ঢাকা, শুক্রবার 25 November 2016 ১১ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৪ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

আত্মার প্রার্থনা
তমসুর হোসেন

জনহীন রাতে মাঝে মাঝে আমি পুরনো গোরস্থানে ঢুকে পড়ি
যেখানে অসংখ্য আত্মা তাদের জীর্ণ কংকালের ভেতর অহর্নিশ
হারানো জীবনের গন্ধ খোঁজে; কৈশর যৌবন আর প্রৌঢ়ত্বের ভ্রমে
তারা ঘুরপাক খেতে থাকে আবর্তণী পতঙ্গের মতো ক্লান্তিহীন।

আত্মারা দেহের অস্থির মতো চিনতে পারে ফেলে আসা স্বজনকে
খেতখামার বাড়িঘর সম্পদ যারা যথেচ্ছা ব্যবহারে বিনষ্ট করছে
তাদের প্রশ্বাস অঙ্গ সঞ্চালন প্রত্যক্ষ করে সর্বদা গভীর বিস্ময়ে
সমাধির অচির অন্ধকারে কতো অশ্রু মিশে যায় বদ্ধ বাতাসে।

বৃদ্ধ কাকের মতো ক্লান্ত ডানায় তারা নিয়ত প্রদক্ষিণ করে
ফেলে আসা পথঘাট নদীনালা শহর বন্দর বিস্তৃত জলমহল
নীরব মলিন কক্ষে প্রিয় কার অশ্রু ঝরে সেই ভেজা চোখে
কায়াহীন হাতে স্বস্তির পরশ মেখে ফিরে আসে ঘন অন্ধকারে।

আত্মার প্রার্থনা মূল্যহীন বুকফাটা আর্তনাদ নিষ্ফল হা-হুতাশ
সারাটা গোরস্থান ফিসফাস শব্দের অবিরত গুঞ্জনে নিত্য কম্পমান
সজীব মানুষের চারপাশে ঘুরে প্রাণভরে মার্জনার দোয়া চায় তারা
যেন তারা মুক্তি পায় পরকালে লাভ করে সুখময় অনন্ত জীবন।


সময়ের নীলব্যথা
কাজী রিয়াজুল ইসলাম

পাঁচশ’ টাকার নোটটা তন্ন তন্ন করে কয়েকবার খুঁজি;
না, পাবই না আর মনের বেহালার করুণ সুরে
সহজেই বুঝি।
স্মৃতির ডাকপিয়ন অনাবাদী শহর ছেড়ে চলে গেল দূরে।
টেবিলের ওপরে থাকা বইটা ওল্টাতেই ঢেকে যায়
মনের আঙিনা সোনালি জোছনার শামীয়ানায়,
দেখি হাজার টাকার দু’টো আনকোরা নোট; জানি না
কবে যে এল উড়ে মনের বেখেয়ালী দখিনা হাওয়ায়।

জীবনের চঞ্চল হরিণীর থেমে গেছে সরব চলার বেগ,
মহাশূন্য খাঁ খাঁ, নেই কোনো গ্রহ-তারা আজ জেগে
ওড়েও না আর শুভ্র, গোলাপী বা কালোমেঘ;
ভাবি, তবে কী সত্যই প্রকৃতি মুক্ত হল ষড়ঋতু থেকে!

অতীতের কুমারীস্মৃতি মনের সার্শীতে আর দেয় না উঁকি
যেন নব-বধূ আমাকে বেগানাজন ভেবে ঘোমটা টানে।
সময়ের প্রতি না তাকিয়ে আসল সময় বাজিয়ে ডুগডুগি
মেতে ছিলাম জীবনের বিপরীত স্রোতের গানে গানে।
নিক্তির এক পাল্লা থেকে সময় ঝরে পড়ে হয়ে শিলাবৃষ্টি
ক্রমশ; আমার পাল্লাও যে নামছে নিচে একই সাথে
সেই দিকে আদৌ যায়নি তৃতীয় নয়নের দৃষ্টি
যুবক থেকে প্রৌঢ়তক শত ঋতু বদলের রাতে বা প্রাতে।

বুনোহাঁস হয়ে আজ সাঁতার কাটি
অজানা জমিদারের বাগানবাড়ির বেওয়ারিশ দিঘিতে।
কণ্ঠকে চেপে রাখতে জীবনের আঙিনায় কনসার্টপার্টি,
ভুল এঁকেছি সড়কের তফসিল, ভুল বুঝেছি জ্যামিতিতে।


যুদ্ধের পদধ্বনি
মুহাম্মদ রেজাউল করিম

যুদ্ধের পদধ্বনি
মাঠ নেই তার
চোখে মুখে বারুদে ছায়া
বাতাসে বাতাসে কালো কালো ধোঁয়া
মাঠ তার কতদূর?
ওই পাড়ে সাগরের... আড়ালে দৃষ্টির
মাঠ কি তবে উড়ে যাওয়া চিল
মাঠ কি তবে অন্ধকার সেডম নগরীর
সংলাপ সব বুঝি জীবন্ত কুয়াশা
ফালগুন হাঁড়ি নাকি একদম ভরা
চুল্লি জ্বলে আড়ালে আড়ালে
ধাক্কা প্রবল দেয়ালে দেয়ালে
মাঠ নেই তার
যুদ্ধের পদধ্বনি
সৈনিকের বুক ফাটে
ঈগলের ডানা ঝরে
বলের ভেতরে বাতাসের ত্রাস
ডিঙি নৌকার হিস্হিস্্
হায় সময় কঠিন
বরফ হয়ে যাও
আতর হয়ে যাও॥


আগুনসময়
মাহিন মুবাশশির

এখন আগুন সময়! তাই দাবানল দাহে
পুড়িয়ে ছাই করে দাও ঘনঅন্ধ অটবীর বুক;
-এই বনে লুকিয়ে যত
বিচ্ছু, গোখরো, অজগর আর
হিংস্র দানবের বিশ্রি মুখ:
বীভৎস দাহনে করে দাও টুকটুক।

জ্বালাও জ্বালাও আগুন জ্বালাও! আগুন জ্বালাও!
বারুদের উদরে লুকিয়ে রাখা আগুন জ্বালাও!
মেঘের বর্জ্যে লুকিয়ে রাখা আগুন জ্বালাও!
সাগরের গর্জনে লুকিয়ে থাকা আগুন জ্বালাও!
মনের বধ্যভূমিতে লুকিয়ে থাকা আগুন জ্বালাও!
আগুন জ্বালাও! আগুন জ্বালাও! আগুন জ্বালাও!


ভেঙে দাও, আমার আমি এই নীরবতা
মোহাম্মদ ইসমাইল

অমৃতের সন্ধানে-অমরার স্থিরতা
স্থিতি হয়ে যখনি তুমি খুঁজতে যাবে;
তখনি বুঝি শুধু ভেঙে দাও, আমার ‘আমি’ এই নীরবতা
মানুষ হয়ে সবার মাঝে তখনই বুঝি তুমি এক প্রগাঢ়ভাবে
অবারিতের ‘সে’ উৎসধারা সত্য নামে
                    যেন কিছু একটা খুঁজে পাবে!
সত্য ‘মিথ’ সত্য হয়ে তাই দাও হে ধরা,
তোমারি ‘সে’ স্পর্শ লাঘবে!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ