ঢাকা, বুধবার 30 November 2016 ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ২৯ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২৮ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার ট্রলারসহ ৭ জন গ্রেফতার

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র এলাকা হতে ২৮ কোটি টাকা মূল্যের ৭ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফিশিং ট্রলারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে যে, মায়ানমার এবং এ দেশীয় চোরাচালানীদের বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীচক্র মাছের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। মাদক ব্যবসায়ীরা বর্তমানে তাদের রুট পরিবর্তন করে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে না নিয়ে এসে টেকনাফ থেকে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের মাঝ দিয়ে বরিশাল, বরগুনা এবং পটুয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে দেশের সর্বত্র সরবরাহ করছে। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, একটি মাদক সিন্ডিকেট ফিশিং ট্রলারের অন্তরালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার হতে বরগুনার পাথরঘাটার দিকে যাত্রা করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ নবেম্বর দুপুরে লেঃ কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ, অধিনায়ক, র‌্যাব-৭ এর নেতৃত্বে একটি দল চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রে একটি মাছ ধরার ট্রলারকে ধাওয়া করে আটক করে। পরবর্তীতে আটককৃত ট্রলার (এমভি রিফা) তল্লাশি করে ট্রলারের পাটাতনের নিচে সুকৌশলে লুকানো ৭ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে। যাদের মধ্যে ৪ জন মায়ানমারের নাগরিক। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মোঃ ফারুক (২৯), পিতাঃ গোলাপ হোসেন, পানছড়ি, মন্ডলপাড়া, সাবরাং, টেকনাফ, কক্সবাজার। মোঃ নবী হোসেন (৩৮), বার্মা, পিতাঃ নুর মোহাম্মদ, বর্তমান ঠিকানাঃ গোদারবিল ৬ নং ওয়ার্ড, টেকনাফ, কক্সবাজার (৩০ বছর আগে বাংলাদেশে আসে) ট্রলারের মাঝি। মোঃ ইসাক (৩০), বার্মা, পিতাঃ মোঃ ইদ্রিস, নতুন পালং পাড়া, টেকনাফ, কক্সবাজার ( ছোট বেলায় বাংলাদেশে আসে) ইঞ্জিন ম্যান। মোঃ শরিফ হোসেন (৩৭), বার্মা, পিতাঃ নুর হোসেন, গ্রামঃ আড়িপাড়া, থানাঃ ফকটু, জেলাঃ আইক্কাপ বর্তমান ঠিকানাঃ গ্রামঃ হালিমাপাড়া, থানাঃ টেকনাফ, জেলাঃ কক্সবাজার (১৩ বছর আগে বাংলাদেশে আসে)। মোঃ ফারুক (৩৮), পিতাঃ মৃত আবুল হাসেম, গ্রামঃ দক্ষিণ তালুকের চর দোহানী, পোঃ বোরযোগপুর, থানাঃ পাথরঘাটা, জেলাঃ বরগুনা। মোঃ সামছুল (১৯), পিতাঃ নবী হোসেন, বর্তমান ঠিকানাঃ গ্রামঃ সপলংডী, থানাঃ কক্সবাজার, জেলাঃ কক্সবাজার। নুরুল আমিন (৩৯), বার্মা, পিতাঃ মৃত আব্দুর রহমান, গোদারবিল, টেকনাফ, কক্সবাজার (ছোট বেলায় বাংলাদেশে আসে)। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা এ পর্যন্ত মোট তিন বারে ২ লাখ করে মোট ৬ লাখ ইয়াবা মায়ানমার থেকে বরিশালে নিয়ে আসে এবং চতুর্থ বারে ৭ লাখ পিস ইয়াবা চালানের সময় র‌্যাব কর্তৃক ধৃত হয়। আরো জানা যায়, উক্ত ইয়াবার মালিক মোঃ ফারুক (২৯), পিতাঃ গোলাপ হোসেন, পানছড়ি, মন্ডলপাড়া, সাবরাং, টেকনাফ, কক্সবাজার এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার মোঃ আবুল কালাম (৩০), পিতাঃ অলি আহম্মদ, গ্রামঃ পানছড়িপাড়া, সাবরাং, টেকনাফ। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ২৮ কোটি টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ