ঢাকা, বুধবার 30 November 2016 ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উইন্ডোজের ৩২ বছরের সাফল্য

আহমেদ ইফতেখার : ৩১ বছর আগে ১৯৮৫ সালে পার্সোনাল কম্পিউটারের বিপ্লবের শুরু হয়। আজকের ব্যবহৃত উইন্ডোজের আধুনিক সংস্করণ হয়ে ওঠার মাইলফলক ছিল সেটি। চলতি বছর ৩১ বছর পূর্ণ করল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ। ১৯৮৩ সালে প্রথম এ অপারেটিং সিস্টেমের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু এরও দুই বছর পর অর্থাৎ ১৯৮৫ সালের ২০ নবেম্বর বাজারে ছাড়া হয় উইন্ডোজ ১.০। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৭৫ শতাংশ ডেস্কটপ কম্পিউটারেই ব্যবহার হচ্ছে উইন্ডোজ। এ অপারেটিং সিস্টেম দিয়েই প্রতিটি পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে মাইক্রোসফট।
মাইক্রোসফটের ঈর্ষণীয় সাফল্যের ফলে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস অধিষ্ঠিত হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রথম সংস্করণকে উইন্ডোজের পরিবর্তে ‘ইন্টারফেস ম্যানেজার’ নামকরণ করতে চেয়েছিলেন বিল গেটস। তিনি তার চাওয়া থেকে সরে না এলে আজ হয়তো ইন্টারফেস ম্যানেজার নামেই পরিচিতি পেত জনপ্রিয় উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রথম সংস্করণকে পারসোনাল কম্পিউটারের (পিসি) সক্রিয় ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিক সফটওয়্যার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন গেটস। উইন্ডোজ ১.০ সংস্করণের নকশাও করা হয়েছে সেভাবেই। ওএসটিতে পয়েন্ট এবং ক্লিক করে বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালুর সুবিধা ছিল। এতে পেইন্ট, ক্যালকুলেটর, কার্ডফাইল, নোটপ্যাড এবং রাইটে ওয়ার্ড প্রসেসরের মতো ফিচারগুলো ছিল। উইন্ডোজ ১.০-এ ১৬-বিট রঙিন ইন্টারফেস ছিল। আর এ অ্যাপ্লিকেশনের সাইজ ছিল ১ মেগাবাইটের কম। পিসিতে সফটওয়্যারটি ইন্সটলের জন্য ন্যূনতম ২৫৬ কিলোবাইটের দু’টি ডাবল-সাইডেড ফপি ডিস্ক ড্রাইভ এবং একটি গ্রাফিক্স অ্যাডাপ্টার কার্ড থাকা আবশ্যক ছিল। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ এ মাউসের ব্যবহার শুরু হয়। সে সময় এমএস ডস ব্যবহার করতে হলে শুধুমাত্র টাইপ দিয়ে কমান্ড করতে হতো। কিন্তু মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ তে মাউস ছিল এবং কোনো কিছু পয়েন্টিং ও কিক করা যেত। আসল ম্যাকিনটোশে মাউসের ব্যবহার কাস্টমারদের এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়। কিন্তু সে সময় অভিযোগ আসে যে, মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১ কিবোর্ডের থেকে মাউসের ব্যবহারেই বেশি জোর দিয়েছিল। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজের প্রথম সংস্করণটি তেমন জনপ্রিয়তা না পেলেও এটি অ্যাপল, আইবিএমের সাথে মাইক্রোসফটের জনসাধারণের কাছে কম্পিউটিং সিস্টেম পৌঁছে দেয়ার প্রতিযোগিতাকে উসকে দিয়েছিল। ১৯৮৫ সালে বাজারে আসা মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ তে ২৫৬ কিলোবাইটের মেমোরি ও গ্রাফিক্স কার্ডের দু’টি ফপি ডিস্ক ছিল। অনেকগুলো প্রোগ্রাম একত্রে চালাতে ব্যবহারকারীকে হার্ড ডিস্কসহ ৫১২ কিলোবাইটের মেমোরি সংযোজন করার দরকার পড়ত। মাত্র ২৫৬ কিলোবাইটের মেমোরি দিয়ে তেমন কিছু করাই যেত না। কিন্তু ওই সংস্করণের ভিত্তিগুলোই ছিল শুরু। অ্যাপল যখন মাউসভিত্তিক জিইউআই নির্মাণে ব্যস্ত তখন, মাইক্রোসফট হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সমন্বয় করতে ব্যস্ত ছিল। মাইক্রোসফট তখনই আইবিএম পিসির জন্য কম দামি ‘পিসি ডস’ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে। আর বাজারে নিজেদের সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০-এর মাধ্যমে মাইক্রোসফট অ্যাপস এবং কোর সফটওয়্যারের দিকে গুরুত্ব দেয়। হঠাৎ করে পিসি নির্মাতারা মাইক্রোসফটের দিকে ঝুঁকতে থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উইন্ডোজে আকৃষ্ট হয়। হার্ডওয়্যারের জন্য সফটওয়্যার তৈরিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ আগ্রহ মাইক্রোসফটকে একটি বিশাল প্লাটফর্ম প্রদান করে। এ প্লাটফর্মটি আপনাকে উইন্ডোজের প্রত্যেকটি সংস্করণ আপগ্রেড করার সুযোগ দেয়।
উইন্ডোজের প্রথম সংস্করণের সাফল্যের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উইন্ডোজ এনটি উন্নয়ন করে মাইক্রোসফট। এটিই ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এবং অরিজিনাল ৩২-বিট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম। এটিকে পোর্টেবল সিস্টেমসও বলা হতো। বিজনেস গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এর নকশা করা হয়।
১৯৮৮ সালে বিক্রির দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ পিসি সফটওয়্যার নির্মাতার আসন দখল করে মাইক্রোসফট। নব্বইয়ের দশকে উইন্ডোজ ১.০ অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে পিসি ওএস বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করে সংশ্লিষ্টরা। উইন্ডোজ ৯৫ অপারেটিং সিস্টেমে আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। ওএসটিতে প্রথমবার যুক্ত করা হয় স্টার্ট মেনু, টাস্কবার, মিনিমাইজ, ম্যাক্সিমাইজ এবং কোজ বাটনের মতো জনপ্রিয় কয়েকটি ফিচার। ১৯৯৮ সালের ২৫ জুন উইন্ডোজ ৯৮ অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত করে মার্কিন সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এটিই প্রথম উইন্ডোজ ওএস, যা সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ে ব্যবহার উপযোগী করে নকশা করা হয়। পাশাপাশি উইন্ডোজ ৯৮ ছিল প্রতিষ্ঠানটির এমএস-ডসভিত্তিক শেষ অপারেটিং সিস্টেম।
উইন্ডোজ সেভেন উন্মোচনের আগেই সফটওয়্যারটির বেটা সংস্করণ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, উইন্ডোজ ভিস্তার পরবর্তী সংস্করণ উইন্ডোস সেভেনের মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টির দিক থেকে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে মাইক্রোসফট। ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর উইন্ডোজ এক্সপি উন্মুক্ত করে। এ যাবৎ কালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি বিক্রীত পণ্যগুলোর মধ্যে উইন্ডোজ এক্সপি অন্যতম। অপারেটিং সিস্টেমটির নকশা গ্রাহকবান্ধব হওয়ায় উন্মোচনের অল্প সময়েই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে। এছাড়া ওএসটির বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং মেমোরি ব্যবস্থাপনায় যোগ করা হয়েছিল উন্নত প্রযুক্তি। এখনো বিশ্বব্যাপী বেশির ভাগ পারসোনাল কম্পিউটারেই উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৩০ বছর ধরে পারসোনাল কম্পিউটার ব্যবস্থাকে শাসন করে চলেছে। মাইক্রোসফট ক্রমাগত উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ বের করে চলেছে এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তবে আধুনিক স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেটের বাজার দখলের জন্য মাইক্রোসফট সংগ্রাম চলছে। আগামী দিনে মাইক্রোসফট এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে মোবাইল বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সম হতেও পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ