ঢাকা, শনিবার 26 November 2016 ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৫ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষার তথাকথিত গণ জিপিএ-৫ নীতি এবং অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশু-কিশোরদের শিক্ষা নিয়ে আমরা কমবেশি সবাই চিন্তিত। শিশুসন্তানের মা-বাবা-অভিভাবক হিসেবে এবং কর্মজীবনে শিক্ষক হিসেবে যারা এ ব্যাপারে আগ্রহ ও দুশ্চিন্তার কমতি নেই। আমার দৃষ্টিতে শিশুশিক্ষার মোটামুটি চারটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকা দরকার শিশুর ভেতরে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করা, শিশুর সহজাত সৃষ্টিশীল সম্ভাবনাকে আরো জাগিয়ে তোলা, তার আত্মবিশ্বাস মজবুত করা এবং জ্ঞানাহরণে স্বাবলম্বী হতে তাকে সহায়তা করা। এ প্রক্রিয়াগুলো আবার একে অন্যকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। সবগুলোর সফল সমন্বয় সম্ভব করবে যে শিক্ষা, তাকেই আদর্শ শিক্ষা বলতে চাই।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Center on the Developing Child-এর পরিচালক ড. জ্যাক শনকফ বলেছেন, শিশুর মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ বিকাশ সম্পন্ন হয় তার জীবনের প্রথম পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে। এ সময় সুস্থ বিকাশের জন্য তার মস্তিষ্ক ভারমুক্ত থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন ইতিবাচক পরিবেশ, মা-বাবার অন্তহীন স্নেহ ও পর্যাপ্ত সাহচর্য, অবারিত খেলাধুলার সুযোগ এবং শিশুমানসকে সঠিকভাবে উদ্দীপ্ত করার মতো সহজিয়া শিক্ষার আবহ। শিশুমনকে সাগরের বাধাহীন গাঙচিলের মতো উড়তে দিলে ভবিষ্যতের কাঠামোগত শিক্ষার জন্য সে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে।
শিশুরা সবচেয়ে ভালো শেখে যখন তাদের ওপর কোনো রকম চাপ দেয়া হয় না। খেলার আনন্দের মধ্য দিয়ে যে শিক্ষা, শিশুরা তা দ্রুত আয়ত্ত করতে পারে এবং সহজে ভোলে না। বাড়িতে মা-বাবা ও স্কুলে শিক্ষকের সহমর্মী ব্যবহার এবং সহপাঠী বন্ধুদের সঙ্গে উচ্ছল মেলামেশার সুযোগ শিশুদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় ও সামাজিকতা গড়ে তুলতে সম্যক ভূমিকা রাখে। এবং যখন চেয়ার-টেবিলে বসে পড়াশোনা  তাদের দিনের খুব বেশি সময় অধিকার করে রাখে না, তখনই শিশুরা সবচেয়ে কার্যকরভাবে শিখতে পারে।
ফিনল্যান্ডের উদাহরণ না টানলেই নয়। ফিনল্যান্ডে খুব ভালো সরকারি কিন্ডারগার্টেন সিস্টেম আছে, যেখানে পাঁচ-ছয় বছরে শিশুর ভিত গড়ে ওঠে। সেখানে রয়েছে প্রচুর খেলাধুলা, অনেক আউটডোর অ্যাক্টিভিটি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে পছন্দের বই বা ছবির বই ওল্টানোর অলস সময়। নিয়মতান্ত্রিক শ্রেণির কাজে খুব অল্প সময়ই ব্যয় করা হয়, হাতের লেখা লেখে হয়তো সপ্তাহে একদিন! ফিনল্যান্ডে প্রকৃত স্কুল শুরুর বয়স সাত, তার আগে নয়। স্কুলে তারা টিফিন টাইম পায় অন্যান্য পশ্চিমা দেশের চেয়ে বেশি, দৈনিক স্কুলের মোট সময় কম, হোমওয়ার্ক সবচেয়ে অল্প। পিএসসি-জেএসসির মতো কোনো পাবলিক পরীক্ষা নেই তাদের। তদুপরি এক দশক ধরে ফিনল্যান্ডের কিশোর-কিশোরীরা Programme for International Student Assessment (PISA) টেস্টে বিশ্বের ৬৫টি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফল লাভ করে আসছে!
এবার আসি নিজের দেশের চিত্রে, নিজগৃহে। সেদিন একটি মেয়ের স্কুল-ব্যাগটি ওজন করেই ফেললাম। ছয় কেজি! এত বড় বোঝা কাঁধে নিয়ে শিশুরা প্রতিদিন স্কুলে যাচ্ছে! ‘শিক্ষায় মুক্তি’ কে বলে! এ যেন শিক্ষার ‘ভারে’ আরো ন্যুব্জ হয়ে যাওয়া! ভারী ব্যাগ, ব্যাগবোঝাই হোমওয়ার্ক, সুদীর্ঘ সময় ক্লাস, নগণ্য খেলার সময় এবং সর্বগ্রাসী মুখস্থবিদ্যা এই তো মোটামুটি আমাদের স্কুলগুলো! ব্যতিক্রম থাকতেই পারে, কিন্তু তা এখানে আলোচ্য নয়। শিশুর চিন্তাশীলতাকে উজ্জীবিত করবে কোথায়? অতিকায় ক্লাস-সাইজ, এতগুলো শিশুকে একসঙ্গে পড়াতে হলে একজন শিক্ষক পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দেবেন কী করে? সময়াভাবে প্রশ্নের উত্তর শিক্ষক বোর্ডে লিখে দিচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা তুলে নিচ্ছে। নিজের মতো করে উত্তর লিখতে চাইলে শিক্ষার্থীকে বলা হচ্ছে, চিন্তা করতে গেলে নাকি সময় নষ্ট হবে! চিন্তা করো না, মাথা খাটিও না, শুধু অন্ধের মতো অনুসরণ করো! শিক্ষকের লিখে দেয়া উত্তর কপি করে পরীক্ষায় রোবটের মতো নিখুঁতভাবে উদ্গীরণ করো, ভালো রেজাল্ট করো! আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্যই যেন শিশুদের ফটোকপি মেশিন হিসেবে গড়ে তোলা। রঙের বই দেখে শিশুদের হুবহু একই আকারের ছবি আঁকতে এবং রঙ করতে বলা হয়! শিশুদের সৃষ্টিশীল জগতের জানালা খুলে দেয়ার বদলে বরং টপাটপ কপাট বন্ধ করার পাঁয়তারা যেন! এরাই যখন বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে, তখন কি অসহায়! পাখিকে ডানা ভেঙে দিয়ে দীর্ঘদিন খাঁচায় আটকে রাখার পর তার খাঁচা খুলে দিলেও কি সে আর উড়তে পারবে? কেন শিক্ষার্থীরা গতানুগতিক প্রশ্ন না হলে উত্তর দিতে পারে না, কেন তারা না বুঝে শুধু মুখস্থ করতে চায়, এসব প্রশ্নের উত্তর তাদের শৈশবে, তাদের শৈশবের শিক্ষার সংস্কৃতিতে। একটি সৃজনশীল, সম্ভাবনাময় মানবশিশুর প্রাণশক্তিকে জাঁতাকলে পিষে দুর্বল করে দিয়ে আমরা কী করে একটি চিন্তাশীল, বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ বা তরুণী আশা করতে পারে?
সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি একটি ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই। কিন্তু এর সুফল পেতে হলে দেশের শিক্ষার সংস্কৃতিকেই আমূল বদলাতে হবে প্রথমে। যেমন সৃজনশীল গাইড বই। দোকান ভর্তি এ জাতীয় পুস্তক দিয়ে। শিক্ষার্থী-শিক্ষক নির্বিচারে গাইড বইয়ের ভক্ত। এভাবে আর যা-ই হোক, সৃজনশীলতা তৈরি হয় না। গাইড বই থাকতেই পারে গাইডলাইন হিসেবে শুধু শিক্ষকদের জন্য, যা থেকে নিজেরা ধারণা নিতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখাতে পারেন কীভাবে নতুন ধরনের প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু এ-জাতীয় বই অর্থহীন নম্বর প্রাপ্তির প্রশ্ন-ব্যাংক হয়ে দাঁড়ালে সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যর্থ হতে বাধ্য। অংকে সৃজনশীল পদ্ধতি বাদ দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এর অন্তর্নিহিত কারণ বুঝতে আমি অক্ষম। অংক সৃজনশীল হওয়াই বাঞ্ছনীয়, এর অন্যথা হতে পারে না। বরং শ্রেণিভিত্তিক অংকে স্তর সহজতর করার কথা ভাবা যেতে পারে। জার্মানিতে আমার বন্ধুর সন্তানের সপ্তম শ্রেণির গণিত বই দেখেছি। বিস্ময়কর রকম সহজ অংক! আমাদের দেশে হয়তো আরো দু-তিন শ্রেণি আগেই শিশুরা সে ধরনের অংকে অভ্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু তাতে লাভ কী? ছোটবেলায় ভারী ভারী অংকে মাথা বোঝাই করে কোন বিশ্বটা জয় করবে আমাদের শিশুরা? এত জটিল অংক শিখছে, কিন্তু নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে নতুন অংক কষার স্কিল তৈরি হচ্ছে না বলেই তো সৃজনশীল বাতিলের চাপ তৈরি হয়েছে! অথচ বিপরীতে স্কুলপর্যায়ে সহজ অংক করে আসা জার্মান ছাত্ররা বড় হতে হতে অনেকেই গণিতে তুখোড় দক্ষতার পরিচয় রাখছে।
আসলে আমাদের ফোকাসই ভুল জায়গায় রয়ে গেছে। শুরুতেই সফল শিক্ষার যে চারটি উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছি শিশুকে নীতিবান, চিন্তাশীল, আত্মবিশ্বাসী ও জ্ঞানাহরণে স্বাবলম্বী করে তোলা আমরা প্রায় তার প্রতিটিতেই উল্টো পথে হাঁটছি। পরিবারের বাইরে স্কুলে নৈতিক শিক্ষা জোরালো করতে সক্ষম হইনি, মুখস্থবিদ্যা ধরিয়ে দিয়ে চিন্তাশীলতার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছি, নিজস্বতাকে উৎসাহিত না করে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি তৈরি করছি এবং টিউটর-নির্ভরতার মাধ্যমে পরমুখাপেক্ষী হিসেবে গড়ে তুলছি। অর্থহীন কিছু সংস্কৃতি জিইয়ে রেখেছি আমরা। যেমন পাঠ্যপুস্তকের কবিতা দাঁড়ি-কমাসহ মুখস্থ লেখা। কোন উদ্দেশ্যটি সাধন হয় কাজটি করে কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন? এমন বহু উদাহরণ আছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই কী শিখছে, তা একেবারে ঠোঁটস্থ কিন্তু কেন শিখছে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ধারণা নেই কারণ ক্লাসে শিক্ষক এ ব্যাপারে কখনই কিছু বলেননি, বলা যে প্রয়োজন তা হয়তো তিনিও জানেন না। আমি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, সারমর্ম লেখা শেখে কেন তারা জানে কিনা! কেউ বলতে পারেনি। ডজন ডজন সারমর্ম মুখস্থ করে জিপিএ-৫ ঠিকই পেয়েছে, কিন্তু কোনো কিছুর সারমর্ম বুঝতে শিখলে কী লাভ, কেউ কোনো দিন তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেনি! পুরোপুরি এক যান্ত্রিক শিক্ষা পদ্ধতি! আর এ সবকিছুর সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিভাবকদের মাত্রাতিরিক্ত গ্রেড আসক্তি। সন্তান স্কুলে প্রকৃত কী শিখছে, তাতে অভিভাবকদের মনোযোগ কমই থাকে, মূল লক্ষ্য হয়ে গেছে পরীক্ষার ফলাফল। ছেলেমেয়েদের সোনালি জিপিএ-৫ অর্জনে হেন কাজ নেই, যা তারা করেন না। আরাধ্য জিপিএ প্রাপ্তির নিমিত্তে কোচিং, প্রাইভেট টিউটর ও মুখস্থবিদ্যার মতো ক্ষতিকর ব্যাপারগুলোকে সন্তানের জন্য তারা সাগ্রহে বরাদ্দ করেন। ‘শীর্ষে’ থাকার জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের ওপর অহেতুক চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। এতে শিশুদের মধ্যে অনেকেরই পরীক্ষাভীতি জন্মে যায় কিংবা নিজেরাও গ্রেড আসক্তিতে নির্ভেজাল আনন্দময় কৈশোর হারিয়ে ফেলে। অনর্থক এক প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে অহঙ্কার, ঈর্ষা, দুঃখ ও অপমানের শিকার হয়।
অনেকেই বলবেন যে, আজকের যুগের ইঁদুর দৌড়ে পরীক্ষার ফলাফলই সবকিছু। হতে পারে। কিন্তু আমার কথা হলো, আমরা যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকে জ্ঞানাহরণে চিন্তাশীল ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারি, দিগ্গজ বানানোর সিলেবাস কচি বয়সেই তাদের ওপর না চাপিয়ে মস্তিষ্ক বিকাশের সুযোগ দেই, তাহলে সঠিক সময়ে প্রয়োজনমতো এ দৌড় প্রতিযোগিতায় সফলভাবে অংশগ্রহণ করার যোগ্যতাও তারা আপনাআপনি অর্জন করতে পারবে। ফিনল্যান্ডের কিশোররা এর এক বাস্তব উদাহরণ।
যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণভোমরা হলেন শিক্ষক। ভালো স্কুলশিক্ষক দেশের এক অমূল্য সম্পদ। একজন মাত্র সুশিক্ষক একটি শিশু বা কিশোরের জীবনের মোড় ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আমার সহকর্মী সেদিন গল্প করছিলেন, গ্রামের স্কুলের জীববিজ্ঞান শিক্ষকের কাছে হাতে-কলমে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার পরীক্ষণ কীভাবে তার কিশোর মনোজগৎকে আমূল নাড়া দিয়েছিল! সালোক সংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেনে যখন সেই কিশোরের হাতের নিভন্ত দেশলাইয়ের কাঠি আবার দপ করে জ্বলে উঠল, সেই নগণ্য শিখা কিশোরমনে যে শিহরণ সৃষ্টি করেছিল, তা মোটেই সামান্য ছিল না। ক্ষণিকের শিহরণ চিরস্থায়ী এক আগ্রহের জন্ম দিয়ে গেছে, সে দীপশিখা আজো অম্লান।
শিক্ষকের প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার এমন সফল গল্প দুনিয়ায় অনেক আছে। তাই শিক্ষকদের প্রতি আমাদের মনোযোগ বহুগুণে বাড়াতে হবে। স্কুলশিক্ষকরা আমাদের সমাজে সবচেয়ে অবহেলিত। শিশুর মননশীলতাকে উদ্দীপ্ত করতে যে মানসিকতা, শিক্ষা ও পরিবেশ প্রয়োজন, তা থেকে শিক্ষকসমাজ বঞ্চিত। ফলে গতানুগতিকতার বাইরে তারা পা বাড়াতে সক্ষম হন না। তাই ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’র সৃজনশীলতাকেও তারা যেন চামচ দিয়েই ছাত্রদের খাইয়ে দিতে প্রবৃত্ত। লাভের লাভ তাই হয় না কিছুতেই। আমাদের সন্তানদের অর্থবহ শিক্ষার তাগিদেই জাতির এই প্রাণভোমরার উন্নতিকল্পে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আবশ্যক।
পিএসসি-জেএসসির বলয় থেকে আমাদের সত্বর বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। এ নিয়ে গুণীজনরা বহু আলোচনা করেছেন। আমি আর সেদিকে যেতে চাই না। ছোট্ট বয়সে মেধার এ তথাকথিত মূল্যায়ন প্রচেষ্টা শিশু-কিশোরদের মানসিক চাপ, পরীক্ষাভীতি ও আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং অভিভাবকদের অযাচিত দুশ্চিন্তা, মানসিক অসুস্থতা ও অর্থের অপচয় ছাড়া আর বিশেষ কিছুই দিতে পারেনি বলে আমার বিশ্বাস।
আর এসএসসি-এইচএসসি সম্পর্কে শুধু একটা কথাই বলব। আমরা শিক্ষার কৃত্রিম উন্নয়ন সাজাতে গিয়ে গণ ‘জিপিএ-৫’ নীতি গ্রহণ করে যেভাবে স্বর্ণ আর তামা এক করে ফেলছি, ফলাফলের স্বাভাবিক বেল-কার্ভকে ত্যাজ্য করছি, এই অবিমৃষ্যকারিতার পরিণাম শুভ হতে পারে না। যে সমাজে উৎকর্ষের স্বীকৃতি নেই, বরং তাকে সাধারণ্যে পর্যবসিত করা হয়, সে সমাজ থেকে উৎকর্ষ হারিয়ে যেতে বাধ্য।
মধ্যবিধতাই (সবফরড়পৎরঃু) সে সমাজের পরিণতি। শেষ পর্যন্ত এমন সমাজ স্ববিনাশী হতে পারে। সময় থাকতে তাই আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ