ঢাকা, শনিবার 03 December 2016 ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে কৃষকের ঘরে নতুন ধান নবান্ন উৎসবের আমেজ 

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : কার্তিক মাসের পরেই তাড়াশের শীতের কুয়াশার আমেজ পরিলক্ষিত হয়েছে।  অগ্রহায়ণ মাস পরার সাথে সাথে কৃষকের ঘরে নবান্ন উৎসবের আমেজ বিরাজ করতে দেখা যাচ্ছে। গ্রাম বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে তাড়াশের কৃষক কৃষাণী। চলনবিলের গ্রামগঞ্জে নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের অঙিনা ভরে উঠেছে। বাংলা পুঞ্জিকা মতে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব শুরু হচ্ছে এই মাসের ১লা অগ্রহায়ণ থেকে । এই উৎসবকে সামনে রেখে চলনবিলের ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে নবান্নের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। গত সপ্তাহ ধরে বোনা আমন ও রোপা আমণ ধান কাটা শুরু হয়েছে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বোনা আমন ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের অঙিনা ভরে উঠেছে। বাড়িতে বাড়িতে নতুন ধানের ভাপাপিঠে, কুসলি পিঠে, পায়েস, মুড়ি, চিড়া আর মিষ্টি খেজুরের গুড় দিযে তৈরি করা হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু খাদ্রসামগ্রী। গৃহিণীরা বাড়ি ঘর লেপন,আলপনা আঁকা ও পরিষ্কার পরিছন্ন করছে। চলনবিলের কৃষকরা ধান কেটে ঘরে তোলা আর কৃষাণীরা ঝি জামাই নিয়ে নবান্ন উৎসব পালন করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। পুরা অগ্রাহায়ণ মাস জুড়ে নবান্ন উৎসব চলবে। গ্রামের মেয়েরা ঢেঁকিতে নতুন ধানের চাল গুঁড়া করতে, মুড়ি, ভাজতে এবং ভোরে উঠে শীতের ভাপাপিঠা তৈরি করার সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পুন্ন করছে।   ভোর রাতে গ্রহিনীরা উঠে শীতের ভাঠাপিঠা তৈরি করে বাড়ির সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ উৎসব করে খাওয়াবে। শীতের ভাপাপিটা খাওয়ার জন্য খেজুরের পাটালি গুড় সংগ্রহ ইতিমধেই করা হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি খেজুরের পাটালি গুড় ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। নবান্নকে সামনে রেখে খেজুরের তৈরি পাটালি গুরের বাজার বেশী বলে নবান্ন উৎসবকারীরা জানিয়েছে। চলনবিলের ঘরবাড়িতে জামাই ঝি নায়ার আনা হয়েছে। পাড়ায় মহল্লায় ছেলে মেয়েরা ভাপাপিঠা খাওয়ার জন্য আনন্দ উৎসব প্রকাশ করছে। নবান্ন উৎসবটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশী প্রচলন থাকলেও  তা বর্তমানে সকল ধর্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা আদিবাসী পল্লিতে ১লা অগ্রাহায়ণের শুরু থেকেই নবান্ন উৎসব শুরু করেছে। দেখাদেখি আশেপাশের এলাকা গুলোতেও শীতের উৎসবে মেতে উঠেছে। তাড়াশের হামকুড়িয়া গ্রামের  আজেদা খাতুন জানান, শীতের সময় ভাপাপিঠা খেতে খুব মজা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই চাল গুঁড়া করে  ছেলে মেয়ে বোন ভাগ্নি সাথে নিয়ে শীতের পিঠা বানাতে বসি। মুরুব্বিরা মসজিদ থেকে জামায়াতে নামায শেষ করে বাড়ি এসে এক সাথে শীতের পিঠা খেতে বসে। শীতের পিঠা খেতেও মিঠা তেমনি চলনবিলের সকাল বেলার এমন দৃশ্য দেখতেও মজা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ