ঢাকা, মঙ্গলবার 22 November 2016 ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পৃথিবীকে যারা নরকে পরিণত করছে

কথা ও কাজে গড়মিলের এক পৃথিবীতে এখন আমাদের বসবাস। এই পৃথিবীতে ন্যায়ের শাসন নেই, তবে কথামালার শাসন আছে। অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নিপীড়নে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। এসব যারা সৃষ্টি করছেন, তারাই আবার শান্তির জপমালা আউড়ে পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছেন। পৃথিবীটা এখন যেন বিশ্বনেতাদের রঙ্গমঞ্চে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্তমান সভ্যতা শঠতা, প্রতারণা, নিষ্ঠুরতা ও নীতিহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মানবতাবিরোধী এমন সভ্যতায় সাধারণ মানুষের, নীতিবান মানুষের জীবনযাপন যে যাতনাক্লিষ্ট হয়ে উঠবে তা সহজেই উপলব্ধি করা যায়।
বর্তমান সময়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে যারা সবচেয়ে কষ্টকর ও বিপর্যয়ের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় মিয়ানমার ও ফিলিস্তিনের মুসলমানদের কথা। মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বর্তমান অবস্থাকে নরকের সঙ্গে তুলনা করেছেন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম। তিনি লন্ডন থেকে বিবিসিকে বলেন, সেখানে এখন অত্যাচার চলছে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। অক্টোবরের ৯ তারিখ থেকে কমপক্ষে ৩৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বহু নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ। আরেক দুর্বিসহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে ইসরাইল ফিলিস্তিনে। ফিলিস্তিনে এখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে ফিলিস্তিনীদের। ইসরাইলের হাত থেকে শিশুদেরও নিস্তার নেই। ইহুদীবাদী ইসরাইলের কারাগারে এখন অন্তত ৩৫০ ফিলিস্তিনী শিশু বন্দি অবস্থায় রয়েছে। গত রোববার ইসরাইলীরা যখন বিশ্ব শিশু দিবস উদযাপন করছিল তখন তাদেরই কারাগারে দুর্বিষহ সময় পার করছিল শত শত ফিলিস্তিনী শিশু। প্যালিস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব গত শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০১৫ সালে কুদস ইন্তিফাদা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দখলদার ইসরাইলী সেনারা প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনী শিশুকে ধরে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে এখন ৩৫০ শিশু বন্দি রয়েছে। এসব শিশুর মধ্যে মেয়েশিশুও রয়েছে। আটক শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভুক্ত রাখা, নির্যাতন ও গালিগালাজ করা ইসরাইলী সেনাদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন জাগে, মিয়ানমার ও ইসরাইল সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যেভাবে জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, মানুষ হত্যা করছে তা দেখার মতো কোন প্রাণী কি পৃথিবীতে নেই? অথচ পৃথিবীতে কত আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে, তারা মানবাধিকার রক্ষার কথাও বলে থাকেন! তাহলে নাটকের পা-ুলিপিটা কি এভাবেই লেখা হয়েছে যে, এই পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে মুসলমানদের মানবাধিকার বলতে কিছু নেই!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ