ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর সিদ্ধান্ত দেশবাসী মানবে না -মির্জা ফখরুল

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মুনাজাত শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিডিয়ার সাথে কথা বলেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সরকার রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নিতে চাইলে জনগণ সে সিদ্ধান্ত মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা দেশে আনার পরদিন গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, এই সরকার সচেতনভাবে চেষ্টা করছে মুক্তিযুদ্ধের মূলনায়ক, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ যিনি ঘোষণা দিয়েছেন, সেই জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের মাটি থেকে মুছে ফেলার জন্য। যেটা কোন দিনই সম্ভব হবে না। তার নাম বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, মাজার বলুন, পদক বলুন, অন্য কিছু বলুন তাদের হঠকারী এ সিদ্ধান্ত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। 

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংগঠনের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। এরপর জিয়াউর রহমানের কবর স্থানান্তরের গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভানেত্রী শামা ওবায়েদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহবুব আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম। এবার তাদের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা বহির্ভূত সব স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার পক্ষে সরকার। এ জন্য নকশাকার লুই আই কানের মূল নকশাটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এনেছে সরকার। বৃহস্পতিবার নকশা দেশে আসার পর শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেছেন, নকশা বহির্ভূত স্থাপনা হওয়ায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও অপসারণ হতে পারে। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরা সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেয়ার কথাও বলছেন, তখন থেকেই এর সমালোচনা করে আসছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, হঠাৎ করে লুই আই কানের নকশা আনা এটা একটি নীল নকশা। এর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে জিয়াউর রহমান মুছে ফেলা। কিন্তু তা সফল হবে না। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিচার নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র করছে। দেশের জনগণ তাদের এ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা-সে নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় আছে। তিনি বলেন, আমরা কখনই মনে করি না যে, এই নির্বাচন কমিশন কোনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার উপযুক্ত, সে যোগ্যতাই তাদের নেই।

তাহলে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কেন-জানতে চাইলে বিএনপি নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা, জনগণকে সংগঠিত করা এবং জনগণের কাছে পৌঁছাতে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের অধীনে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না সেটি শেষ বারের মতো আবারো দেশবাসীকে দেখাতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ