ঢাকা, মঙ্গলবার 22 November 2016 ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সব আসামীর মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেফতারদের মধ্যে ১৫ আসামীর যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। তাদের রশিতে ঝুলিয়ে ফাঁসির আবেদন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ  সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে গ্রেফতার ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে ১৫জনের পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

দুটি মামলায় যুক্তিতর্কের প্রথম দিন ১৫জনের পক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক তুলে ধরে নির্দোষ দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষ এসব আসামীদের বিরুদ্ধে সাত খুনের ঘটনায় জড়িত প্রমাণে সক্ষম দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তি রশিতে ঝুলিয়ে ফাঁসির আবেদন করেছেন। অপর আসামীদের যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার ১৫ জনের পক্ষে যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। এই ১৫ আসামী হলেন র‌্যাব ও পুলিশে কর্মরত রুহুল আমিন, নুরুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ, মোখলেছুর রহমান, আবদুল আলীম, মহিউদ্দিন মুন্সী, হীরা মিয়া, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, হাবিবুর রহমান, কামাল হোসেন, আলামিন, তাজুল ইসলাম, বেলাল হোসেন ও এনামুল হক।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষও এসব আসামীদের বিরুদ্ধে ৭জনকে অপহরণের সূত্রপাত, সম্পৃক্ততা, বাস্তবায়নসহ সবগুলো পদক্ষেপ তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দিয়ে প্রমাণে সমর্থ হয়েছে আসামীরা ৭ খুনে জড়িত। তাই তাদের বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে রশিতে ঝুলিয়ে তাঁদের ফাঁসির আবেদন করেছেন। পিপি আরো জানান, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলায় ৩৫জনকে আসামী করে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক। আর চার্জসিটভুক্ত আসামীদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ