ঢাকা, শুক্রবার 18 October 2019, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অভিশংসনের মুখোমুখি হচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই অভিশংসনের মুখোমুখি হচ্ছেন।এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তায় পার্লামেন্টে ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বিরোধীদলগুলো।

শুক্রবার বিরোধীদলগুলোর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।তবে পার্ককে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে কিনা এ ব্যাপারে তার নিজের দল এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

এরআগে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই পদত্যাগ করার পথ খোঁজার ব্যাপারে পার্লামেন্টের সহায়তা চান।

তবে বিষয়টিকে সময় ক্ষেপণ করে অভিশংসন এড়ানোর কৌশল অভিহিত করে প্রত্যাখান করেছে বিরোধীদলগুলো।

ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে এক পুরোনো বন্ধুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি অপব্যবহারের অভিযোগে বিপর্যস্ত হয়ে আছেন পার্ক। তাকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অব্যাহতভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে। 

যদি পার্ক পদত্যাগে বাধ্য হন তবে তা হবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারার ঘটনা।ধারণা করা হচ্ছে শনিবারও তার দ্রুত পদত্যাগ চেয়ে বড় ধরনের মিছিল-সমাবেশ হবে।

তিনটি বিরোধীদল মিলে জোটগতভাবে পার্লামেন্টে আসন সংখ্যা ১৬৫। দেশটির পার্লামেন্টে মোট আসন ৩০০। ফলে বিরোধীদলগুলো পার্লামেন্টে অভিশংসন আহ্বানের উপর ভোটের ডাক দিতে পারলেও তা পাস করতে সক্ষম হবে না। এক্ষেত্রে বিলটি পাসের জন্য দুইতৃতীয়াংশ ভোট পেতে পার্কের নিজের দলের কিছু সদস্যের ভোটও প্রয়োজন হবে।

প্রধান বিরোধী দল ডেমক্র্যাটিক পার্টির মুখপাত্র কিং দং-মিন বলেন, “এই উদ্যোগ আজকে প্রস্তাবিত হয়েছে। প্ল্যানারি সেশনে এটি ৮ ডিসেম্বর উপস্থাপিত হবে এবং ৯ ডিসেম্বর অভিশংসন চেয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে।”

বিরোধীদলগুলোর বক্তব্য, অভিশংসনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই প্রেসিডেন্টের উচিৎ ‘সম্মানের সঙ্গে’ ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া।

ইতিপূর্বে পার্ক দুই দফা ক্ষমা চেয়েছেন। তাকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক সংকট তার ‘মন ভেঙে দিয়েছে’ বলেও দাবি করেছিলেন। কিন্তু বরাবরই পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সেউলের অধিবাসীদের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে পার্কের জনপ্রিয়তা রেকর্ড ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। গালপ কোরিয়া এই জরিপ পরিচালনা করেছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় কাজে চোই শুন-সিল নামে এক বন্ধুর সহযোগিতা নেওয়া এবং তাকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিরোধীরা অব্যাহতভাবে পার্কের অভিশংসন দাবি করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ