ঢাকা, মঙ্গলবার 22 November 2016 ৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগের টার্গেট তাঁবেদার ইসির মাধ্যমে জনগণকে বাদ দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসা -ড. মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ার পেছনে কারণ হলো- আওয়ামী লীগের টার্গেট তাঁবেদার ইসির মাধ্যমে জনগণকে বাদ দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসা। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবারো দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫২ তম জন্ম দিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতীয়তাবাদী যুব দল আলোচনা সভার আয়োজন করে।
যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এলবার্ট পি কস্তার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ড. মোশাররফ বলেন, বেগম জিয়ার শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের প্রস্তাব দেয়ার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নাকচ করা হলো। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নাকচ করাটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা চায় একটি তাঁবেদার নির্বাচন কমিশন। যে কমিশনের মাধ্যমে জনগণকে ভোট থেকে বিমুখ করে পুনরায় ক্ষমতায় আসা। কারণ শেখ হাসিনা জনগণকে ভয় পায়। তারা জানে জনগণ তাদের আর ভোট দেবে না। সেজন্যই তারা গণতন্ত্রকে ভয় পায়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই টার্গেট পূরণ হলে তারেক রহমান বীরের বেশে কোনদিন দেশে ফিরে আসতে পারবেন না। তারেক রহমানকে বীরের বেশে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। বেগম জিয়াকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। তিনি মনে করেন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি আবারো দুই তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবে।
বর্তমান সরকারকে ওয়ান ইলেভেন সরকারের প্রতিষ্ঠিত সরকার উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আধিপত্যবাদের তাঁবেদাররা মনে করেছিল জিয়াকে  মেরে ফেলতে পারলেই জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু না এরপর বেগম জিয়া তার স্বামীর আদর্শ ধারণ করে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর জাতীয়তাবাদের নেতা হবেন তারেক রহমান। একারণেই সরকার তারেক রহমানকে এত ভয় পায়। সরকারের অত্যাচারে এখন পর্যন্ত কেউ দল না ছাড়ায় ধন্যবাদ জানান খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, তারেক রহমানের ওপর যে উদ্দেশ্যে নির্যাতন করা হয়েছে তার ফল এখন দেখা যাচ্ছে। এখন মানুষ কথা বলতে পারছে না। গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার নেই। তারা মনে করেছিল তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হলে তার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু না তার মুখ বন্ধ হয়নি। শহীদ জিয়া দেশের কথা বলেছেন। এরপর বেগম জিয়া মা ও মাটির কথা বলেছেন। তার উত্তরসূরী তারেক রহমানও দেশ ও মাটির কথা বলছেন। তারেক রহমানকে তারুণ্য এবং যৌবনের প্রতিনিধি বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।
আবদুস সালাম বলেন, বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী না বানাতে পারলে তারেক রহমানকে দেশে আনা যাবে না। আমরা যদি তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনিও শেখ হাসিনা তাকে বাঁচতে দেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আপনাদের বুঝতে হবে যে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জয়কে নেতৃত্বে আনার ব্যাপারে অনেক কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ডিসাইডেট হয়নি। তার মানে আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতা ডিসাইডেট না। বিএনপির পরবর্তী নেতা কিন্তু ডিসাইডেট। এজন্যই তারেক রহমানকে সরকার এতো ভয় পায় বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ