ঢাকা, রোববার 4 December 2016 ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৩, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসি গঠনে বিএনপির প্রস্তাব নিয়ে ভাবার কিছু নেই ---- শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এখন আর মধ্য নেই, মধ্য পার হয়ে গেছে। আমরা তিন বছর পার করছি। মধ্যবর্তী যদি বলেও থাকেন, সেটা পরবর্তীর বিষয়ে বলেছেন। ‘স্বপ্ন দেখা ভালো।’ কথাটি যোগ করেন তিনি। গতকাল শনিবার গণভবনে হাঙ্গেরি সফর নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিভিন্ন টক শোতে অনেকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখতে পান। আপনি পান কিনা? এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আর মধ্য নেই, মধ্য পার হয়ে গেছে। আমরা তিন বছর পার করছি।
গণভবনে আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক হাঙ্গেরি সফরের নানা দিক তুলে ধরেন। হাঙ্গেরি সফরের সময় তাঁকে বহনকারী বিমানের যান্ত্রিক গোলযোগের বিষয়টিও উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, বিমানে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কিছু? কবিতায় উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, বুঝেছে দুর্বৃত্ত।
প্রধান মন্ত্রী বলেন, এটা একটা যান্ত্রিক দুর্যোগ ছিল। দুর্ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন বেঁচে আছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘যে দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, সপরিবারে হত্যা করা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয় না, মন্ত্রী করা হয়, সেখানে আর কী বলবো?’
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বিমান কেনার বিষয়টিও নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির জন্য নতুন বিমান কেনার মতো বিলাসিতা করার সময় আসেনি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির প্রস্তাব নিয়ে ভাবার কিছু নেই। ‘উনার (খালেদা জিয়া) প্রস্তাব উনি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিকে বলুক, তিনিই (রাষ্ট্রপতি) ব্যবস্থা নেবেন।’
বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) নির্দেশে দেশব্যাপী মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। এখন তিনি প্রস্তাব দিচ্ছেন। আগে মানুষ হত্যার জবাব দেন, পরে প্রস্তাব নিয়ে কথা হবে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, তারা যখন নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তখন ভালো, আর হারলেই ভালো না। নির্বাচনে অংশ নেবে না, বলবে ভালো না।
 অতীতের কথা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ছেলে মারা গেলো আমি বাড়িতে গেলাম, মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। গাড়ি তো ঢুকতেই দিলো না, গাড়ি থেকে নামলাম ছোট গেট দিয়ে যেতে চাইলাম সেটাও বন্ধ করে দিলো। ভেতরে দেখছি মানুষ চলাচল করছে। দুশমনদের সঙ্গেও তো এমন আচরণ করা হয় না। খুনির সঙ্গে কিসের আলোচনা। নির্বাচন কমিশন আছে নির্বাচন হচ্ছে। তারা একটা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলো, আরেকটাতে করলো না। সিটি কর্পোরেশনে অংশ নিবে, আবার জেলা পরিষদে অংশ নিবে না। যে নির্বাচনে জিতে যাচ্ছে সেটা নিয়ে তো কোনো প্রশ্ন তুলছে না। যার নিজের সিদ্ধান্তে ঠিক নেই, তার কাছে দেশ কি আশা করে। আসন্ন ভারত সফর নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীর পানি বিষয়ে কথা হতে পারে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে একটি দলের নেতাদের বক্তব্যগুলো শুনলে অনেক কিছুই বোঝা যায়। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তদন্ত করা হচ্ছে, দেখা যাবে। সবচেয়ে বড় কথা বেঁচে আছি, আপনাদের সামনে আছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাই হোক, কোনও ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সহি-সালামতে ফিরে এসেছি। সবার দোয়া চাই। যেদেশে বঙ্গবন্ধুসহ আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মন্ত্রী বানানো হয়েছে, সেদেশে তাহলে কার জীবনটা নিরাপদ?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা বিমানের প্রয়োজন নেই, বিলাসিতা করার অবস্থা আমাদের এখনও আসেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই দেশে এসেছি, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। দেশের মানুষ যে বিমানে যাত্রী হয়ে যাচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা না থাকলে আলাদা বিমান করে কী লাভ? আমার কাছে তো দেশের মানুষই তো সব। সেখানে যদি আমার নিরাপত্তা না থাকে তাহলে লাভ কী।
সংসদভবনকে এক ইউনিক স্থাপত্যশিল্প হিসেবেই উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু দেশেই না আন্তর্জাতিকভাবেও এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে, তাই এটাকে রক্ষা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পেনসিলভেনিয়া থেকে সংসদ ভবনের মূল নকশা আনা হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকায় সেক্রেটারিয়েট ভবন হওয়ার কথা, অডিটোরিয়াম করার কথা। মূল নকশা আমাদের কাছে থাকার কথা, ছিলোও। কিন্তু কোনো কারণে সেটা আর রাখা হয়নি।
সংসদ ভবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকেও এসে অনেকে এটা দেখতে চায়। এই ভবনটা একটা মাত্র পিলারের উপর তৈরি করা। একটা ইউনিক স্থাপত্যবিদ্যা এটি। লুই-আই কানের যতগুলো শিল্প আছে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে এই স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে জানতে চায়, শিখতে চায়। সংসদ ভবনের লেকটা অর্ধচন্দ্র। ভবনটা স্টারের মতো করে করা। এই নকশার অনেক তাৎপর্য আছে। মূল নকশাটা আমরা পেয়েছি। ওটা ডিসপ্লে করবো, আর্কাইভে দিবো। এবং স্থাপত্য অধিদফতরেও রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে আয়োজিত পানি সম্মেলনে ৫৪টি আন্ত:সীমান্ত নদীসহ ২৩০টি নদী বিধৌত দেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য ৭ দফা এজেন্ডা উপস্থাপন করেছেন। এ সময় তিনি আরো জানান, হাঙ্গেরিতে হওয়া প্রথম এই দ্বিপাক্ষিক সফরে বাংলাদেশে চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও কৃষি বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বৃত্তি কর্মসূচি প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ড. জানোস আদের।
প্রেসিডেন্ট আদের মৎস্যচাষ (পিসিকালচার) এবং জলজ উদ্ভিদ ও জীব-জন্তুর বংশ বিস্তারের (একুয়াকালচার) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করবেন। এছাড়াও পানি পরিশোধন ও বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায় হাঙ্গেরি।
হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ড. জানোস এডার’র আমন্ত্রণে গত ২৭ থেকে ৩০ নবেম্বর চার দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে হাঙ্গেরি যান। পাশাপাশি বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিট-২০১৬তে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ