ঢাকা, শনিবার 26 November 2016 ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলে অগ্নিকাণ্ডে দেড়শ আহত

২৫ নবেম্বর, জিও নিউজ উর্দু : ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হিফায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। উত্তরাঞ্চলে সংঘটিত দাবানল ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশ কিছু স্থাপনা ও গ্যাস সিলিন্ডার ইতোমধ্যে পুড়ে গেছে। কাছাকাছি বাড়িঘরের দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫০ জন আহত হয়েছেন। ৪০ হাজার অধিবাসীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আগুন লাগানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইসরাইলের গণমাধ্যম জানায়, তিনদিন ধরে আগুন জ্বলছে। এক হাজার আটশোরও বেশি আবাদি জমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ২০০-এর বেশি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ইসরাইলের গণমাধ্যম আরো জানায়,  ১৫০ জন লোক আহত হয় এবং কয়েক হাজার জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন, তুর্কি, সাইপ্রাসদ্বীপ, রাশিয়াসহ আটটি দেশের উদ্ধারকারী দল সাহায্যের জন্য পৌঁছেছে।
হিফা পৌরসভা প্রশাসন সংবাদ সংস্থাকে জানায়,  শহরের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দয়ো হয়েছে। লোকজন সুপার মার্কেট এবং শপিং মলের  ট্রলিতে জিনিসপত্র নিয়ে শহরের বাইরে যেতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ দাবানল ক্রমেই দেশটির মধ্য ও উত্তরাঞ্চল দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে অন্য অঞ্চলের দিকে। শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। আগুনের ধোঁয়ায় অনেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অগ্নিশিখা ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে ওঠানামা করছে। কোনো কোনো জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিনইয়ামিনা ও হাদেরা শহরে মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইসরাইলের ইলেক্ট্রিক কোম্পানি রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে। পশ্চিম তীরের জেরুসালেমের কাছাকাছি থাকা ঘর-বাড়িগুলোও দাবানলের হুমকির মুখে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “আগুন লাগার প্রতিটি ঘটনাই ছিল অগ্নিসংযোগের ফলাফল। এ ধরনের ঘটনা সব বিবেচনায় সন্ত্রাস। আমরা বিষয়টিকে এভাবেই দেখবো।”
তিনি আরো বলেন, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের কোনো অংশ জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা যে করবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
ইসরায়েলের পুলিশ প্রধান রোনী আলসেইচ আগুন লাগার এই ঘটনা কিছু কিছু সন্দেহের জন্ম দিয়েছে বলেন জানিয়েছেন। তিনি জানান, যদি আগুন লাগার ঘটনাটি পরিকল্পিত হয়ে থাকে তবে এটা ভাবাই নিরাপদ যে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
 দেশটির শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট এ ঘটনায় আরব কিংবা ফিলিস্তিনিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “যারা এই দেশের অস্থিত্ব স্বীকার করে না তাদের পক্ষেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো সম্ভব।” ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ আন্দোলন এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনিদের উপর দায় চাপানোর লক্ষ্যে আগুন লাগার ঘটনাটিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “যা পুড়ছে তা ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বৃক্ষ এবং ভূমি।”
 দেশটির গণনিরাপত্তা মন্ত্রী জিলাদ এরডান চ্যানেল ১০ টেলিভিশন নিউজকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে আট ব্যক্তিকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বেশকিছু এলাকায় পুলিশ দাহ্যবস্তু এবং তরলের অস্তিত্ব পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, “আমাদের নতুন ধরনের সন্ত্রাস মোকাবিলার ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ