ঢাকা, বুধবার 30 November 2016 ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাহানূরের চিকিৎসা রাষ্ট্রীয় খরচে করার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যুবলীগ নেতা কর্তৃক মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পা হারানো শাহানূর বিশ্বাসের চিকিৎসার সকল ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শাহানূর বিশ্বাস ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত ২২ নবেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চের নিরর্দেশনা মোতাবেক শাহানূর বিশ্বাসের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে সরকারের প্রতিবেদন দাখিলের পর এই আদেশ দেয়া হলো। আদালত স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিকিৎসার ব্যয় সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছেন। আর নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন পুলিশের আইজি ও ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি)।
ডেপুটি এর্টনি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস এদিন আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেন।
এর আগে গত ২২ নবেম্বর শাহানূর বিশ্বাসের দুই পা হারানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামীদের আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপারকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবরের ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার নলভাঙ্গা গ্রামের শাহানূর বিশ্বাসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় শাহনূরের ভাই মহিনূর ১৬ জনকে ও তার অপর আত্মীয় মো. ইয়াকুব আলী ৭ জনকে আসামী করে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করেন। দু’জন আসামীকে গ্রেফতার করা হলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন। মামলার প্রধান আসামী কামাল নলভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ইয়াকুব আলীর দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামীরা প্রথমে লোহার শাবল দিয়ে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় শাহানূরকে। পরে হাতুড়ি ও ছেনি দিয়ে হাঁটুতে আঘাত করে। দলের অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পেটায়। এতে শাহানূরের মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়।
শাহানূর এখন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন। পেশায় বর্গাচাষী শাহানূরের দুটি পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। তার পায়ে এ পর্যন্ত মোট চারবার অস্ত্রোপচার হয়েছে, ২০ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।
তার বড় মেয়ে যশোর মহিলা কলেজে সম্মান প্রথম বর্ষে পড়তেন। প্রায় ২৩ মাইল দূরে কলেজ। বখাটেদের উৎপাতে তিনি লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছেন। শাহানূরের আত্মীয় ইয়াকুব আলী বলেন, মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় শাহানূরকে পা হারাতে হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ