ঢাকা, বুধবার 30 November 2016 ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চারঘাটে বড়াল নদীর স্লুইস গেট এখন অভিশাপ ॥ হ্রাস পাচ্ছে জমির উর্বরতা

মো. শহীদুল ইসলাম, চারঘাট (রাজশাহী) থেকে : রাজশাহী জেলার ২২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত চারঘাট উপজেলা। এই উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা এবং পদ্মার শাখা নদী বড়াল। আর এই বড়াল নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণ করায় কয়েক হাজার একর জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন। ফলে এটি এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড়াল নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণের কারণে বন্যার পানিতে নদী প্লাবিত না হওয়ায় এবং ভরাট ভরাট হয়ে যাওয়ায় জমির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে এবং শুস্ক মওসুমে ভাটি একলায় কৃষি কাজের পানি সংকট দেখা দেয়া দেয়। এ বড়াল নদীর চারঘাটে পদ্মা থেকে বেরিয়ে পদ্মা বাঘাতিপাড়া বড়াই গ্রামে ও শুরুদাসপুর  থানা হয়ে পাবনা জেলা পেরিয়ে সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীতে পৌঁছে। এ নদীর রয়েছে কয়েকটি শাখা নদী ও অসংখ্য নালা। এর মধ্যে মৃসা ইসা খাঁ শাখা নদীটিই বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই নদীর কোল ঘেঁষে রয়েছে বিখ্যাত তাহেরপুর ঝলমলিয়া হাট। ২০ বছর আগেও বর্ষার সময় বন্যার বড়াল ও মুসা, খাঁ নদী কানায় কানায় ভরে যেত স্রোতও ছিল তখন প্রখর। যে সময় শাখা নদী ও নালা দিয়ে পলি মিশ্রিত ব্যার পানি মাঠে প্রবেশ করে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেত। এলাকার কষৃকরা ঐ সব জমিতে ফসল আবাদ করে দ্বিগুণ ফসল ঘরে উঠাত। ১৯৮৪ সালে চারঘাট বড়াল নদীর উপর স্লুইস গেট নির্মাণ হয়। তারপর থেকেই বড়াল নদী মৃতপ্রায়। বন্যার সময় স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারে না। এক সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় পাল তোলা নৌকা আসতো ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। এরূপভাবে বর্ষায় সময় স্লুইস গেট বন্ধ থাকলে আগামীতে এলাকাটি মরু ভূমিতে পরিণত হবে বলে আংশকা করা হচ্ছে। এলাকার অভিজ্ঞমহল মনে করছেন স্লুইস গেট উঠিয়ে ব্রীজে রূপান্তরিত করা হলে এলাকার কৃষকরা সমস্যা সমাধান করে কৃষিখাতে উন্নয়ন বৃদ্ধি করা যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ