ঢাকা, মঙ্গলবার 22 November 2016 ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুইচ্চা রফতানি হচ্ছে বিদেশে

এস এম শামীম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়া থেকে প্রতি মাসে বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকার এলফিস বা কুইচা বা কুইচ্চা মাছ। এ পেশার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়েছে উপজেলার সহস্রাধিক পরিবার। কুইচ্চা আহরণ ও বিপননের সাথে জড়িয়ে তারা এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার রাজিহার, বাশাইল, চেঙ্গুটিয়া, বাটরা, গৈলা, সাহেবেরহাট, মোল্লাপাড়া, পয়সারহাট, বড়মগড়া, কারফাসহ বিভিন্ন এলাকায় কুইচ্চা সংগ্রহ হয় বেশি। সাধারণত জলাবদ্ধ এলাকা গুলোতে কুইচ্চা বেশী পাওয়া যায় বলে কুইচ্চা শিকারীরা জানান। অঞ্চলভেদে কুচিয়া, কুঁচে, কুইচ্চা, বাইম নামেই পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম মনোপটেরাস। কুইচ্চা ৬০ থেকে ৭০ সেন্টি মিটার লম্বা হয়। অ-গভীর খাল-বিল, হাওর-বাওর, পুকুর ও মাটির নিচে আবাস এদের। কুইচ্চা রাক্ষুসে স্বভাবের। খাদ্য হিসেবে প্রধানত ছোট মাছ তাদের প্রধান খাবার হলেও শামুকও অন্যতম খাবার। তাই কুইচ্চা খেতেও বেশ সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়ভাবেও কুইচ্চার বেশ চাহিদা রয়েছে। এটাকে মাছ হিসেবেই গ্রহন করছেন স্থানীয়রা। গ্রামগঞ্জ থেকে আহরনকৃত কুইচ্চা প্লাষ্টিক ড্রামে করে বিক্রির জন্য মোকামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগ্রহকরা কুইচ্চা পাইকাররা ট্রাকে নিয়ে যায় ঢাকায়। উপজেলার গৈলা, আগৈলঝাড়া সদর, পয়সারহাট, সাহেবেরহাট অন্যতম। এসব মোকাম থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাইকাররা তা বিক্রি করে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী কুইচ্চা অহরহ শিকারের ফলে দিন দিন এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পরছে বলেও পরিবেশবাদীরা জানান। উপজেলার গৈলা রথখোলা বাসস্টান্ডের মৎস ব্যবসায়ী প্রদীপ বাড়ৈ জানান, আগৈলঝাড়া থেকে প্রতি সপ্তাহে ড্রামে ভরে পাঁচ থেকে সাত ট্রাক কুইচ্চা ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রতি ট্রাকে ১৫ থেকে ২০ ড্রাম কুইচ্চা থাকে। একেক ড্রামে থাকে ১৮০ থেকে ২০০ কেজি কুইচ্চা। ৩০০ টাকা কেজি হিসেবে এ মাছের মূল্যে দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা। প্রতি মাসে আগৈলঝাড়া থেকে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার কুইচ্চা ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। কুইচ্চা শিকারীরা জানান, বানিজ্যিকভাবে কুইচ্চা চাষ করা হলে আরও বেশি উৎপাদন হত। দুস্থ পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশ আয় করত অভাবনীয় বৈদেশিক মূদ্রা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ