ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 November 2016 ১০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসলামবিদ্বেষী ফ্লিনই হচ্ছেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা

২৩ নবেম্বর, সিএনএন : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার গুরুদায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি। অথচ সেই ফ্লিনই কিছুদিন আগে ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
চলতি বছরের আগস্টে ফ্লিন বলেন, ‘বিশ্বের ১৭০ কোটি মানুষের (মুসলিম) দেহে ইসলামপন্থা (ইসলামিজম) ‘দূষিত ক্যানসার’-এর মতো। আর এটিকে কেটে ফেলতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের স্টটন শহরে অনুষ্ঠিত ‘আহাভাত তোরাহ’ নামের ধর্মসভায় মাইকেল ফ্লিন এসব কথা বলেন।
ফ্লিন বলেন, ‘নাৎসিবাদ, ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্যবাদের মতো আরেকটি মতকে আমরা মোকাবিলা করছি। এটি ইসলামপন্থা, যা এই পৃথিবীর ১৭০ কোটি মানুষের দেহে দূষিত ক্যান্সারের মতো। আর এটিকে কেটে ফেলতে হবে।’ ওই বক্তব্যে মাইকেল ফ্লিন বলেছিলেন, ফ্লোরিডা রাজ্যে ডেমোক্রেট দলের সমর্থকরা ভোটের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ আইন চালু করতে চাইছে।
সম্প্রতি ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিদেশি আইন পারিবারিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা যাবে না’ মর্মে একটি বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ফ্লোরিডার ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকরা। সে সময় তারা বলেছিল, ‘এই বিল একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং রাজ্যের মুসলিমদের লক্ষ্য করেই বিলটি আনা হয়েছে।’ ডেমোক্র্যাটদের ওই অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লিন উল্লিখিত বক্তব্য দেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনের প্রচার চালানোর সময় বিভিন্ন মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। গত বছর প্যারিসে বন্দুকধারীদের চালানো হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দেশটিতে মুসলমানদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন। এর পর থেকেই এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। তবে ভোটে জয়ী হওয়ার পর থেকেই মুসলিমদের বিষয়ে অনেকটাই নমনীয় হতে শুরু করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ