ঢাকা, বুধবার 30 November 2016 ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাপানে বরফের সমুদ্রে বন্দী ৫ হাজার মাছ

২৯ নবেম্বর, টাইমস ও সিএনএন : দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে জাপানের বিনোদন পার্ক ‘স্পেস ওয়ার্ল্ড’ কর্তৃপক্ষ ৫ হাজার সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তাদের স্কেটিং রিঙ্ক তৈরি করে। ফলে ওই রিঙ্কটিকে দেখতে বরফের সমুদ্র মনে হতো। আর মাছগুলোকে মনে হতো চলতে চলতে হঠাৎ বরফে আটকে গেছে। প্রথমে জনপ্রিয়তা পেলেও পরে সমালোচনার মুখে পার্কটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় তারা।
পার্কটি তাদের আইস রিঙ্কে নানা জাতের মাছ, কাঁকড়া আর শেলফিশসহ ৫ হাজার প্রাণীকে বরফ করে থাকে। শীতকালীন এই বিশেষ আকর্ষণের নাম দেয়া হয় ‘ফ্রিজিং পোর্ট’। স্কেটিংয়ের জন্য বরফের মেঝেযুক্ত এলাকাটি উন্মুক্ত করার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কিছু ছবি পোস্ট করে। ছবিতে দেখা যায় বেশ কিছু মাছ বরফে জমাট বাঁধা অবস্থায় আছে। মাছের কথা হিসেবে ক্যাপশন দেয়া হয় ‘আমি ডৃডৃ ডুবে যাচ্ছি, দৃদৃ দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’
‘স্পেস ওয়ার্ল্ডে’র ব্যবস্থাপক তোশিমি তাকেডা সিএনএনকে জানান, ‘ দুই সপ্তাহ আগে এই আইস স্কেটিং রিঙ্ক খুলে দেয়ার পর থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে স্থানীয় টেলিভিশনে এটি নিয়ে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে আমরা ভয়াবহ সব প্রতিক্রিয়া লক্ষ করি। সবগুলো মাছই স্থানীয় মাছের বাজার থেকে কেনা হয়েছিল এবং বরফ জমানোর আগেই সবগুলো মৃত ছিল। বাজার থেকে ফেলে দেওয়া মাছগুলোকেই আমরা ব্যবহার করেছিলাম।’
কিন্তু তাকেদার মন্তব্য গ্রহণ করেননি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তারা স্পেস ওয়ার্ল্ডকে ‘জাপানের লজ্জা’ বলে আখ্যা দেন। কেউ পোস্ট করেন, ‘বরফীভূত মাছের উপরে স্কেটিং করা পাপজনক’। কেউ লিখেছেন ‘স্পেস ওয়ার্ল্ড খাবারের জিনিসকে খেলনায় পরিণত করেছে।’
সামাজিক মাধ্যমে ‘প্রাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা’ জানানোর অভিযোগ উঠলে রোববার থেকে স্কেটিং সেবা বন্ধ ঘোষণা করেছে পার্কটি। স্কেটিং রিঙ্ক থেকে মাছগুলো বের করার পর ডিসেম্বরে পার্কটি খোলা হবে। তোশিমি জানান, কর্তৃপক্ষ আইস রিংকের বরফ গলিয়ে মাছসহ সব সামুদ্রিক প্রাণী সরিয়ে ফেলবে, যথাযথ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে এবং এরপর প্রাণীগুলোকে সার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ‘বিনোদনের জন্য প্রাণীর ব্যবহার অনুচিত কাজ’ শীর্ষক বহু মন্তব্য পেয়েছি, এই কাজের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ