ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গত দু’মাসে খুলনায় শতাধিক দুর্ঘটনায় নিহত ২৪

খুলনা অফিস : খুলনায় গত দু’মাসে ছোট-বড় শতাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ডুমুরিয়ায় একই স্থানে মা ও শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। মহানগরীর জোড়াগেটসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় এর মধ্যে নিহত হয়েছে আরও ২০ জন। এ সব দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা বেসরকারি সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) এর জরিপ অনুযায়ী সড়ক পথে এসব দুর্ঘটনার বড় একটি অংশ হয়েছে চালকের অসতর্কতায়। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে চালকরা যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।
মহানগর ট্রাফিক পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, প্রায় ২০ ভাগ দুর্ঘটনার কারণ চলন্ত মোটরসাইকেল ও অন্য যানবাহনে চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার। গত এক মাসে খুলনা মহানগরীতে ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে বিভিন্ন যানবাহনে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ জরিমানা হয়েছে চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার ও অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে।
বেসরকারি সংগঠন নিসচা’র জরিপে দেখা গেছে, সাধারণত হাইওয়েতে চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলার এই ধরনের প্রবণতা দেখা যায় বেশি। এর মধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক, খুলনা-যশোর রোড, খুলনা-মাওয়া রোডের কাটাখালি, ফকিরহাট, মোল্লাহাট অংশ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া শহরের মধ্যেও চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অটোরিক্সার চালককে ফোনালাপ করতে দেখা যায়।
খুলনার পাট ব্যবসায়ী সাঈদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, শহরের অপ্রতুল সড়কে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যান চলাচল, অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা ও চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অনেক সময় মোটরসাইকেল চালককে ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। এতে ওই চালকের পাশাপাশি পথচারীদের জীবনও বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা বন্ধে ট্রাফিক আইন মেনে চলা ও চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের বিকল্প নেই। পরিবহন চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শহরে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় বিপণি বিতান ও মার্কেটগুলোর সামনে যেখানে সেখানে পার্কিং করা হচ্ছে। এ কারণেও বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার মাত্রা।
সূত্রটি বলছে, শহরে রাস্তা অনুপাতে কী পরিমাণ গাড়ি অনুমোদন দেয়া যাবে-এ ব্যাপারে সরকারের কোন পরিকল্পনা নেই। গাড়ি নামালেই মিলছে অনুমোদন। চালানো যাচ্ছে নিজের ইচ্ছেমতো। পরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিকল্প নেই।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বিপ্লব জানান, গত ১৮ অক্টোবর খুলনা সার্কিট হাউসে ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিতে দেয়া হয়। ওই সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভা থেকে শিগগিরই এ ব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়।
ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সতর্ক করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ ও কাউন্সিলিং করানো হচ্ছে। আগামী ১৯ নবেম্বর খুলনা আন্তঃজেলা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে এ ব্যাপারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।
খুলনা মেট্রোপলিটন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তারেক আল মেহেদী জানান, চালকদের সতর্ক করতে পুলিশের পক্ষ থেকেও নিয়মিত সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এতে কাজ না হলে চালকদের ট্রাফিক আইনে মামলা ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাঝে-মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও দুর্ঘটনা এড়াতে হলে পুলিশ, বিআরটিএ, চালক, মালিক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ