ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন কমিশন

ডা. মো. মুহিবুল্লাহ : পাঁচ বছরের জন্য সৎ, যোগ্য,চরিত্রবান, ধার্মিক ও নিঃস্বার্থ একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে নাগরিক হিসেবে আমি মাটি ও মানুষকে কি উপহার দিলাম তা নির্ভর করে একমাত্র নির্বাচন কমিশনের শক্তি, সততা, ও আমানতদারিতার সচ্ছতার উপরে। আমি ভোটাধিকার শত পেলেও ফল প্রকাশ যদি নির্বাচন কমিশনের যথেচ্ছাচারিতায় হয়, তাহলে আমার ভোট দেয়া না দেয়া শুধুই বৃথা নয় কী। বরং উল্টা দেশ ও জাতির ঘাড়ে কোনো এক জগদ্দল পাথর চাপিয়ে দেয়ার বৈধ প্রমাণ বিশ্বের পর্যবেক্ষকদের হাতে তুলে দিতে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা ছাড়া আর কিছুই নয়।আবার দিনের আলোতে ভোট গ্রহণটা যদি শুধু নির্বাচন নামক নাটক মঞ্চস্থ করাই হয় মাত্র। যার ভোট নির্বাচনের আগের রাতেই Collection Complete   হওয়া। এমনটাও হতে পারে শুধুমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায়।আর ভোটাধিকার হরণ করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন থেকে ভোট বঞ্চিত করার পরেও যেসকল নির্বাচন কমিশন মানসম্মত ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি করে বিবৃতি প্রদান করে এবং নির্বাচনকেন্দ্র দখলের দাঙ্গায় অসংখ্য হতাহতকে খাটো করে দেখে "তুচ্ছ ও বিচ্ছিন্ন দু’একটি সহিংস ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে " এমন বক্তব্য প্রদান করে।এমন নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আর কি বলতে পারি! সে যে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের দোসর তা প্রতীয়মান হতে আর কার কাছেইবা বাকি থাকে।

নির্বাচন কমিশনের উপরে যদি গণমানুষ আস্থা পোষণের ভিত্তি না পায়, তা হলে সকল জনগণ ভোট প্রদানের আনন্দ, উৎসাহে ও প্রয়োজনীয়তা সবটাই হারিয়ে ফেলে।কারণ সুস্পষ্ট খেয়ানত- কারির কাছে আমানত রাখতে কোন অবুঝেরাইবা চেয়ে থাকে। জাতি তাদের দেশ ও জীবনযাত্রার জন্য কাকে কল্যাণকর মনে করে ভোট দিল তা যদি তারা খেয়ানতকারির কারণে উল্টে যেতে দেখে, তা হলে সেরকম বিশ্বাসঘাতক নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে আয়োজিত  নির্বাচন নামের নাটকের অভিনেতা না হয়ে ভোটারের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকে সময় অপচয় না করে মাঠে ১ কাঠা জমিনে ধান রোপণ করাটাই দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা বলে সকলে মনে করেন।

এখন নির্বাচন কমিশন গঠন ও তার ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল উভয়ের যদি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন না থাকে, তা হলে সে নির্বাচন কমিশন দ্বারা অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত করতে দারুন বেগ পেতে হয়। আবার নির্বাচন কমিশন যদি দুর্বল; শক্তিহীন অথবা অন্যের হাতের পুতুল হয়, তা হলেও তাকে কোনোরকম কাক্সিক্ষত নির্বাচন কমিশন বলা চলেনা। পক্ষান্তরে যদি তার আমানতদারিতার ধর্মীয় গুণ না থাকে তাহলে ভোট ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তার হাতে যা আমানত রেখেছে তা সে খেয়ানত করে তার পার্থিব স্বার্থ হাসিলের পথকে বিজয়ী করে ডিকলেয়ার দিতে পারে।

ইন্ডিয়া, আমেরিকাসহ পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচন দেখে বাংলাদেশের অতি সাধারণ ভোটারগণ আফসোস করে "হায়! সারা বিশ্বেও নির্বাচন দেখি, আর আমাদের দেশেও নির্বাচন দেখি। ঈদের মত আনন্দময়ী নির্বাচনে আজ ভোটও দিতে পারিনা। কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই নাকি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। একি আজব ব্যবস্থা? আবার একজনের সমর্থকরা ১০টা, ২০টা নয়, ২,৪ শত পর্যন্ত ব্যালটে সিল মারছে। পক্ষান্তরে অন্য দলের সমর্থকদেরকে কেন্দ্রেও আসতে দেয়া হচ্ছেনা। পথেঘাটে পেলেই কুপিয়ে ও গুলী করে হতাহত করা হচ্ছে। আবার এহেন ঘটনার সহোযোগিতায় প্রশাসন স্বত:স্ফুর্ত ভূমিকা পালনও করছে। দেখা যাচ্ছে আনসার, পুলিশসহ প্রিজাইডিং অফিসার পর্যন্ত সকলেই ব্যালটে সীল মারছে।"

নির্বাচন কমিশনের শক্তি থাকা সত্ত্বেও সে তার মনোনীত দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যদি সেনা মোতায়েন ছাড়া এমন ঘৃণ্যতম নির্বাচন উপহার দেয়। (বাংলাদেশ যার সাক্ষ্যবাহি।) তাহলে এমন নির্বাচন কমিশনকে কোননা কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বলা ছাড়া জাতির আর কোনো উপায় থাকে না।

যে অবস্থার উদাহরণ ঐতিহাসিক ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অবৈধ সরকারের অধিনে অনুষ্ঠিত সকল প্রকার নির্বাচন সমূহ। যে সকল নির্বাচনে সহিংসতা, ভোট ডাকাতি ও ফল প্রকাশে পেশীশক্তি প্রয়োগসহ সকল প্রকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার অবতারণা প্রতীয়মান। যা সকল অতিসাধারণ ভোটারদের কলিজায় দাগ কেটেছে। কিন্তু এ জাতি ৭০ এর নির্বাচনে স্বৈরশাসক পাকিস্তানকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছে জাতি। ৭০ এর নির্বাচন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলার প্রতিটি নির্বাচনে বাংলার জন্য ক্ষতিকর কীটদেরকে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সমুচিত জবাব দিতে হবে জাতিকে। আর সেজন্য বাংলাদেশের মানুষদের সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন এ জমিনে ফলাবার জন্য শক্তিশালী, সততাপূর্ণ ও আমানতদারিতার গুণে গুণান্বিত একটি নির্ভরযোগ্য নির্বাচন কমিশনের কোনো বিকল্প নেই।

তাই এ জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী আমাদের সরকারের কাছে একটা নিরপেক্ষ, নীতিবান, পরকালীন জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী একটা নির্বাচন কমিশনের দাবি। যার মাধ্যমে এ দেশে একজন দেশপ্রেমিক, সৎ ও যোগ্য জননেতা নির্বাচিত করে জনমনে শান্তির স্বর্গীয় পরিবেশ উপহার দেয়া সম্ভব হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ