ঢাকা, শুক্রবার 25 November 2016 ১১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিয়ের অংক

এনামুল মানিক : দিন কী কারো জন্য পড়ে থাকে? বিয়ে আর কবে হবে? বেলা আজকেও ডুবে যেতে শুরু করেছে। রাত পোহালে নতুন দিনের সূচনা হবে। আজকের দিনেও কিছু একটা হলো না। আর কত চিন্তা করব? চিন্তা করতে করতে চেহারা খারাপ হয়ে যাক। তখন মেয়েরাই আমাকে অপছন্দ করবে। সেটাই ভালো হবে। বড় মামা এখনো বুঝতে পারছে না। এমনিতে আজ কয়দিন আমার মাথায় চুল উঠতে শুরু করেছে। চুলে সাদা রং তো অনেক আগের ঘটনা। সেটা না হয় কলপের কালোয় আড়াল করলাম। কিন্তু টাক? এসব ভাবতে ভাবতে অধরের মন ক্ষোভ সমাগমে কঠোর হয়ে যায়। মায়ের ঘরে গিয়ে এতক্ষণ চাপিয়ে রাখা রাগের বিষ্ফোরণ ঘটায়। মা ধৈর্য ধরতে বলে। ধৈর্যধারণের কথায় বিগড়ানো মেজাজে বলে-
আমার ধৈর্য নেই।
- বাবারে, ধৈর্যের ফল আছেই। যার সাথে লেখা আছে ঘুরে ফিরে তার সাথেই হবে। এখানে বড় মামাও না, কেউ না, কারো কোন হাত নেই।
- বিত্তশালীর ঘর না হলে সে লেখাও মামা পারলে মুছে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। মামার ভাবতো দেখে এরকমই মনে হয়। তার চোখ শুধু সম্পত্তিওয়ালা মেয়েদের বাড়ীর দিকে।
- কে বলে শুধু সম্পত্তি দেখছে? রূপ-গুণও দেখছে।
- তার কাছে রূপগুণ নফল আর সম্পত্তি ফরজ। ওগুলো হলেও হয়, না হলেও হয়। কিন্তু সম্পত্তির ব্যাপারে উনি কোন ছাড় দেবেন না। তাছাড়া উনি চোখে ভালো দেখতে পান না। রূপ কেমন করে দেখে?  আমি মরে গেলেও যেমন তেমন বেঢপ চেহারার মেয়েকে বিয়ে করতে পারব না। মেয়ে যদি ফকিরও হয়, ফর্সা ফকির হতে হবে।
রোজ সন্ধ্যায় অধর বাসায় ফিরে মায়ের কান ঝালাপালা করে দেয়। ওর মা চুপ করে থাকে এই ভেবে যে ওর মাথা এখন গরম হয়ে আছে ভ্যাগর ভ্যাগর করে আস্তে আস্তে ঠান্ডা হয়ে যাবে।
আর যদি তার কথা সাংঘর্ষিক কিছু বলা হয় আবার শুরু থেকে শুরু করবে। মাথা গরম অবস্থায় সে যখন প্যাচাল পারে তার প্রতিটি কথার বিপরীতে কিছু বলা যায়। তারপরও ওর মা নিরুত্তর থাকার চেষ্টা করে। যেন শ্রবণ শক্তি তার অনায়ত্বে। কিন্তু গা জ্বালানো কথা নীরবে বেশীক্ষণ শোনা যায় না। বা শুনলেও বক্তা ভাবতে পারে দোষী বলে চুপ হয়ে আছে।
ওর মায়ের ধৈর্যের বাঁধ নড়বড়ে হয়ে যায়। গলার দাপট প্রসারিত করে বলে-
আমাকে এত কথা না শুনিয়ে তোর মামাকে বলতে পারিস না? মামার সামনে থাকিস বয়রা হয়ে। যা বলে মাথা নেড়ে সায় দিস। আর আমার সামনে বিগিড় করিস।
নিজের ছেলে রাহাতের ক্ষেত্রেও অধরের বড়মামা এমনটাই করেছিল। এতটা খুঁটে খুঁটে মেয়ে দেখেছিল যে আসমান জমিন এক করে ফেলেছিল। কোন কোন পাত্রী পক্ষ থেকে প্রশ্নের সম্মুূখীনও হতে হত।
- এত খুঁতখুঁতে হলে হয় না। কোন পর্যায়ে গেলে মেয়েপক্ষ এমন কথা বলতে পারে? পাত্রীপক্ষের এমন কথায় বড়মামা কিছু মনে করাতো দূরের কথা। সাবলীলভাবে জবাব দিত- হয় না মানে? বিয়েশাদীর ব্যাপারে খোঁজ নিতে নিতে যতদূর পর্যন্ত রাস্তা ধরে যাওয়া যায়। বিয়ে মানুষের একবারই হয়। এমনতো নয় যে ভালো লাগলো না টিভি চ্যানেলের মতো রিমোটের বাটনে বৃদ্ধাঙ্গুল রেখে চাপ দিলাম।
অনেক হাতরায়ে হাতরায়ে একটি মেয়েকে নিজের ছেলের বউ করে নিয়ে আসে। সবাই আশঙ্কা করেছিল এত ঘেটেঘুটে মেয়ে নিয়ে আসছে এই মেয়ে কেমন হবে। যারা নাকি বেশী বাছবিচার করে তারা ভালো মেয়ে পায় না। আবার একদিকে ভালো হলে অন্যদিকে অন্যরকম হয়ে যায়। গড় করে খারাপই বলা যায়। মেয়ে দেখতে যাওয়ার সময় যখন দলবদ্ধভাবে সবাই বাড়ি থেকে বের হত, আশেপাশের মানুষজন নানান কথা বলত। মেয়ে দেখে ফিরে আসলে রাস্তায় যত পরিচিত লোকের সাথে দেখা হত সবাই জিজ্ঞাসা করত- মেয়ে পছন্দ হয়েছে?
অনেকে বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসা করত। নেতিবাচক জবাব পেয়ে একদিন এক প্রতিবেশী বলল- রাহাতের কত পরে মেয়ে খোঁজা শুরু করেছিল রবিন। বিয়ে হয়ে ছয় মাসের বাচ্চা কোলে করে তার বউ ছোট দেবরের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়েছিল। আর ওর কপালে মেয়েই জুটছে না।
রাহাতের বউটা ছিল অসাধারণ। তার সুনাম শ্বশুর-শাশুড়ি থেকে শুরু করে সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এত ভালো বউ এই পাড়ায় আর একটাও নেই বলে সবাই আলোচনা করে। কোন বাড়িতে বউ শাশুড়ির ঝগড়া হলে এই বউয়ের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এরপর থেকে বড় মামার স্পর্ধা আরো বেড়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন যে যেখানে আছে মেয়ে দেখার জন্য বড়মামা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বড় মামাও তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পালন করতে চায়। তবে মাত্রা ছেড়ে যায়।
অধরের সম্পদকাতুরে মামার অভ্যাস মেয়ে দেখার আসরেই মেয়ের বাবার কী আছে, কী নেই জিজ্ঞাসা করা। ঘটক বা মিডিয়া মারফত এইসব বিষয় আগেই জেনে নেয়। তারপরও আসরে ডাইরেক্ট জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধান্বিত হয় না একটুও।
- কয় বিঘা জমি আছে?
 মেয়ের বাবার  প্রেস্টিজে লেগে যায়।
- কেন, ঘটক বলে নি?
- ঘটকের কাছ থেকে শোনা আর আপনার কাছ থেকে শোনা।
- তাহলে শুনুন, আমার কিছু জমি ছিল। বিক্রি করে করে মেয়েদের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছি। মেয়েরা বিয়ের পর চাকুরী করে হোক আর স্বামীর টাকা দিয়ে হোক আমার জমি পুনরুদ্ধার করে দেবে। বুঝতে পেরেছেন? এইবার আপনারা আসুন।
মেয়ে দেখার মজলিসে একজন মেয়ের আদব-কায়দা জানার ব্যাপারটা খুব শক্ত। এমন পরিবেশে মেয়েরা সাধারণত স্ট্যাচু হয়ে বসে থাকে। ওর মামা নানা এ্যাংগেল থেকে প্রশ্ন করে। উত্তর জানার জন্য নয়। মেয়ের স্বভাব জানার জন্য। একবার এক মেয়েকে জটিল বীজগণিতের সূত্র জিজ্ঞাসা করেছিল। মেয়ে কড়া গলায় বলেছিল- আমি চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে আসিনি।
এমন ঝটপট কথায় মেয়ের চাচা লজ্জিত হয়ে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে মেকাপ দিতে চেষ্টা করে। অধরের মামার আর জানার বাকী থাকে না মেয়ে সম্পর্কে। অধর খুব খুশী হয়। সে মনে মনে ভাবে- সব মেয়েরই এমন হওয়া উচিৎ। প্রশ্ন করার একটা শ্রী থাকা দরকার।
সম্ভবত এটাই এ যাবৎ দেখা মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে সেরা। তখনই মন খারাপ হয়ে যায়। আহত মনে ভাবে- আমার চোখে সুন্দর লেগে লাভ কী? মামার চোখ ভরলে মন ভরে না, মন ভরলে চোখ ভরে না।
মুখে হতাশা নিয়ে বাসায় এসে মায়ের উপর তার ক্ষোভ প্রকাশ করে- আমি আর মামার সাথে মেয়ে দেখতে যাবো না। মামা আমার জন্য মেয়ে দেখতে যায় না, আমার বিয়ে ভাঙতে যায়।
মা সান্তনার দেওয়ার ভঙ্গীতে বলে- কী বলিস বাবা? মুরুব্বীরা একটু জানতে-শুনতে প্রশ্ন করতেই পারে।
-এমন আজগুবি প্রশ্ন করার কী দরকার? আসলে সে যে জ্ঞানী তা সবার মধ্যে জাহির করে।
এই মেয়ের কড়া উত্তর শুনে অধর ভেবেছিল মামা বোধহয় আর কোন মেয়েকে উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন করবে না। কিন্তু মামা তার লয়েই চলে।
আজ জুমআর নামাজ বাদ অধররা মেয়ে দেখতে যাবে। ডায়রীয়া হওয়ার কারণে বড় মামা মেয়ে দেখতে যেতে পারবে না বলে জানায়। অধরকে তার মা বলে- আজ মেয়ে দেখতে যাওয়া দরকার নেই, তোর মামার খুব খারাপ অবস্থা।
সে প্রশ্নসহ মায়ের দিকে মুখ করে বলে- এ কী বলছো, মা? মেয়ের বাড়ীর লোকজন আয়োজন করে বসে আছে আর একজনের জন্য যাওয়া হবে না, এটা কী হয়?
- তোর মামাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে।
- যাক, আমরা মেয়ে দেখে ফেরার পথে হাসপাতাল হয়ে আসবো। এ খবরে অধরের তৃষিত মন খুশীর সুধায় পূর্ণ হয়। সে ভাবে- ঝামেলা গেছে, আজ আরামে মেয়ে পছন্দ। মামার ডায়রীয়া হয়েছে, হোক। ডায়রীয়া হলে কী হয়? পানিশূন্যতা তেমন কোন সমস্যা নয়। নদ-নদী, খাল-বিল পানি শূন্য হয়ে, ফেটে চৌচির হয়ে আবার সেই নদীই বর্ষাকালে দুনিয়াদারি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মামাও ঠিক হয়ে যাবে।
বড়মামা ছাড়া প্রথম তারা মেয়ে দেখতে গেছে। কিন্তু মেয়ে কারোরই পছন্দ হয় নি। পরেরদিন আরেকটা মেয়ে দেখতে  যায়। আজ তারা পাগল হয়ে যায়। অধর ওখানেই তার পছন্দের কথা জানিয়ে দিতে চায়।
এক আত্মীয় বলল- না, এখনই জানানো ঠিক হবে না। বড়মামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
বড়মামা সুস্থ হয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানায়- মেয়ের বাবার কোন সম্পত্তি নেই। এমন কী নিজেদের বাড়িও নেই, ভাড়া বাড়িতে থাকে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে অধরকে ঠেলে দিতে পারি না।
ওর মামা না করে দেয়। অধর যার পর নাই হতাশ। সারাদিনমান বিমর্ষ হয়ে থাকে। ঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করে না, সেভ করে না। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে যায়। বাসায় গম্ভীর হয়ে থাকে। গোপনে মনে হয় কান্নাকাটিও করে। চোখ লাল আর ফোলা দেখে অনুমান করা যায়।
অধরের এক বন্ধু তাকে পরামর্শ দেয়- তোর মামা মেয়ে দেখছে, দেখুক। তুই নিজেও একটু হাঁটাহাঁটি কর। তোর বাড়ির পাশে সুন্দর একটি মহিলা কলেজ। এমন কপাল নিয়ে কয়জন জন্মায়? ঘুমের থেকে উঠেই মহিলা কলেজের মুখ দেখা। আমার বাড়ির সামনে এমন একটি মনোরম মহিলা কলেজ থাকলে বিয়ে করেছি তাই কী হয়েছে। আমি আবার.......।
পরের কথাটুকু বলার আগেই অধর বলে ওঠে- তুমি শালা, বিয়ের আগে যেমন ছিলে, এখনও তেমনই আছো। ভালো পরামর্শ না দিয়ে ভ্যাদা প্যাঁচাল শুরু করেছ।
- তোদের কার্যকলাপে মুখ দিয়ে এসব কথা এমনি বের হয়ে আসতে চায়। কোন মেয়েকে পছন্দ করে বাসায় জানিয়ে দে। তুই ছেলে মানুষ না?
- তাই কী হয়?
- কী হয় না? মেয়েকে দেখ, মেয়েও তোকে দেখুক। এইভাবে আলাপচারীতার মধ্য দিয়ে মায়া মহব্বত গড়ে উঠলে বিয়ে কোন ব্যাপারই না।
- ছাত্র জীবনে কত মহব্বত গড়ার সুযোগ পেলাম তাও কিছু করলাম না, আর এই বয়সে কী এসব করা সম্ভব?
- ছাত্র জীবনে এইসব কেউ মেনে নেয় না। সবার চোখে ছাত্র জীবনের প্রেম হলো অন্যায় প্রেম। আর এখন তোর জন্য মেয়ে খোঁজা হচ্ছে। এখন তোর প্রেম হবে ন্যায় প্রেম। ছাত্র জীবনে এসব করতে গেলে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে করতে হয়। আর এখনতো কারোর চোখ ফাঁকি দেওয়ার দরকার নেই। বরং কেউ যদি তোকে অভিযুক্ত করে সেই ফেঁসে যাবে। তোর কিছু বলা লাগবে না। আমরাই দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেব। তবে সত্যি কথা কী জানিস, এইসব প্রেমে তেমন একটা মজা থাকে না। সবার চোখ ফাঁকি দেওয়া প্রেমের স্বাদই আলাদা।
- নারে, আমার এসব আলতু-ফালতু কথা ভালো লাগে না। তুই এসব আজেবাজে বুদ্ধি আমাকে দিস না। তাছাড়া আমার মামার যা রাগ। ছোটবেলায় ধমক দিলে আমি পেশাব করে ফেলতাম। আর এখন বড় হয়ে গেছি। বুদ্ধি হয়েছে। এখন ধমক দিলে আর পেশাব করি না শুধু পেশাব চেপে যায়।
- তোর বুদ্ধি এখনো হয়নি, কোনদিন হবেও না। তোর মাথায় বুদ্ধি ঢোকার মেয়াদ শেষ। তুই তাহলে মামার কথাই শোন। তোর মামা বিয়ে ভালো করে হওয়াবে। তোদের কীর্তিকলাপ চারিদিকে জানাজানি হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বলাবলি করছে- তোরা মেয়ে দেখতে যাস না, মেয়ের বাবার সম্পত্তি দেখতে যাস। দেখিস, কয়দিন পর কোন মেয়ের বাবা আর তোদের মেয়েই দেখাতে চাইবে না।
বন্ধুর শেষ কথাটা শুনে অধরের বুকের ভেতর ধপাস করে ওঠে। প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসের ঝাপটায় যেমন একপাল্লার দরজা সজোরে কপাটে আঘাত করে।
অধরের মা বলছে- অধর, তোর মামার জন্য কয়টা পিঠা দিয়ে আয়তো, বাবা।
- আমি পারবো না।
- তাহলে কে যাবে? তোর মামা দুধপিঠা পছন্দ করে।
- পারলে তুমি দিয়ে আস। মরেও না লোকটা।
- তুই কী বললি? এত বড় কথা বলতে পারলি?
- এত বড় কথা কিসের? সে রিটায়ার্ড করেছে, ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে এখন মরলে কী সমস্যা?
- আমি ভাইজানকে বলব, এ বাড়ির কোন কাজে যেন আর না পা বাড়ায়।
অধর ফাস্টফুড খেতে গেছে। বার্গার কেবলই ছিঁড়ে মুখে নিয়েছে। সে লক্ষ্য করে ঐ মেয়েটিকে যাকে সর্বশেষ সবাই দেখে পাগল হয়েছিল। সাথে একটি হ্যান্ডসাম ছেলে। আর দুই তিনজন মেয়ে। সে ভাবছে- আজকাল তো বাড়িতে মেয়ে দেখার রেওয়াজ উঠেই গেছে। মার্কেটে, রেস্টুরেন্টে, কলেজে ইত্যাদি স্থানে হাঁটতে হাঁটতে মেয়ে দেখার কাজ সারা হয়ে যায়। আর বড়মামা আয়োজন ছাড়া মেয়েই দেখতে যায় না।  ছেলেটা এই মেয়েকে পছন্দ না করে পারবেই না। বেশ সেজেগুজে এসেছে। আমার হক ঐ ছেলের হয়ে যাচ্ছে। এ সব মামার জন্য। আমিও অভিশাপ করছি- মামা যেন বেহেস্তে গিয়ে হুরের দেখা না পায়।
অধর একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। ওরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে থাকে। মেয়েটা ছেলেটার হাত ধরে বের হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
-কী স্পর্ধা! দেখাদেখির পরীক্ষা হলো কী না হলো, এরপর তো রেজাল্ট আউটের ব্যাপার আছেই। আর স্বামী-স্ত্রীর বেশে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হচ্ছে। দুনিয়াটা গেছে। এত খারাপ মেয়ে। অভিভাবকরা পাত্র খুঁজে বেড়ায় আর মেয়ে প্রেমিক খুঁজে খুঁজে মরছে। এ মেয়ে আমার ঘরে গেলে কী অশান্তিই না হতো? হায়রে আমার বড় মামা। কেন যে আমি আপনাকে ভুল বুঝি? সে জন্য মানুষ বলে- মুরুব্বীর মাইর শেষ রাইতে।
আবার ভাবে-নাকি বিয়ে হয়েছে। স্ত্রী-শালিকাদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছে। এক কামড় বার্গার মুখে দিয়ে এতকিছু ভেবে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ