ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন কমিশন ভক্ষক না হয়ে রক্ষক হলেই ভালো হতো!

‘বাংলাদেশ’- যা সরকারের ঘোষণা মতে মধ্যম আয়ের ছুঁই ছুঁই একটি দেশ। এটি দেশের জনগণ হিসেবে আমাদের সবার জন্যই গর্বের বিষয়। আর বিশ্বের দরবারে এর মাধ্যমে অন্তত দরিদ্র দেশের তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে। এটি একটি দেশের জন্য ভালো লক্ষণ, সুসংবাদও বটে। তবে এ ভালোটা দেশের সব সেক্টরে হলেই ভালো হতো। আরেকটা দিক ভালো না বললেই নয়; সেটি হলো দেশে সর্বস্তরে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকার সক্ষম হয়েছেন ইতিমধ্যেই। 

যার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে নির্বাচন কমিশন। এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়। কারণ নির্বাচন কমিশন এর জন্য নিশ্চয়ই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সেটি যাকে উদ্দেশ্য করেই হোক বা যে কেন্দ্রিকই হোক, পজিটিভ বা নেগেটিভ একটা তো হবেই। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এত এত কষ্টের নির্বাচন, ব্যয়বহুল নির্বাচন, বহুজীবন নামের নির্বাচন ও ব্যাপক সময় ব্যয়ের এই ধারাবাহিক নির্বাচনগুলো দেশ-বিদেশের কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বরং শুধুই নিন্দা আর নিন্দাই কুড়িয়েছে। যার বাস্তব চিত্র প্রশাসনিক কারণেই দেখা সম্ভব হয়েছে। এত মজার নির্বাচন আমরা মোকাবিলা করেছি যে, স্বয়ং প্রার্থীই নির্বাচনের দিন সকাল ১০টার পূর্বেই গৃহে প্রত্যাবর্তন করেছে। যা কিনা একেবারে ইতিহাসে বিরল ঘটনা। পূর্বের শতভাগ সফল চেয়ারম্যানকেও শতভাগ ব্যর্থ প্রার্থী হিসেবে বসে যেতে বাধ্য করেছে। আর এরকম বহু দৃষ্টান্ত সারা দেশজুড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটাই প্রশ্ন জাতির যে, এই হাস্যকর নির্বাচন না দিয়ে, দেশের এত এত ক্ষতি না করে সরাসরি প্রতিটি সেক্টরে তাদের পছন্দের মানুষটিকে বসিয়ে দিলেই তো পারতো! একটু-আধটু সমালোচনা হয়ে পরে সবই ঠিক হয়ে যেত। 

তারপরও সরকারের অনেক অনেক উপকার হতো এবং পরোক্ষভাবে জনগণেরও উপকার হতো এবং ইতিমধ্যেই সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে ওপেন ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, আগামীতেও যত নির্বাচন হবে সবই আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে বা দিতে বাধ্য। যদিও এখন বলা যায় যে, তাহলে আর কেই বা এই নির্বাচন কমিশন। এই আইওয়াশ কমিশন না দিলেই তো হতো। তবে একটা হাঁড়িকাটা পথ নির্বাচন কমিশনের জন্য খোলা আছে, আর তা হলো কমিশনই যদি দিতে হয় তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার জন্য সেই কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও সাপোর্ট দিতে হবে নিরপেক্ষভাবে। আর তা নির্বাচন কমিশনের জন্যও এখন অস্তিত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শেষ আবেদন, পূর্বে যা হয়েছে হোক, বর্তমান থেকে আমরা সম্পূর্ণ নিয়মে চলে আসি। তাহলে অন্তত দেশের শেষ রক্ষা সম্ভব। নইলে শেষে দেশের অস্তিত্ব নিয়েই  টানাটানি পড়ে কিনা- কে জানে? -রেহানা বিনতে আলী

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ