ঢাকা, সোমবার 21 November 2016 ৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভোলাহাটে এক স্কুল শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে জমিজমা হাতিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার বড় জামবাড়ীয়া গ্রামে এক স্কুল শিক্ষকের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু নিয়ে এলকায় তোলপাড়ের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪নং জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের বড় জামবাড়ীয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে সাবেক স্কুল শিক্ষক মুসলেম উদ্দিন(৬৯) নিঃসন্তান থাকায় তাঁর স্ত্রী দেলরৌশন(৫২) ও স্ত্রীর বোনের মেয়ে রিপা(৩৫), মেয়ে জামাই মাসুদ(৩৮)সহ আরো দু’একজন যোগসাজশ করে তার ৪ বিঘা জমি, বাগান ও বসতবাড়িসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তাদের নিজ নামে লিখে নিয়ে পৈতৃক ভিটামাটি থেকে তাঁকে কৌশলে নিজগ্রাম আন্দীপুরে ৭/৮মাস পূর্বে নিয়ে যায় এবং সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে। কিছুদিন পর ঐ বাড়ি মুসলেম উদ্দিনের নামে না করে তারা তাদের নিজ নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয়। বিষয়টি মুসলেম উদ্দিন মাস্টার জানতে পারলে উভয়ের মধ্যে লাগে দ্বন্দ্ব। এ ছাড়াও প্রায় আড়াই বিঘা আমের বাগান জমিসহ তাদের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ঐ গ্রামের মানুষ দফায় দফায় শালিশ করেন। কিন্তু উল্লেখিত ব্যক্তিরা শালিসে মুসলিম উদ্দিনের নামে ১০কাঠা জমি ফেরত দেয়ার কথা বলে বিষয়টি দফারফা হয়। কিন্তু ঐ জমি এখন পর্যন্ত ফেরত দিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। এরপর থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা সাবেক এ শিক্ষকের উপর শুরু করে নানা অত্যাচার। গত ১৬ নবেম্বর এ শিক্ষক জামবাড়ীয়া বাজার থেকে সুস্থ অবস্থায় সন্ধ্যায় বাড়ি গেলে হঠাৎ রাত ৯টার সময় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সুস্থ মানুষের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের দানা বাঁধে। স্থানীয় ব্যক্তিরা মরদেহের গলায় ও বুকে আঘাতের দাগ দেখে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন। এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র জানান, এ মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, তাঁকে সুকৗশলে হত্যা করা হয়েছ্।ে তার মৃত্যুকালে ষড়যন্ত্রকারী স্ত্রী পাশে ছিলো না বলে তার স্ত্রী স্বীকার করেন। এদিকে মুসলেমের মৃত্যুর পর উল্লেখিত ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তিগণ পলাতক রয়েছেন। এতে করে মৃত্যুর রহস্যটি আরো ঘনীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মহসীন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি আমলে না নিযে উল্টো অভিযোগ দেয়ার কথা বলে দায় মুক্তির চেষ্টা করেন। তার আত্মীয়-স্বজনেরা এলাকার বাইরে থাকায় তড়িঘড়ি করে ঐ এলাকার আল-ইমাম মাস্টার দ্রুত মৃতদেহের জানাজা সম্পন্ন করার চেষ্টা করে। কিন্তু মৃতের স্বজনদের দাবির মুখে দাফন করতে পারেনি। ঐদিন মাগরেবের সময় দাফন করা হয়। তারপর থেকে অভিযুক্ত সকলেই ঐস্থান ত্যাগ করে চলে যান। তাঁর জামাই, স্ত্রী ও পালিত মেয়ে কেউ সেখানে ছিলেন না। এ ঘটনায় মৃতের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রামবাসী এ রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ