ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুবিধার চেয়ে নতুন দায় সৃষ্টির আশঙ্কা

এইচ এম আকতার : গত পাঁচ বছরে দাতা সংস্থার ঋণ এবং অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। এই ঋণের যথাযথ ব্যবহার করতে না পারলে উন্নয়ন নয় শুধুই দায় বাড়বে দেশের। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল এই অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ অদক্ষ। তাই, সুবিধার চেয়ে নতুন দায় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

আগামী পাঁচ বছর বড় দুই সংস্থা এডিবি এবং বিশ্বব্যাংক অন্তত ৬০ শতাংশ ঋণ প্রবাহ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশে। যা ছাড়াতে পারে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে সারা বিশ^ বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। আর দারিদ্র্য উন্নয়নেও এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর এ কারণেই বিশ^ ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে প্রায় ৫০ ভাগ।

এছাড়া, দ্বিপাক্ষিক ঋণ এবং বিনিয়োগ হিসেবে যোগ হচ্ছে বিপুল অর্থ। যার বড় অংশ এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে কাগজ-কলমে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল এই অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ অদক্ষ। তাই, সুবিধার চেয়ে নতুন দায় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

গেলো পাঁচ দশকে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অনেকখানি বদলে দিয়েছে এডিবি। যারা বাংলাদেশেরও অন্যতম বড় ঋণদাতা। ২০১৬ থেকে পরের পাঁচ বছর এদেশে কোন্্ খাতে কি পরিমাণ ঋণ দিতে চায় বহুজাতিক এই সংস্থা তারই কৌশল প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। যেখানে আগের পাঁচ বছরের চেয়ে ৩শ’ কোটি ডলার বা ৬০ শতাংশ বেশি লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আর এই ঋণের বেশিরভাগ খরচ হবে প্রবৃদ্ধি সহায়ক প্রকল্পে।

এডিবির মতো বিশ্বব্যাংকও পরের পাঁচ বছর ঋণ বাড়াবে বাংলাদেশে। কেননা, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক সফরে ঘোষণা এসেছে, আইডা ১৮-এর তহবিল বাড়ানোর। যেখান থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ আসবে এদেশে। একইভাবে ঋণপ্রবাহ বাড়তে জাইকারও। প্রশ্ন হলো, দাতা সংস্থাগুলোর ঋণ বাড়ানোর এই প্রবণতার সাথে কতোখানি এগুতে পারবে সরকার।

পদ্মা সেতু দুর্নীতির কারণে জাইকাসহ বিশে^র প্রায় সব দাতা সংস্থাই তখন বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। গত কয়েক বছরে সে অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আর এ কারণেই বড় অংকের ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক।

সংস্থা ছাড়াও, ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে বড় মাপের অর্থ আসছে বাংলাদেশে। যেমন, সবশেষ অর্থবছরে ভারতের দুইশ কোটি ডলার আর চলতি বছর চীনের আড়াই হাজার কোটি ডলারের চুক্তি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। থেমে নেই রাশিয়াও। এক বিদ্যুৎ প্রকল্পেই বিনিয়োগ আসছে মোটা অঙ্কের। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিনিয়োগ সামলে নেয়াই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ভালো। কিন্তু বড় ঘাটতি রয়েছে অর্থের ব্যবহার এবং সুশাসন নিশ্চিতে।

বিশ^ ব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দাতা সংস্থাগুলোর ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬০ ভাগ। এ সব ঋণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। তাহলেই ঋণ দায় না হয়ে কল্যাণ হবে। এবং এসব ঋণের কারণেই দেশের কর্মসংস্থানের পরিমাণ বাড়বে।

এ ব্যাপারে সিডিপির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,ঋণ বৃদ্ধি ভাল দিক। অবকাঠামো উন্নয়নে তা কাজে লাগাতে পারলে অনেক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু যদি তা যথাযথ খাতে স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় না করা যায় তাহলে দায় বাড়বে। এজন্য সতর্কতার সাথে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড.বিরুপাক্ষ পাল বলেন,ঋণের টাকা ব্যয়ে তদারকি আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে এর কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণ আরও বাড়বে। ্ঋণ যে হারে বাড়ছে সে হারে তত্ত্বাবধায়নও বাড়াতে হবে। তা হলে ঋণে কল্যাণ পাবে দেশের সাধারণ জনগণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ