সংস্কার করা সম্ভব নয় বলে সে টাকা আমরা ফেরৎ দিয়েছি। এভাবেই প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে স্কুলে আসছে শিক্ষার্থীরা।
নবীনগরের বাসিন্দা অভিভাবক লিটন জানান, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পারভিন জাহান বলেন, আমরা অনেক স্কুলের নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। পর্যায়ক্রমে তালিকা অনুযায়ী ভবন পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ