ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 December 2016 ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩০ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাড়ির ছাদে সবজি চাষ

আদমদীঘিতে বসতবাড়ির ছাদে সবজি বাগান

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সদরে হাজী তাছের আহম্মদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আহমেদ নাইডু তার বসতবাড়ীর ছাদে সবজির চাষ করেছেন। এতে তিনি সাফল্যও পেয়েছেন বেশ ভালো।
জানা যায়, গত প্রায় ৫ বছর ধরে মওসুম অনুযায়ী বাড়ির ছাদে বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি চাষ করে আসছেন। এসব সবজি নিজেদের চাহিদা ও প্রয়োজন মিটিয়ে আত্মীয় স্বজন এমনি বাজারে বিক্রিও করে থাকে। তিনি তার ছাদে লালশাক, পালং শাক, শিম, কুমড়া, লাউ, লেবু, পিয়াজ, শশা, বেগুন, মরিচ, টমেটো, ডালিম, জাম্বুরা, মালটা, ছফেদা, সুইট লেবু ও পিয়ারাসহ হরেক রকম সবুজ সবজি চাষ করে থাকেন।
বাড়ির ছাদে সবজি চাষ সম্পর্কে মোস্তফা আহমেদ জানান, আমার বয়স প্রায় (৫৫) আমাদের বয়সে যেসব সবজি খেয়েছি তা এখনকার বাজারে আর পাওয়া যায় না। যা ও পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে সার, রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত। টাটকা সবজি খাদ্য উপাদান পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। ছাদে সবজি চাষে সবজি গাছে পোকামাকড় সহ বিভিন্ন রোগ বালাই আক্রমণ কম হয়। ছাদে মাত্র একবার মাচা তৈরি করে কয়েক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মওসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা সম্ভব হয়। এতে তেমন কোন সময় ও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয় না। মওসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করা যায় এবং তাতে ফলনও ভাল হয়। বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে সংসারে বাড়তি খরচ বাঁচানো সম্ভব। ফলে পরিবারের বাড়তি আয়েরও একটা পথ তৈরি হয়েছে এবং বিষমুক্ত সবজি নিজের পরিবারে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, গত বছর শীত মওসুমে এসব সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বিলি করা হয়েছে। এতে করে ভাল সবজি পরিবারের লোকজনসহ আত্মীয় স্বজন পেয়েছে এটাও আমার এ পরিশ্রমের কারণে। ছাদে সবজি চাষ করার আগ্রহ ও এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার ছেলে কামরুল হাসান কুমু ও ভাতিজা আবু তালহা (জীম)। তবে এ বছর অনেক প্রকার সবজি চাষের মধ্যে লাউ চাষ করা হয়েছে একটু বেশি। লাউয়ে এবার প্রচুর মোচা হলেও ছত্রাকের আক্রমণ লক্ষ করা যাচ্ছে। যেমন পোকা মাকড়ের আক্রমণ, বীজ রোপনের উপযুক্ত সময় নির্বাচন, ফলনকালীন সময়ে ফলের পচন ইত্যাদি। এসময় নিকটস্থ কোন কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি ও পরামর্শ পেলে আরো ভাল ফলন হবে বলে আশা করা যায়। তিনি আরো বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে মহাসড়ক রাস্তার ধারে যে হারে মিল কারখানা ও বসত বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে এতে করে এক সময় ফসলি জমি পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে এ পদ্ধতি সবজি চাষের উপর উপজেলার প্রায় ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ছাদে সবজি চাষ করে সকলেই সবজির চাহিদা মেটাতে পারেন।
এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সর্বাধিক সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া সামনে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষের উপর আরেকটি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ