ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 November 2016 ১০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৩ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দেশের কথা ॥ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

পেনশন প্রাপ্তিতে জটিলতা
পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০০৯-এ পরিবর্তন পরিবর্ধন সংশোধন ও সংযোজনের পরিপত্র গত ৩০ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে জারি হলেও পেনশন সহজীকরণ হয়নি। আসলে সমস্যার মূল জায়গায় যাওয়া হয়নি। মূল কারণ ‘না-দাবি’ প্রত্যয়ন পত্র, বিশেষ করে অডিট আপত্তির বিষয়টি। বেশিরভাগ অডিট আপত্তি প্রাতিষ্ঠানিক হলেও তা ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করা হয়। কোনো কোনো অডিট আপত্তি সরকার কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে হলেও তা ডিডিও’র উপর চাপানো হয়। যে সমস্ত অডিট আপত্তি ‘অগ্রিম’ তার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য অডিট অফিসে প্রেরণ করতে হয়। অগ্রীম অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলে মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখা তা দীর্ঘদিন ফেলে রাখে। টাকা ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখা আপত্তির জবাবটি অডিট অফিসে প্রেরণ করে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য ত্রিপক্ষীয় সভা করে না, ক্ষেত্র বিশেষে সভা করলেও রেজুলেশন লেখে না, আবার রেজুলেশন করলেও তা অডিট অফিসে পাঠায় না। আবার দেখা যাচ্ছে, এগুলো সবই হয় যদি মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখাকে তাদের চাহিদা মত টাকা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জবাবটি অডিট অফিসে পৌঁছলে সেখানে চলে আরেক খেলা। মাসের পর মাস অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরিত জবাবটি সেখানে পড়ে থাকে, কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। ভাগ্য ভালো থাকলে এবং টাকা দিলে আপত্তি নিষ্পত্তি হয়, আর তা না হলে ঠুনকো কারণ দেখিয়ে পুনঃজবাব চাওয়া হয়। পুনঃজবাব অর্থ নিষ্পত্তির জন্য জবাবটি একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লেখা এবং আবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অডিট শাখাকে টাকা দিয়ে পুনঃজবাব অডিট অফিসে নিয়ে আসতে হয়। এতে প্রচুর টাকা খরচ হয়, সময় নষ্ট হয় এবং হয়রানি হতে হয়। চাকরিরত থাকা অবস্থায় এগুলো করা যায়, কিন্তু রিটায়ারমেন্টের পর বৃদ্ধ বয়সে এগুলো করা যায় না। কিন্তু পেনশনের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অডিট অফিস এতদিন জমিয়ে রাখা অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলো নিয়ে আসে ও তা নিষ্পত্তির জন্য বলে এবং এই অজুহাতে তার পেনশন আটকে দেয়া হয়। বৃদ্ধ বয়সে পেনশনের টাকা না পেয়ে খাবার অভাবে, চিকিৎসার অভাবে অনেকেই মারা গেছেন, এমন নজির অনেক আছে এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমেও অনেকে আমরা তা জানি। বেতন বন্ধ হওয়ার পর একজন সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী কিভাবে চলে তা দেখার কেউ নেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। তাই আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়ে তাদের জীবন শেষ হয়, পেনশনের টাকা সরকারের কাছেই পড়ে থাকে। একটা সময় ছিল, যখন আবেদন করলে ৮০% টাকা অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির পূর্বেই দেয়া হতো। এখন সেটা নানা অজুহাতে দেয়া হয় না। পেনশন পাওয়া একজন কর্মকর্তা/কর্মচারীর মৌলিক অধিকার, অথচ ঠুনকো কারণ দেখিয়ে তাকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। পেনশন সম্পর্কিত বিভিন্ন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতেরও একটা নির্দেশ ছিল, পেনশন প্রাপ্তিতে অডিট আপত্তির বিষয়টিকে না জড়াতে। কিন্তু আদালতের নির্দেশও কার্যকর করা হয়নি। কাজেই সদাশয় সরকারের প্রতি অনুরোধ, হাজার হাজার পেনশন প্রত্যাশি এইসব বৃদ্ধের কথা চিন্তা করে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে নয়, আসলেই পেনশন প্রাপ্তি সহজীকরণ করুন।
-মোঃ আব্দুল মজিদ, গ্রীন রোড, ঢাকা

মুলাদীর বেশিরভাগ লঞ্চঘাটই অরক্ষিত
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার চারপাশেই নদী বেষ্টিত। বাবুগঞ্জ, মুলাদী, মেহেন্দিগঞ্জ, কালকিনী, গোসাইরহাট থানা এলাকার বেশিরভাগ ঢাকাগামী মানুষ মুলাদীর বিভিন্ন লঞ্চঘাট দিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে। মুলাদী উপজেলা এলাকার অনেক জায়গার মানুষের এখনো যোগাযোগের মাধ্যম লঞ্চ ও ট্রলার।
মুলাদীর দুই প্রান্ত থেকে লঞ্চ চলাচল করে। তার মধ্যে একটি রুট হলো মিরগঞ্জ হয়ে উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জয়ন্তী নদী দিয়ে চাঁদপুর হয়ে ঢাকা সদরঘাট পর্যন্ত। আরেকটি রুট হলো মুলাদী বন্দর থেকে নয়াভাঙ্গলি নদী দিয়ে চাঁদপুর হয়ে ঢাকা। বৃহত্তর এই নদীপথে মুলাদী উপজেলায় প্রায় ৩০টি লঞ্চঘাট রয়েছে। লঞ্চঘাটগুলো হলো মীরগঞ্জ, বড়ইয়া, কাজীরচর, মেয়ারচর, নন্দীরবাজার, নবাবেরহাট, তেরচর, মোনশাগঞ্জ, চরকালেখান ঢালীবাড়ী, লক্ষীপুর, বানীমর্দন, ভূইয়াবাড়ী, তালুকদারবাড়ী, নাজিরপুর, বোয়ালিয়া, রামচর, গুদিঘাটা, নোমরহাট, সফিপুর, চরমালিয়া, ষোলঘর, মৃধারহাট, আবুপুর, মুলাদী বন্দর, সøুইসগেট, তিলেরহাট, পশ্চিমের নোমরহাট, হরিনাথপুর, ঘোষেরচর, আবুপুর প্রভৃতি। এতগুলো লঞ্চঘাটের মধ্যে মাত্র ৪/৫টি লঞ্চঘাটে পন্টুন আছে। অন্য লঞ্চঘাটগুলোতে কোনো পন্টুন নেই। খুব অল্প সংখ্যক লঞ্চঘাটেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। বেশিরভাগ লঞ্চঘাটেই বিদ্যুৎ নেই। ২/৩টি বাদে কোনো লঞ্চঘাটেই যাত্রী ছাউনি নেই। মুলাদীর ব্যবসায়ীরা পান, সুপারি, কাঁচাকলা, মরিচ, পাটসহ নানা ধরনের ফসল চাঁদপুর ও ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে। আবার অনেক ব্যবসায়ী ঢাকা ও চাঁদপুর থেকে ব্যবসার জন্য বিভিন্ন মালামাল আনা-নেয়া করে। লঞ্চঘাটগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বেশিরভাগ লঞ্চঘাটগুলোতে সংযোগ সড়ক নেই, নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা, নদী ভাঙনের ফলে অনেক লঞ্চঘাটই বেশিদিন এক জায়গায় স্থায়ী হয় না। একেক সময় একেক জায়গায় লঞ্চ ভিড়াতে হয়। এর ফলে পুরো মুলাদীতে অনেক ফসলি জমি ও বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়টির প্রতি কোনো গুরুত্বই দেয়নি। লঞ্চঘাটগুলোর সমস্যার কারণে অনেক সময় যাত্রী দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক সময় হতাহত হয়। কয়েক বছর আগে অরক্ষিত লঞ্চঘাটের কারণে মুলাদী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে জীবন দিতে হয়েছে। বেশিরভাগ লঞ্চঘাটগুলোতে যাতায়াতের রাস্তাগুলো ভাঙা। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ফলে যাত্রী যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন খুবই কষ্টকর। মুলাদীর বেশিরভাগ লঞ্চঘাটেই যাত্রী দুর্ভোগ বর্তমানে চরমে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ও মুলাদী উপজেলার সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
-এস এম জহিরুল ইসলাম, মুলাদী, বরিশাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ