ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান কুড়ানোর কাজে ব্যস্ত ওরা

মানিক হোসেন চিরিরবন্দর, (দিনাজপুর): চিরিরবন্দর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ঝড়ে পড়া ধান কুঁড়ানো ও ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান বের করার কাজে ব্যস্ততায় দিন অতিবাহিত করছেন হতদরিদ্র পরিবারের নানা বয়েসী মানুষ।
যাদের নিজস্ব জমি নেই কিংবা কোন জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেননি তারাই এসব ধান কুড়িয়ে তাদের অভাব মিটাচ্ছে।
চলতি আমন মওসুমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হওয়ায় তাদেরও উৎসব শুরু হয়েছে। কোথাও কৃষক তার ধান কেটে নেয়ার পর ফসলের মাঠ জুড়ে পড়ে রয়েছে ধান গাছের গোড়ালী যা স্থানীয় ভাষায় নাড়া বলা হয়। গোড়ালির ফাঁক দিয়ে রয়েছে ঝরে পড়া সোনালী ধান। কীট-পতঙ্গের আক্রমণে অনেক ধানের শীষের শাখা-প্রশাখা ভেঙে মাটিতে পড়েছে। গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝি এবং ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে সেই ধান কুড়িয়ে নিচ্ছেন। কেউ হাতে ডালি, চাইলন/চালুন, কারো হাতে বাশিলা, ঝাঁটা আবার কেউ হাতে ব্যাগ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। অনেকের কাঁধে কোদাল আর কারো হাতে শাবল রয়েছে।
তাদের দৃষ্টি কেবল গর্তে, নাড়ার ফাঁক দিয়ে মাটির দিকে ইঁদুরের কেটে নিয়ে যাওয়া ধান। ইঁদুরের গর্ত কিংবা ঝড়ে পড়া ধান দেখলেই ওদের চোখে-মুখে সোনালী হাসি ফুটে ওঠে। ইঁদুর কৃষকের তে থেকে ধানের শীষ কেটে নিয়ে আপদকালীন খাদ্য হিসেবে মাটির নিচে গর্তে মজুত করে রাখে। ধান কুড়ানিরা সেই গর্ত খুঁড়ে ইঁদুরের খাদ্য বের করে নেয়। এছাড়া মাটি থেকে একটি একটি করে ধান কুঁড়িয়ে মুঠোয় করে ডালায় ভরে। মৌসুমের পুরো সময়টায় তারা এভাবেই ধান কুড়াচ্ছেন। এ কাজের সঙ্গে গ্রামের অভাবী-হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন জড়িয়ে পড়েছেন। তারা  প্রত্যেকে দৈনিক ৪/৫ কেজি করে ধান সংগ্রহ করছেন।
উপজেলার সাতনালা গ্রামের আরিফা (৩৮)ও তার স্বামী আনোয়ার (৪২) জানান, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমাদের পরিবার। পুরো বছরে চাল কিনে ভাত খাই। আমরা গরীব মানুষ। আমরা সরকারী খাস জমিতে বাড়ি করে বসবাস করছি। এ মৌসুমে প্রতিদিন দু’জনে মিলে ১০/১৫ সের ধান পাই। এ দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়। এরপরেও এখন পিঠা খাবার শখ হয়, ধান পামো কোনঠে। তাই এই সময় আসলে ধান খুঁটি। তারাই শুধু ধান খুঁটেন তা নয়, উনার মতো অন্য ধান কুড়ানি ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা একই কথা জানান। আবার অনেক ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করার জন্য ও ধান খুঁটে থাকেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ