ঢাকা, মঙ্গলবার 29 November 2016 ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৮ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রসের দেখা নেই ॥ বাজারে বিক্রি হওয়া গুড়-পাটালি কি আদৌ খেজুরের রসের?

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : বাজারে দেখা নেই খেজুরের রসের। তবে অভাব নেই খেজুরের পাটালি কিংবা গুড়ের। কেজি কেজি নয়, মণ মণ, টন টন পাটালি মিলছে বাজারে। শুধু অর্ডার দিলেই হয়। তবে এই পাটালি কি আদৌ খেজুরের রসের? এমন প্রশ্নের উত্তর একটিই, ‘না।’ যশোর খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত। এখানকার পাটালি-গুড়ের কদর শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশেও রফতানি হয় এই পাটালি। কিন্তু আজ সেই পাটালি-গুড়ের দেখা পাওয়া অথবা স্বাদ নেয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার। একসময় মাঠের পর মাঠে শোভা পেত খেজুর গাছ। সেই গাছ থেকে পর্যাপ্ত রস হতো। আর সেই রস থেকে তৈরি হতো সুস্বাদু পাটালি  গুড়। এখন খুব একটা চোখে পড়ে না খেজুর গাছ। এর প্রধান কারণ হিসেবে জানা গেল, অনেক জমিতে গড়ে উঠেছে বড় বড় কল-কারখানা ও বাড়িঘর। ফলে স্বাভাবিকভাবে এসব জমি থেকে খেজুর গাছ উজাড় হয়েছে। অন্যদিকে ইটের ভাটাগুলো হায়েনার মতো গিলেছে খেজুর গাছ। এসব কারণে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য খেজুর গাছ। বনবিভাগ এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারি রাস্তার দু’ধারে খেজুর গাছের চারা রোপন করলেও পরিচর্যার অভাবে তার বেশিরভাবই মারা গেছে। ফলে সংকট নিরসন দূরের কথা, বরং তা আরও প্রকট হয়েছে। আর এ অবস্থায় একরকম হারিয়ে গেছে খেজুরের রস-গুড়। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাজারে পাটালি-গুড়ের নামে আমরা কী খাচ্ছি? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মূলত আমরা ভেজাল এবং অতি নিম্নমানের গুড়-পাটালি খাচ্ছি। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সূত্র মতে, এই গুড়-পাটালির মধ্যে চিনির পরিমান খুব বেশি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে চিনির সাথে পুরনো গুড় ও সামান্য পরিমান খেজুরের রস মিশিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি। এর সাথে মেশানো হচ্ছে সুগন্ধ। ফলে ধরার উপায় থাকেনা যে এটি ভেজাল। চলতি শীত মৌসুমেও এই ভেজাল গুড়-পাটালি বিক্রি হচ্ছে যত্রতত্র। যশোর শহরের বড় বাজারে এমনকী অলি-গলিতেও বিক্রি হচ্ছে এই পাটালি। ক্রেতারা বলছেন, আগে গুড়-পাটালি মাসের পর মাস ঘরে রেখে দিলেও এর স্বাদ বা সুগন্ধের কোন পরিবর্তন হতো না। আর এখন এক সপ্তাহ/দশদিনের মধ্যে এই পাটালির ওপর সাদা প্রলেপ পড়ছে। স্বাদও যাচ্ছে পাল্টে। এছাড়া এই গুড়-পাটালি খেলে কখনো কখনো গলা চুলকাচ্ছে। তরল গুড়ে ভেসে থাকছে মাটির মতো দেখতে একরকম পদার্থ। ক্রেতাদের প্রশ্ন, যেখানে খেজুরের রসের দেখা নেই, সেখানে মণ মণ, টন টন খেজুরের গুড়-পাটালি আসছে কোত্থেকে? তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ