ঢাকা, বুধবার 30 November 2016 ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা চুক্তি বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের

২৯ নবেম্বর, রয়টার্স/সিএনএন: যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন। ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘কিউবা তার দেশের জনগণ, কিউবান-আমেরিকান নাগরিক এবং সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ভালো একটি চুক্তি করতে আগ্রহী না হলে আমি যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা চুক্তির ইতি টানবো।’ কিউবার শোকাহত জনগণ যখন বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সময়ে আক্রমণাত্মক এ টুইট করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থানকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’র নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কিউবার সঙ্গে দীর্ঘ বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে কিউবার সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য, ভ্রমণ এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অগ্রগতি লাভ করে। ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুর পর শনিবার এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর তার প্রশাসন কিউবানদের মুক্তি এবং অগ্রগতির জন্য যা করা দরকার, তা-ই করবে।
বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘যদিও ফিদেল কাস্ত্রোর জন্য যে ট্র্যাজেডি, মৃত্যু এবং বেদনা সহ্য করতে হয়েছে, তা আমরা মুছে ফেলতে পারবো না। তবে আমাদের প্রশাসন কিউবার জনগণের মুক্তি ও অগ্রগতি নিশ্চিতের জন্য কাজ করবে।’
ট্রাম্পের আশা, কাস্ত্রোর মৃত্যুর পর কথিত সেই বিভীষিকার অবসান হবে। তিনি আরও বলেন, ‘কিউবা এখনও এক কর্তৃত্ববাদী দ্বীপ। আজ আমি প্রত্যাশা করছি, এই আতঙ্ক খুব বেশিদিন থাকবে না, আর তা কিউবানদের এমন এক ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করবে, যা তাদের একান্ত প্রাপ্য।’
উল্লেখ্য, ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ফিদেল কাস্ত্রোর ভূমিকা কী, তা নিয়ে বিভক্তি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। অর্ধশতাব্দী কিউবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে তিনি সমালোচকদের চোখে একনায়ক। তবে বেশিরভাগ কিউবাবাসীর কাছে তিনি মহানায়ক। যিনি জাদুর কাঠিতে বদলে দিয়েছিলেন দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশকে।
কিউবার দাবি অনুযায়ী, কাস্ত্রো ৬৩৪টি হত্যা পরিকল্পনা এবং চেষ্টা থেকে রেহাই পেয়েছেন। এগুলোর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহিষ্কৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর ষড়যন্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। বিষাক্ত ওষুধ, বিষাক্ত চুরুট কিংবা বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত সাঁতারের পোশাকসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল।
গত শুক্রবার ৯০ বছর বয়সী এ নেতার জীবনাবসান হয়। ফিদেলের ভাই এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোই তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে ৯ দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। ৪ ডিসেম্বর কিউবার সান্তিয়াগোতে তাকে সমাহিত করা হবে।
মিশিগানেও জয়ী ট্রাম্প : প্রসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছেন। রাজ্যটির নির্বাচন দফতরের সচিব সোমবার এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ওই অঙ্গরাজ্যে ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে ১৬টি।
মিশিগানে ট্রাম্প জিতেছেন ১০ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে। হিলারি পেয়েছেন ২২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৯টি পপুলার ভোট (৪৭.৩ শতাংশ), আর ট্রাম্প পেয়েছেন ২২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪৩টি পপুলার ভোট (৪৭.৫)। এই জয়ের ফলে এখন ট্রাম্পের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৬-এ। অপরদিকে, ডেমোক্রাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের রয়েছে ২৩২টি ইলেক্টোরাল ভোট। উল্লেখ্য, মিশিগানই একমাত্র অঙ্গরাজ্য, যার ফলাফল এতোদিন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই এখানকার ফলাফল জানাতে কর্তৃপক্ষ সময় নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোট গণনায় হিলারি ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ২০ লাখ পপুলার ভোট বেশি পেয়েছেন।
হিলারি ও ট্রাম্পের ভোটের ব্যবধান কম রয়েছে, এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতে ইতোমধ্যে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন গ্রিন পার্টির জিল স্টেইন। তিনি মিশিগানেও ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হচ্ছেন টম প্রাইস! : নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর টম প্রাইস। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান দলীয় এ সদস্য একজন অর্থোপেডিক সার্জন। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে তার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার খবর জানিয়েছে রয়টার্স। এছাড়া নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য আটলান্টা জার্নাল কনসোর্টিয়ামও একই ধরনের খবর দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করবেন ট্রাম্প। আর তার আগেই ক্ষমতা হস্তান্তর ও সরকার গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোনীত করার কাজ চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ