ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যোগ্য দেশপ্রেমিক নির্বাচন কমিশন বড় প্রয়োজন

সাইফুল ইসলাম তানভীর : গত ২৯ নবেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ছিল ‘হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশনের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা’ (ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের অভিযোগের প্রতিকার না করে উপদেশ দেয়ার খেসারত)। প্রধান শিরোনামের ওই খবরে যা বলা হয়েছে তা থেকে প্রথম সামান্য কয়েকটি লাইন এখানে তুলে ধরছি। ‘ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়ার খেসারত দিল নির্বাচন কমিশন। সংক্ষুব্ধ এক প্রার্থীর দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট বলেছিলেন, কমিশন প্রার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে উপদেশ দিয়ে আদালত অবমাননা করেছে। এ ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)সহ ৫ কমিশনার আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। একজন কমিশনার ও কমিশনের এক আইনজীবী এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।’

নির্বাচন কমিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিশন। নির্বাচন কমিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানও বটে। এই কমিশনের প্রধান এবং অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তাছাড়া এর পূর্বে এই কমিশনের প্রধান এবং অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হতো বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী বিচক্ষণ ব্যক্তিদের থেকে। এখন সচিবদের থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে মনে পড়ছে বিচারপতি মাহফুজুর রহমানের কথা। তিনি এখন বেঁচে নেই। কিন্তু তার একটি ডায়ালগ বা একটি বিশেষ প্রশ্নের উত্তর এবং কিছু কথা এখনও আমার কানে যেন শুনতে পাচ্ছি। তখন ২০০৬ সাল। আ’লীগ পন্থী কিছুসংখ্যক আইনজীবীর সুপ্রীমকোর্টে তা-ব। বঙ্গভবনের সামনে অরাজকতা এবং বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেয়া। পল্টনসহ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বর্বর পৈশাচিক মানুষ হত্যার মহোৎসবের পর ২০০৭ সালে এলো ফখরুদ্দীন মঈনউদ্দীনের অবৈধ সরকার। ওদিকে রাষ্ট্রপতি নিজেই তত্ত্বাবধায়কের প্রধান হয়ে মারাত্মক সমালোচনার জন্ম দিয়ে, আবার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এ রকম ঘোলাটে পরিস্থিতির মধ্যে চরম তোপের মুখে ছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুল আজিজ। বিচারপতি আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন সৎ, বিচক্ষণ দাপুটে সিইসি। যার দ্বারা সম্ভব ছিল একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়া। সিইসি হিসিবে তিনি যে কোন রাজনৈতিক দলকে অন্যায়ভাবে জিতিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেন, তা তার ক্যারিয়ার বা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বুঝা যায়নি। পরবর্তীতে ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি করলে আব্দুল আজিজ নিজেই পদত্যাগ করেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত সিইসি হন বিচারপতি মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের (সিইসি) এই পদে সাধারণত বিচার বিভাগ থেকেই কেউ না কেউ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সচিবরা তো আমাদের জুনিয়র, তারা তো এমন পদে আসতে পারেন না।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন কথা তিনি বলেছিলেন। পরবর্তীতে সিইসি বানানো হয় ড. এটিএম শামসুল হুদাকে। যিনি এর পূর্বে সচিব ছিলেন। তিনি সিইসি হয়ে সিইসির সঠিক দায়িত্ব পালন না করে দল ভাঙ্গার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। নানান অনিয়ম করে তারা ২০০৮ সালে একটি প্রহসনের নির্বাচন দিলেন। যেখানে প্রধান টার্গেটই ছিল একটি দলকে জিতানোর। এটিএম শামসুল হুদার সাথে আরো কয়েকজনকে কমিশনার দেয়া হলো।  এটিএম শামসুল হুদার মেয়াদের পর এলেন সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। এটিএম শামসুল হুদা এবং তার টিম অন্ততপক্ষে মিডিয়ার সামনে বডি সোজা করে দু’চারটি কথা বলতে পারছিলেন। যদিও সেটা ছিল বড়ই ছলনার অংশ। কিন্তু এখন যে সিইসি আছেন তার কথা আমরা কিইবা বলতে পারি। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত নতজানু সিইসি কখনও হয়েছিল কিনা তা জানি না।  যারা এক সময় নির্বাচন কমিশনের প্রধানদের যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখতেন। এ রকম নতজানু নির্লজ্জ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলদের চরিত্র থাকার কারণে মানুষ ‘নির্বাচন’ কি তা ভুলে যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ কোনো জায়গায়ই বাস্তবে নির্বাচন হচেছ না। সরাসরি সরকার দলীয় লোকদের জনপ্রতিনিধি বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সমস্ত দেশে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছে। চারদিকে লুটপাট, মারামারি, হত্যা, ধর্ষণ। কারণ জনপ্রতিনিধি বলতে এখন কিছইু নেই। তারা জনসাধারণদের ওপর চরম নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে নিজেরা অর্থ আয় করছে। সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিইবা বলব। গোড়াতেই তো ওই নতজানু সিইসির কারণে আজ প্রশ্নবিদ্ধ একটা সরকার এদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে। শক্ত মেরুদণ্ডের এবং যোগ্য দেশপ্রেমিক একজন সিইসি এবং নির্বাচন কমিশন খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ