ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুই ঝালেই অশোক বৈরাগীর ভাগ্য পরিবর্তন

খুলনা অফিস ঃ চুইঝালেই ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে ‘অশোক নার্সারী’র মালিক অশোক বৈরাগীর। লেখাপড়া না জানা অশোক বৈরাগী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের ঘোনাবান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত পূর্ণ চন্দ্র বৈরাগী। সেই ১৯৮৮ সালে কিছু পরিত্যক্ত জমিতে আম বাগান দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল তার নার্সারী ব্যবসার। বিভিন্ন জাতের আমের চারা তৈরি ছাড়াও একই গাছে ২১৭ প্রকারের আম তৈরি করে একদিন সাড়া জাগিয়েছিলেন এই নার্সারী ব্যবসায়ী। আমের ভাড়ে গাছটি কিছুদিন আগে কেটে ফেলা হয়েছে ঠিকই তাই বলে তার নার্সারী ব্যবসায় নতুন নুতন সংযোজন থেমে নেই।
কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ বছরের প্রথম দিক থেকে শুরু করেছিলেন চুই ঝালের চারা তৈরির ব্যবসা। বিগত ছয় মাসেই তিনি ৬০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেন। অশোক বৈরাগীর ‘অশোক নার্সারী’ থেকে বর্তমানে বছরে অন্তত  তিন লক্ষাধিক টাকা আয় হয় বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি ওই নার্সারীতে সবচেয়ে বেশি যেটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে সেটি হচ্ছে চুই ঝালের গাছের চারা। অন্য গাছের সাথে লতার মত বেয়ে ওঠা চুই ঝালের চাষে জায়গাও কম লাগে বলে এর কদর অনেক বেশি। তাছাড়া মাটিতেও এ গাছগুলো বেয়ে বেয়ে বড় হতে পারে। তাইতো উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গত মার্চ মাস থেকে চুই ঝালের চারা তৈরির প্রতি ঝুঁকে পড়েন অশোক বৈরাগী। শুরুতেই বেশ সাফল্য পান তিনি। প্রতি পিস চুই ঝালের চারা তিনি পাইকারী ৩০/৪০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এ পর্যন্ত যশোর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার কাছ থেকে চুই ঝালের চারা কিনেছেন সেখানকার কৃষি বিভাগ এবং ব্যবসায়ীরা। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে চই চারা কিনে লাগিয়েছেন তাদের বাড়িতে।
নগরীর দৌলতপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদ বলেন, চুই গাছ দেখতে অনেকটা পান বা গোল মরিচের গাছের মতো। স্বাস্থ্যসম্মত আয়ুর্বেদিক গুণ সম্পন্ন চুই দিয়ে গোশ্ত বা তরকারি রান্না করলে সুঘ্রাণ আসে, ঝাল ও স্বাদ বেড়ে যায়। তাছাড়া বাতজ¦র, রক্ত পরিষ্কার ও হজমে সহায়তা করে চুই ঝাল। আর অল্প জমিতে চুই চাষ করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করাও সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ