ঢাকা, মঙ্গলবার 22 November 2016 ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে

মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী): আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের রুচি পরিবর্তনের ফলে মাটির তৈরি সামগ্রীর স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টীল ও এ্যালুমিনিয়ামের তৈরি নানারকম আধুনিক সামগ্রী। এ কারণে চাহিদা কম, কাঁচামালের দু®প্রাপ্যতা ও চড়ামূল্য, সর্বোপরি পুঁজির অভাবে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
ইতিহাসের ঐতিহ্যের পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যাবে মৃৎশিল্পের জন্য সৈয়দপুর এক সময় ছিল খুবই পরিচিত। কিন্তু কালের আবর্তে আজ তা বিলীন হতে চলেছে। ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে এ পেশার আকাল। হয়তবা এমন দিন আসবে যেদিন বাস্তবে এ পেশার অস্তিত্ব মিলবে না। শুধুমাত্র খাতা কলমেই থাকবে সীমাবদ্ধ। সৈয়দপুরের কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, এ পেশার অনেকেই এখন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে কেউবা রিকশা চালায় আর কেউবা দিনমজুরের কাজ করছে। যারা এ পেশা ছাড়তে পারেননি তাদের অনেকেই শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয়েছেন।
মৃৎশিল্পীরা জানান, বর্তমানে মানুষের ব্যবহারিক জীবনে মৃৎশিল্পের আর বিশেষ ভূমিকা নেই। একটা সময় ছিল যখন মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, থালা বাসন, সানকি, ঘটি, মটকা, সরা, চারি, কলস, সাজ, ব্যাংক, প্রদীপ, পুতুল, কলকি, দেবদেবীর মূর্তি ও ঝাঝরের বিকল্প ছিল না। ঋন প্রদানে অনীহা ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর প্রযুক্তি বিকাশের এ যুগে এ শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধিত না হওয়ায় তা আজ আর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অনেকে অন্য পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ