ঢাকা, শুক্রবার 02 December 2016 ১৮ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুমিল্লায় ১০ মাসে ১৩২ জন খুন

কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, কুমিল্লা দক্ষিণ : কুমিল্লায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। চলতি বছরে সংঘটিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার অপরাধ। সীমান্তবর্তি অঞ্চল হওয়ায় অবৈধ অস্ত্র হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। এ অস্ত্র  ব্যবহার বা বহন করা যে তাদের কেছে কোন অপরাধই নয়। খুন, নারী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, পরকিয়া, চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে গুলি, চাপতি ও টেঁটাদিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। এসব অবৈধ অস্ত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধারের তালিকা খুবই নগণ্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ মাসে জেলায় খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৩২টি। একই সময়ে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, চুরি ডাকাতি, অপহরণ, পরকিয়া, দ্রুত বিচার, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। অনুসন্ধান ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের মাসিক পর্যালোচনা রিপোর্টে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, জানুয়ারি মাসে খুনের ঘটনায় ৯টি, নারী ও শিশু নির্যাতনে ৩৬টি, অস্ত্র মামলা দুটি, মাদক ২০৭সহ অন্যান্য অপরাধে মোট মামলা হয়েছে ৪৩৬টি। ফেব্রুয়ারি মাসে খুনের ঘটনায় ১৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৩৮টি , অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৭টি, মাদক সম্পর্কিত ৩৪২ সহ অন্যান্য অপরাধে মোট মামলা হয়েছে ৫০০ টি। মার্চ মাসে খুনের ঘটনায় ১৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৬১টি, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৮টি, মাদক সম্পর্কিত ১৮৯টি সহ অন্যান্য অপরাধে মোট মামলা হয়েছে ৪৯২টি। এপ্রিলে খুনের ঘটনায় ১৫টি, নারী ও শিশু নির্যাতনে ৪৩টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৩, মাদক সম্পর্কিত ১৮৮, সহ বিভিন্ন অপরাধে মোট মামলা হয়েছে ৪৯৯। মে মাসে খুনের ঘটনায় ১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৭টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৮টি, মাদক সম্পর্কিত ১৭৫টি সহ অন্যান্য অপরাধে মোট মামলা হয়েছে ৫০৫টি। জুন মাসে খুনের ঘটনায় ১০টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৫২টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৭, মাদক সম্পর্কিত ২০৯টি, মোট অপরাধ ৫৪৬টি। জুলাই মাসে খুনের ঘটনায় ৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৯টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৬টি, মাদক ১৭১, মোট অপরাধ ৪৫৪টি। আগস্টে খুনের ঘটনায় ১০টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪২টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ১৪টি, মাদক সম্পর্কিথ ৩৩১টি, মোট অপরাধ ৬৪৯। সেপ্টেম্বরে খুনের ঘটনায় ১৪টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৭টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ১৪টি, মাদক ২৪১, মোট অপরাধ ৫৩৫। অক্টোবরে খুনের ঘটনায় ১৪, নারী ও শিশু নির্যাতন ৪৮টি, বৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও বহনে ৮টি, মাদক সম্পর্কিত ৩২০টি সহ মোট অপরাধের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৫৭৩টি।

এদিকে, নভেম্বর মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত শুধু এ মাসেই খুনের ঘটনা ঘটেছে ১০টি। এর মধ্যে গত ৮ নভেম্বর-দাউদকান্দির গৌরীপুর পেন্নাই এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসাইন সরকার ও গাড়িচালক মহিউদ্দিনের হত্যাকাণ্ডটি ছিল বেশ আলোচিত। ১৩২টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে বেশ কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ঘটে যাওয়া কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডটি অন্যতম, যা নিয়ে কুমিল্লাসহ দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। যদিও ওই হত্যাকাণ্ডের এখনো কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আগস্টে সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ছিল শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে কুমিল্লা বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ড। ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ২৩ আগস্ট ভোর ৬টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ‘প্রশান্তি’ নামে এক বেসরকারি ছাত্রী নিবাসের (মেস) নিচতলায় বিস্ফোরণে ফাহমিদা হাসান নিশা দগ্ধ হন। ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নিশা মারা যান। গত ১৪ আগস্ট রাতে কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেটে স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৩০) ও ছেলে নাফিস (দেড় বছর) হত্যা করে নাসিমার স্বামী নাজমুল হাসান। গত ১২ আগস্ট রাতে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাইতরী গ্রামের জামাল হোসেন (৬০) ও একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের (৪৫) খুনের ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা মহানগরীর দক্ষিণ রসুলপুর (ঢুলিপাড়া) এলাকায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র মো. আল সফিউল ইসলাম ছোটন তার সৎ ভাই মেহেদী হাসান জয় ও মেজবাউল হক মনিকে গলাটিপে হত্যার ঘটনাটি বেশ আলোচিত হয়। গত ৮ মে চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নির্বাচন চলাকালে মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাপসচন্দ্র দাসকে। এ ছাড়াও ২৯ মে পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন চলাকালে তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তোফায়েল আহাম্মদের সমর্থকেরা একই ইউনিয়নের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিনকে কুপিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা করে। গত ১৩ মে রাতে মনোহরগঞ্জে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে (৩০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। একই দিন ভোরে সদর উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আরিফ ও তার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন আদর্শ সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ব্যবসায়ী একেএম রকিব উদ্দিন মুকুল। সর্বশেষ চলতি সনে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে গত ৮ নভেম্বর দাউদকান্দির গৌরিপুর পেন্নাই এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসাইন সরকার ও গাড়িচালক মহিউদ্দিনের হত্যাকাণ্ডটি। এছাড়াও গত ৭ নভেম্বর বুড়িচং উপজেলার নিমসার গ্রামে মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শিক্ষার্থী হাফেজ সালমান খান সবুজ ও মোক্তার হোসেন নামে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ