ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাত জেগে পাহারা ॥ অপরাধ কমছে

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে রাত জেগে পাহারা  দেয়ায় কমেছে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ১০ জন গ্রাম পুলিশ পাহারা দেন। তাদের হাতে থাকে লাঠি ও টর্চ। গলায় ঝোলানো বাঁশি। এ ছাড়া নয়জন পুরুষ ইউপি সদস্য পালা করে পাহারার কাজে সহায়তা দেন। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি নিজেও কখনো কখনো হেঁটে,  মোটরসাইকেলে পাহারা দেন, তদারকি করেন। তাঁর বাড়ি রামচন্দ্রপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় রামচন্দ্রপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

রফিকুল ইসলাম প্রথম দফায় ২০১১ সালের ১৪ জুন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তখন ইউপি’র বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতি রাতে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটত। ইউপি’র তুলসীঘাট-বালুয়া সড়ক, বালুয়া-মনোহরপুর সড়ক, তিনগাছতলা এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি হতো। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান পাহারা বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৩ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে পাহারা চলছে।

ওই ইউপি’র ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যান নিজেও প্রায় সময়ই পাহারায় যোগ দেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে পাহারা দিই। সাধারণ মানুষ এটা ভালো চোখে দেখছেন।’ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহীন মিয়া বলেন, ‘এই পাহারার সুফল জনগণ পাচ্ছে। আমরাও পাচ্ছি। আমরা পাঁচজন ইউপি সদস্য পুনঃনিবাচিত হয়েছি।’

রহমতপুর গ্রামের কলেজছাত্র পাপুল রানা বলেন, আগে রাত ১০টার পরে বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই হতো। পাহারা বসানোর পর ছিনতাইয়ের ঘটনা আর ঘটছে না।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি, তাঁরা নিরাপত্তা চান। তাই নিজেই এ কাজে নেমে পড়ি। এর সুফলও পেয়েছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ